জঙ্গি তৎপরতা নেই, উগ্রবাদে অস্বস্তি
জঙ গ তৎপরত ন ই উগ রব – গত কয়েক বছরে দেশে কোনো জঙ্গি হামলা ঘটেনি বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে সংগঠনগুলোর পুনর্গঠন ও সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি আরও দৃঢ় করা হয়েছে। সরকার জানায়, দেশে জঙ্গি তৎপরতা সম্পূর্ণ শেষ হয়নি এবং কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী ক্রিয়াশীল থাকতে পারে।
বিগত দুই মাসে কমপক্ষে পাঁচ জন উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার পরিকল্পনার অভিযোগ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট বলছেন, জঙ্গি সংগঠনগুলোর নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক কাঠামো অনেকটাই ভেঙে দেওয়া সম্ভব হলেও নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বিলীন হয়নি।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার হোলি আর্টিজান বেকারিতে সশস্ত্র হামলা চালায় জঙ্গিরা। দেশি-বিদেশি ২০ জন নারী-পুরুষ মারা যায়, যাঁদের মধ্যে ১৭ জন ছিলেন ইতালি, জাপান, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। হামলার পর সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গি নিহত হন। ঘটনার দশ বছর পূর্ণ হলো আজ।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জঙ্গিবাদ-সংক্রান্ত মামলার তিন শতাধিক আসামি জামিনে মুক্তি পায়। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের কার্যকালে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
জঙ্গি সংগঠনের মুক্তি ও নজরদারি
সরকার বলছেন, ‘জঙ্গি’ শব্দটিকে স্বীকৃতি দেন না। তবে কিছু উগ্রপন্থী গোষ্ঠী রয়েছে, যা প্রায় সব দেশে দেখা যায়। ফ্যাসিবাদী আমলে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য এসব গোষ্ঠীকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে বাংলাদেশে তাদের কোনো অস্তিত্ব নেই বলে মনে করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
“গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আমরা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে থাকি। এ মামলার ক্ষেত্রেও আমাদের পক্ষ থেকে কোনো ঘাটতি থাকবে না,” অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান।
গত সপ্তাহে পুলিশ সদর দপ্তরে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে ক্রাইম কনফারেন্সে আলোচনা হয়। সেখানে সাদা পতাকা মিছিল সহ্য না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ও জঙ্গি সংগঠনগুলোর ওপর নজরদারি আরও দৃঢ় করা হয়।
