শিক্ষক নেই, তালাবদ্ধ স্কুল—শিশু শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
Table of Contents
তালাবদ্ধ ক্লাসরুম, শূন্য শিক্ষক—দ্বীপের শিশুরা চিৎকারে প্রতিবাদ
Banglajibon.com – শ ক ষক ন ই ত ল – ব্রহ্মপুত্রের চরে অবস্থিত কুড়িগ্রাম সদরের যাত্রাপুর ইউনিয়নের খেওঁর আলগারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোমবার সকাল থেকেই অস্বাভাবিক নীরবতা। আটশতাধিক নয়—সঠিক সংখ্যা আশি জন শিক্ষার্থীর জন্য নিয়মিত পাঁচজন শিক্ষক নিযুক্ত থাকার কথা এই বিদ্যালয়ে। কিন্তু সেদিন সকালে একের পর এক ছাত্রছাত্রী যখন বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পৌঁছাল, তখন দেখতে পেল সব শ্রেণিকক্ষে তালা। জাতীয় পতাকাও উত্তোলন হয়নি। বেলা দুপুরে পৌঁছালে শিশুরা আর সহ্য করতে পারল না—চিৎকারে প্রতিবাদ জানাতে লাগল, তালা ভাঙার চেষ্টাও করল। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরনায়, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বিদ্যালয় তালাবদ্ধই ছিল; কোনো শিক্ষক উপস্থিত হননি। সরকারি মিড-ডে মিলের খাদ্যসামগ্রীও বিতরণ করা হয়নি শিশুদের।
মাসের পর মাস ধরে চলমান উপস্থিতির অভাব
এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, এই বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা নিয়মিত উপস্থিত হন না। দিন ভাগ করে একেকদিন একেকজন হাজিরা দেন। সহকারী শিক্ষক আরিফা সুলতানা নামে একজন কখনোই বিদ্যালয়ে আসেন না। কোনো হাজিরা খাতাও রাখা হয় না। মাসের পর মাস এই প্যাটার্নই চলছে। আরিফা সুলতানা এলাকার বাইরে থাকায় তাঁর বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষার্থীদের মুখে
মঙ্গলবার থেকে আমাদের দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন (দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা) শুরু হবে, কিন্তু আজ কোনো শিক্ষক আসেন নাই। এমন করে অবহেলায় আমাদের স্কুলজীবন চলছে।
চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এই কথাগুলো বলে।
সাবেক ছাত্রের সাক্ষ্য
আমি নিজেও এই বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলাম। এখন অনার্সে পড়ছি। ২০১৬ সালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর থেকে আর পাঠাশোনা হয় না। কোনো শিক্ষক নিয়মিত আসেন না। এমনিতে চরের যে অবস্থা, তার ওপর বাচ্চাদের এভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের পাশের বাইরের বাসিন্দা ও সাবেক শিক্ষার্থী আল-আমিন এই কথাগুলো বলেন। তিনি জানান, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে ইউএনও-কে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কোনো উন্নতি হয়নি। দুই সপ্তাহ আগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে।
কর্তাদের প্রতিক্রিয়া
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইশরাত জাহানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোবাশ্বের আলী জানান, সোমবার কোনো শিক্ষক বিদ্যালয়ে যাননি। অনুপস্থিত থাকা প্রত্যেক শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হচ্ছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা অফিসারদের ডেকে অভিযুক্ত সকল শিক্ষককে শোকজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক মন্তব্য
বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। শিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি এমন অবহেলা খুবই দুঃখজনক। কিছু শিক্ষকের কর্মকাণ্ডে সরকার ও দল চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চরের শিশুদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করতে হবে। জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।
কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক কলেজশিক্ষক শফিকুল ইসলাম বেবু এই বক্তব্য দেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is শ ক ষক ন ই ত ল?
শ ক ষক ন ই ত ল is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does শ ক ষক ন ই ত ল matter?
শ ক ষক ন ই ত ল matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
