বদলির আদেশের পর গভীর রাতে সরকারি পুকুরে মাছ ধরে নিলেন তহশিলদার
Table of Contents
বদলির খবর পেয়েই রাত তিনটায় সরকারি পুকুরের মাছ উঠিয়ে নিলেন তহশিলদার: পিরোজপুরে জমিদারি-সম্পত্তির অপব্যবহার নিয়ে তোলপাড়
Banglajibon.com – বদল র আদ শ র পর গভ – সরকারি ভূমি অফিসের সংলগ্ন পুকুর থেকে রাতের অন্ধকারে মাছ ধরে নিয়ে যাওয়া — এমন অভিযোগে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহে একই উপজেলার গুলখেরা ইউনিয়নে বদলির আদেশ পান জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. আল আমিন। বদলির খবর পাওয়ার পরপরই সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে স্থানীয় কয়েকজন জেলে ও বাসিন্দাকে দিয়ে ওই সরকারি পুকুর থেকে মাছ ধরান তিনি। পরে ধরা মাছগুলো ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি সম্পত্তির এমন অপব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি মূলত চুরিরই বদলি।
স্থানীয়দের অভিযোগ: প্রক্রিয়া বাইরে, রাতের অন্ধকারে
জলাবাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা শামসুল ইসলাম খান জানান, সরকারি মালিকানাধীন পুকুর থেকে মাছ সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু আল আমিন সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে রাতের অন্ধকারে মাছ ধরে নিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তহশিলদার জেলেদের সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকার চুক্তি করেছিলেন মাছ ধরার জন্য।
সরকারি পুকুরের মাছ ধরতে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে মাছ ধরে নেওয়া সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জেলে খোকন দাসের দাবি, আল আমিন সরাসরি তাঁকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
স্যার আমাকে বলেছেন, ‘পাঁচ হাজার টাকা দেব, রাত তিনটার দিকে পুকুরের সব মাছ ধরে দিতে।’ তাঁর কথামতো সাতজন লোক ঠিক করে প্রায় রাত তিনটার দিকে বিশাল জাল টেনে আই বস্তা মাছ ধরে দিয়েছি। কিন্তু মাছ ধরার পর আমাকে দুটি ছোট মাছ দিয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন। মজুরির টাকা এখনো পাইনি।
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া: ফোন ধরেননি, বিধান নেই
জলাবাড়ি ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম চৌকিদার বিধান কুমার জানান, রাতের মাছ ধরার খবর পেয়ে তিনি ভূমি অফিসে গিয়ে দেখেন মাছ ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে গেছে। সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। এরপর সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে বিষয়টি জানালে তিনি জানান, রাতে মাছ ধরার কোনো বিধান নেই।
জলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেহেদী সরোয়ার মন্তব্য করেন, একজন সরকারি কর্মচারীর রাতের অন্ধকারে সরকারি পুকুরের মাছ নিয়ে যাওয়া চুরির শামিল। তিনি জানান, শুনেছেন বদলির কারণেই আল আমিন এই কাজ করেছেন। পূর্বেও তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ রয়েছে — সরকারি জমিতে কচু চাষ করে বিক্রি করার অভিযোগও উঠেছে।
একজন সরকারি কর্মচারী রাতের অন্ধকারে সরকারি পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে যাওয়া চুরির শামিল। শুনেছি, বদলি হওয়ার কারণেই তিনি মাছ ধরে নিয়ে গেছেন। পূর্বেও তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের কাজের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি জমিতে কচু চাষ করে বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে। বিষয়টির জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তহশিলদারের জবাব: দিনে কাজ, লেবার পাওয়া যায়নি
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তহশিলদার মো. আল আমিন বলেন, দিনে অফিসের কাজ থাকে এবং লেবার পাওয়া যায় না, তাই ভোররাতে মাছ ধরেছেন। তিনি দাবি করেন বিশ থেকে পঁচিশ কেজি মাছ পেয়েছেন।
দিনে আমার অফিসের কাজ থাকে। তা ছাড়া লেবার পাওয়া যায় না। তাই ভোররাতে মাছ ধরেছি। বিশ থেকে পঁচিশ কেজি মাছ পেয়েছি।
উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান: খোঁজ নেওয়া হবে
নেছারাবাদ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রহমান মাহমুদ জানান, জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নিজস্ব পুকুরে মাছ ধরার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে রাতের অন্ধকারে মাছ ধরা ঠিক হয়নি। তিনি বলেন, কোনো অসঙ্গতি থাকলে অবশ্যই খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
জলাবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নিজস্ব পুকুরে মাছ ধরার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে রাতের অন্ধকারে মাছ ধরাটা ঠিক হয়নি। এখানে কোনো অসঙ্গতি হয়ে থাকলে অবশ্যই বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।
সরকারি সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় প্রশ্নচিহ্ন
ভূমি অফিসের সংলগ্ন পুকুরগুলো সাধারণত সরকারি সম্পত্তির অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়। এসব পুকুর থেকে মাছ সংগ্রহ বা বিক্রির জন্য সাধারণত নিলাম, চুক্তি বা নির্দিষ্ট প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। রাতের অন্ধকারে, কোনো নথিভুক্ত অনুমোদন ছাড়া, বদলির আদেশের পরপরই মাছ ধরে নেওয়া — এই ঘটনা স্থানীয় জনগণের মধ্যে সরকারি সম্পত্তির অপব্যবহার ও প্রশাসনিক দুর্নীতির প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে যখন একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পূর্বেও সরকারি জমির অপব্যবহারের অভিযোগ ছিল, তখন এই ঘটনা কেবল একক ভুলের বদলে ধারাবাহিক প্যাটার্নের ইঙ্গিত দেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিষয়টির স্বাধীন তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা আবশ্যক, নইলে সরকারি সম্পত্তির ওপর জনগণের আস্থা আরও ক্ষুণ্ন হবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is বদল র আদ শ র পর গভ?
বদল র আদ শ র পর গভ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does বদল র আদ শ র পর গভ matter?
বদল র আদ শ র পর গভ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
