Op Ed

দেশের উদ্ভিদ সম্পদ সুরক্ষায় সাত সুপারিশ

6-hjr-prjtr-udbhd
Foto : Michael Williams - banglajibon.com
Table of Contents
  1. বাংলাদেশের উদ্ভিদ সম্পদ রক্ষায় সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

বাংলাদেশের উদ্ভিদ সম্পদ রক্ষায় সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ

Banglajibon.com – দ শ র উদ ভ দ সম – পৃথিবীর ঘূর্ণন চক্রের সাথে সাথে কালের চক্রও চলতে থাকে। এই চক্রের মধ্যেই নতুন নতুন প্রজাতির জীব আবির্ভূত হচ্ছে বা আবিষ্কৃত হচ্ছে, আবার কেউ কেউ চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এই ঘটনাকে বিলুপ্তি বলে অভিহিত করেন। ডাইনোসরদের উদাহরণ দেওয়া যায়, যারা একসময় পৃথিবীতে দাপিয়ে বেড়াত কিন্তু এখন বিলুপ্ত। কোনো জীব প্রজাতির সর্বশেষ সদস্যের মৃত্যু বা অবলোপ ঘটলে তাকে বিলুপ্ত বলে ধরে নেওয়া হয়। অর্থাৎ, যখন সেই প্রজাতির আর কোনো জীব পৃথিবীর কোথাও থাকে না বা পাওয়া যায় না, তখন তাকে বিলুপ্ত হিসেবে গণ্য করা হয়।

আমাদের দেশেও এমন একটি উদ্ভিদ প্রজাতি ছিল, যার সর্বশেষ গাছটি বেঁচে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওই গাছটি প্রায় শত বছর পর জীবনে একবারই ফুল ফোটে। ফুল ফোটার পর ফল ধরে, এরপর গাছটি মারা যায়। তালিপাম নামের ওই গাছটিতে যখন ফল ধরল, তখন পরিবেশবাদীদের কণ্ঠে উঠল হা রে হা রে রব—পৃথিবী থেকে কি তালিপাম চিরতরে হারিয়ে যাবে? বংশরক্ষার জন্য এগিয়ে এলেন পরিবেশবাদীরা। অবশেষে তাঁদের প্রচেষ্টায় ওই প্রজাতির গাছটি রক্ষা পেল। এখন সারা দেশে প্রায় ২০০টি তালিপাম গাছ বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে। কিন্তু একটি শঙ্কা রয়ে গেছে—যদি সব গাছ একই বছরে ফুল ফোটে, তবে সবগুলো কি একই বছরে মারা যাবে? ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যদি পরিবেশবাদী না হয় বা রক্ষা সচেষ্ট না হয়, তবে ওই গাছগুলোও বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

উদ্ভিদ প্রজাতির পরিসংখ্যান ও অবস্থা

বিশ্বে বর্তমানে প্রায় ৫ লাখ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশে আছে প্রায় ৬ হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ। বাংলাদেশ উদ্ভিদ ও প্রাণী জ্ঞানকোষ গ্রন্থে বাংলাদেশের ৩ হাজার ৮১৩টি উদ্ভিদ প্রজাতির বর্ণনা রয়েছে। ধারণা করা হয়, আবাসস্থল ধ্বংস ও মনুষ্যসৃষ্ট কারণে বাংলাদেশে ৮ থেকে ১০ শতাংশ উদ্ভিদ প্রজাতি বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ইউনিয়ন (আইইউসিএন) ১ হাজার উদ্ভিদ প্রজাতির বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করে সেগুলোর স্ট্যাটাস প্রদান করেছে। সেই তথ্য বৃহৎ দুটি খণ্ডে বাংলাদেশের উদ্ভিদ লাল তালিকা হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। সেই মূল্যায়নে ২৭১ প্রজাতির উদ্ভিদকে ন্যূনতম উদ্বেগজনক প্রজাতি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এসব প্রজাতির উদ্ভিদ নিয়ে আপাতত আশঙ্কার কোনো কারণ নেই, ওগুলো এ দেশ থেকে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে নেই। কিন্তু ৩৯৫ প্রজাতির উদ্ভিদকে চিহ্নিত করা হয়েছে সম্মিলিতভাবে বিলুপ্তির হুমকিগ্রস্ত হিসেবে। এর মধ্যে ৫টি প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে মহাবিপন্ন অবস্থায়। এরই মধ্যে ৭টি প্রজাতির উদ্ভিদ এ দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এ ছাড়া ১২৭টি প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে বিপন্নের তালিকায়।

রক্ষামূলক পদক্ষেপসমূহ

দেশের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের স্বার্থে বিলুপ্ত ও বিপন্ন উদ্ভিদসহ সব উদ্ভিদ প্রজাতিকে রক্ষা করা দরকার। দেশের সব উদ্ভিদ সম্পদ তথা প্রজাতি রক্ষার কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার বলে মনে করি, এগুলো হতে পারে:

১. প্রজাতির বর্তমান অবস্থা মূল্যায়নের উদ্যোগ: দেশের সব প্রজাতির গাছের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়নের উদ্যোগ বা প্রকল্প গ্রহণ করা। আইইউসিএন এবং বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ১০০০ প্রজাতির উদ্ভিদের বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করেছে। বাকি প্রজাতিগুলোর অবস্থাও জানা দরকার। দ্রুততম সময়ে বিস্তৃতভাবে কাজটি করার জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে উদ্ভিদ গবেষক দলকে সরকার নেতৃত্ব দিয়ে কাজটি করার পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের উদ্ভিদ গবেষক এমনকি আগ্রহী, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ উদ্ভিদবিজ্ঞানের ছাত্রছাত্রীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা যায়। এমন না যে কাজটি এক বছর বা স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে কাজটির ফ্রেমওয়ার্কে থাকতে হবে। প্রাথমিকভাবে এ কাজটি সম্পন্ন করা না গেলে, অনেক উদ্ভিদ প্রজাতি যেগুলো চরম বিপন্নতার ঝুঁকিতে রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করা যাবে না। ফলে সেগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ারও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এরূপ ক্ষেত্রে প্রয়োজনে আমরা উন্নত দেশগুলোতে উদ্ভিদ প্রজাতির অবস্থা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যেরূপ প্রমিত বা স্ট্যান্ডার্ড বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ, ঝুঁকি নিরূপণ ও ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস প্রদান করা হয়, আমরা সেসব অভিজ্ঞতা ও পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারি।

২. ভূ-স্থানিক মানচিত্রায়ন: মূল্যায়নের পর সেসব উদ্ভিদ প্রজাতির একটি ভূ-স্থানিক মানচিত্রায়ন দরকার। ভৌগোলিক তথ্যব্যবস্থা (জিআইএস) ব্যবহার করে কোনো উদ্ভিদ প্রজাতির সুনির্দিষ্ট অবস্থান, বিস্তৃতি ও দখলকৃত এলাকার গতিপথ নির্ণয় করা যায়। এটি বর্তমানে একটি আধুনিক ব্যবস্থা। দেশের কোন অঞ্চলের কোথায় কী ধরনের উদ্ভিদ প্রজাতি ঝুঁকির মুখে রয়েছে, তা জানা গেলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে সেগুলো রক্ষা করা তুলনামূলকভাবে সহজ ও সুবিধাজনক হবে।

৩. রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ: এ দেশের সব উদ্ভিদ প্রজাতির বর্তমান অবস্থা জানা বা মূল্যায়ন করা গেলে তার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র সেগুলো রক্ষার ব্যাপারে যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবে। প্রথম গুরুত্ব দিতে হবে বিপন্ন উদ্ভিদ প্রজাতিগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে। এরূপ উদ্ভিদ প্রজাতিগোষ্ঠীর মধ্যেও রয়েছে বিপন্ন, বন্য পরিবেশে বিলুপ্ত, আঞ্চলিকভাবে বিলুপ্ত, মহাবিপন্ন, বিপন্ন ও সংকটাপন্ন ইত্যাদি ক্যাটাগরির উদ্ভিদ প্রজাতি। এসব ক্যাটাগরির মধ্যে প্রথমত ভাবতে হবে সংকটাপন্ন প্রজাতিগুলোকে নিয়ে। সংকটাপন্ন হলো সেসব প্রজাতি, যেগুলো বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে।

দেশের সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্যের স্বার্থে বিলুপ্ত ও বিপন্ন উদ্ভিদসহ সব উদ্ভিদ প্রজাতিকে রক্ষা করা দরকার।

এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করলে বাংলাদেশের উদ্ভিদ সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই সম্পদ সংরক্ষিত থাকবে।

Frequently Asked Questions

What is দ শ র উদ ভ দ সম?

দ শ র উদ ভ দ সম is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does দ শ র উদ ভ দ সম matter?

দ শ র উদ ভ দ সম matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment