Op Ed

নিরাপদ তন্দ্রার অধিকার চাই

ai-pic_geKsCpI
Foto : Richard Smith - banglajibon.com
Table of Contents
  1. নিরাপদ তন্দ্রার অধিকার চাই: বাংলাদেশে জনগণের সংগ্রাম ও অধিকারের কথা
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

নিরাপদ তন্দ্রার অধিকার চাই: বাংলাদেশে জনগণের সংগ্রাম ও অধিকারের কথা

Banglajibon.com – ন র পদ তন দ র র – বাংলাদেশের ইতিহাসে নরপদতন্দর বা জনপ্রতিনিধিদের চলাচলের ধরন অনেক বদলে গেছে। একসময় সংসদ সদস্যরা সাইকেল চালাতেন, বাজারে যেতেন, দোকানদারদের সঙ্গে দাম নিয়ে আলোচনা করতেন। কিন্তু এখন আর সেসব দিন নেই। আজ সংসদ সদস্যরা নিজেই ব্যবসায়ী, তাঁদের বাসে ওঠার প্রশ্নই আসে না। এমনকি তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও সাইকেল চালায় না। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা বড় বড় পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মালিক। এই নরপদতন্দরদের মধ্যে জনগণের প্রতিনিধিত্ব কতটা আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

পরিবহন খাতে জনগণের দুর্দশা

বাসমালিকদের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। কোনো জনপ্রতিনিধিই ভাড়া বাসে চড়ে না। তাঁরা নিজেদের বড় বড় বাসের মালিক। মোদ্দা কথা, ভাড়াটে ও যাত্রীদের পক্ষে কোনো শাসকগোষ্ঠীর প্রতিনিধি নেই। বর্তমান সরকার আগের সংসদে সিএনজিতে ভাড়ার মিটার বসিয়েছিল, যা নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছিল। এখন আর তা নেই। বাসভাড়ার ক্ষেত্রে কিলোমিটারভিত্তিক চুক্তিও হয়েছিল। তেলের জায়গায় গ্যাস চলে আসার পরেও বাসভাড়া কমেনি। বড় বড় ধর্মঘট করে ভাড়া বাসই চালিয়ে গেছে।

ট্যাক্সির মিটার অতীতে কখনোই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। উবার, পাঠাও-এর মতো অ্যাপগুলোতে ভাড়া নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলেও তা সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। শহরের কিছু কিছু জায়গায় ট্রাফিক সিগন্যাল বসানো হয়েছে। ক্যামেরা ও এআই-এর ভিডিও দেখে ড্রাইভারদের কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছিল। কিন্তু দিন দিন তা শিথিল হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা ৬০ লাখ অতিক্রম করেছে। লাইসেন্সবিহীন এই যানবাহনের চালকদেরও লাইসেন্স নেই। তাঁরা যথেষ্ট সংঘবদ্ধ হয়ে উঠেছেন। ট্রাফিক পুলিশরা রীতিমতো এদের কাছে ভীতসন্ত্রস্ত। সারা দেশের শহরগুলোকে তাঁরা শাসন করছেন। বাহিমালিকেরা তাঁদের ইচ্ছেমতো বছর শেষে ভাড়া বাড়িয়ে দেন। দ্রুত উচ্ছেদ করার কাণ্ড-কানুনও তাঁদের জানা আছে। কোনো আইনকানুন এ ক্ষেত্রে প্রায় অকার্যকর।

শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা

দেশের নাগরিকদের দুর্দশা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি। বাংলাদেশের মানুষ সহনশীলতার জন্য পৃথিবীতে প্রথম পুরস্কারটি পেতে পারে। কত কষ্ট করে যে তাদের জীবনযাপন করতে হয়, তার তুলনা নেই। গত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিপুল কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার এসব বিষয়ে বিন্দুমাত্র নজর দেয়নি। তারা দেশকে নানাবিধ চুক্তির বন্ধনে আবদ্ধ করার ব্যস্ত ছিল। সবচেয়ে গুরুতর সংকট সৃষ্টি করে গেছে শিক্ষাব্যবস্থা। ছাত্রদের একবারও বলেনি তোমরা ক্লাসরুমে ফিরে যাও। বরং উল্টো তাদেরকে অটোপাস দিয়ে শিক্ষকদেরকে অবমাননার কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।

অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতে এসব সমস্যার সমাধানের কোনো ব্যবস্থাও দৃশ্যমান হচ্ছে না। বরং রাজনৈতিক অস্থিরতা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। বহুবার বলা হয়েছে মানুষকে অস্থিরতা থেকে মুক্ত করার একমাত্র উপায় হচ্ছে সংস্কৃতিচর্চা। সেখানেও মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার স্কুল-কলেজে সংস্কৃতিচর্চাকে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। যদিও বর্তমান সরকার শিক্ষার সংগীত, নাটক, নৃত্যকলা, চারুকলা—এসব পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছে।

পাকিস্তান আমলের ২৩ বছরে সংস্কৃতি সংকোচনের রীতিনীতি আমরা দেখেছি। তার বিরুদ্ধে উত্তাল আন্দোলন গড়ে তোলার বিষয়ও আমরা দেখেছি। যেখান থেকে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, সেই পাকিস্তানের ভূতকে আবার স্থান করে দিয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর সামনে ছিল কতিপয় ছাত্র, যারা মৌলবাদী এবং ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহারকে স্থায়ী করার সংকল্পে মাঠে নেমেছিল।

আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সহনশীলতার বিষয়টি আর থাকছে না। পরমতসহিষ্ণুতা অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে। জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা এবং জীবনযাপনের নিরাপত্তার বিষয়টিও গৌণ হয়ে উঠছে। অর্থনীতিতে একটা বড় ধরনের ধাক্কা এসেছিল করোনা মহামারিকে কেন্দ্র করে। তারপর অন্তর্বর্তী সরকারের রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থতা দেশকে এক প্রবল অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে গেছে।

রাজনৈতিক নেতৃত্ব এখন স্বাভাবিকভাবেই ক্ষমতাকে সংহত করা এবং গণবিরোধী চুক্তির বিরুদ্ধে দেশকে সামাল দেওয়ার কাজেই সব ব্যয় করছে। এখন জনগণ কী করবে? এসএসসি পরীক্ষার বিপুল শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। কলেজগুলোতে অর্ধেকের বেশি সিট খালি থাকবে। সেখানেও একধরনের অস্থিরতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা আছে।

শিক্ষাব্যবস্থা আমূল পরিবর্তন ছাড়া এবং একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালু না করলে জাতীয় ঐক্যের কোনো সম্ভাবনা দেখা দেবে না। দেশে অনেকগুলো শিল্পকলা একাডেমি ভবন চালু আছে। কিন্তু সেই দালান-কোঠাগুলোতে সংস্কৃতির সঠিক চর্চা কখনো হয়নি। এখনো হচ্ছে না। ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে নিয়মিত নাট্যচর্চা এবং দর্শকের উপস্থিতি আগের মতো সরব নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এসবকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছিল।

এসব তো গেল বাস্তব অবস্থা। কিন্তু সমাজের অভ্যন্তরে কী ঘটেছে? যে মূল্যবোধ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ একটা সামাজিক জীবনযাপন করত, সেখানেও আঘাত এসেছে। সমাজের যে গতিময়তা মানুষকে স্বপ্ন দেখাত, সেই গতিময়তার পথ রুদ্ধ করে কিছু ব্যক্তি মহান হওয়ার আশায় নতুন ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের অকস্মাৎ বিদায়ে কাজগুলো অসমাপ্ত রেখে গেছে এবং ন্যারেটিভের স্রষ্টা উল্টো কথা বলতে শুরু করেছে।

পুরো অন্তর্বর্তী সরকারের সময়টা ছিল সাধারণ মানুষের কাছে বিভ্রান্তির কাল। এই বিভ্রান্তি থেকে ফিরে আসাও সহজ কাজ নয়। বাংলাদেশ শত দারিদ্র্য ও নানা সংকটে নিমজ্জিত হওয়া সত্ত্বেও মানুষ এখনো আশা ছাড়েনি। কিন্তু সেই আশা কতদিন টিকে থাকবে, তা সময়ই বলবে।

বাংলাদেশের নরপদতন্দরদের মধ্যে জনগণের প্রতিনিধিত্ব কতটা আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

বাংলাদেশে জনপ্রতিনিধিদের চলাচলের ধরন কীভাবে বদলেছে? একসময় সংসদ সদস্যরা সাইকেল চালাতেন, কিন্তু এখন তাঁরা নিজেই ব্যবসায়ী এবং পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মালিক।

বর্তমানে সারা দেশে কতগুলো ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে? বর্তমানে সারা দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা ৬০ লাখ অতিক্রম করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে শিক্ষাব্যবস্থায় কী পরিবর্তন হয়েছে? অন্তর্বর্তী সরকার স্কুল-কলেজে সংস্কৃতিচর্চাকে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল এবং ছাত্রদের ক্লাসরুমে ফিরে যাওয়ার কথা বলেনি।

বাংলাদেশের মানুষ সহনশীলতার জন্য কী সম্মাননা পেয়েছে? বাংলাদেশের মানুষ সহনশীলতার জন্য পৃথিবীতে প্রথম পুরস্কারটি পেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

Frequently Asked Questions

What is ন র পদ তন দ র র?

ন র পদ তন দ র র is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ন র পদ তন দ র র matter?

ন র পদ তন দ র র matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment