Bangladesh

নারী চিকিৎসককে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরখাস্ত

Foto : Michael Davis - banglajibon.com

নারী চিকিৎসকের অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগে তত্ত্বাবধায়ক বরখাস্ত ও বিভাগীয় মামলা

Banglajibon.com – ন র চ ক ৎসকক অন ত – স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে। একই সাথে তদন্তের স্বার্থে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনের তারিখ ২২ জুলাই।

অভিযোগের বিস্তারিত

ভুক্তভোগী নারী চিকিৎসক বরগুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে আবাসিক সার্জন হিসেবে যোগদানের পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক তাঁকে বিভিন্ন সময়ে নিজের দপ্তরে ডাকতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তিনি অনৈতিক প্রস্তাব দিতেন এবং অশালীন ইঙ্গিত করতেন। এসব ঘটনা সরকারি চাকরি (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৩(খ) অনুযায়ী অসদাচরণের মধ্যে পড়ে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ডা. রেজওয়ানুর আলমকে নোটিশ পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে হবে। কেন তাঁর বিরুদ্ধে চাকরিচ্যুতিসহ উপযুক্ত বিভাগীয় শাস্তি দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া তিনি ব্যক্তিগত শুনানি চান কি না, তাও নির্ধারিত সময়ে জানাতে বলা হয়েছে।

সাময়িক বরখাস্তের কারণ

পৃথক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যধারা শুরু হলে অভিযোগের গুরুত্ব ও তদন্তে প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁকে দায়িত্ব থেকে বিরত রাখতে পারে। সেই বিধান অনুযায়ী ডা. রেজওয়ানুর আলমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীর বিবরণ

এর আগে, ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী আবাসিক সার্জন উল্লেখ করেন, গত ৬ জুন হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক তাঁকে বিভিন্ন সময়ে নিজের অফিস কক্ষে ডেকে কুরুচিপূর্ণ আচরণ করতেন এবং মানসিকভাবে হৃরানি করতেন।

অভিযোগে ভুক্তভোগী আরও বলেন, ১৩ জুলাই সকালে তত্ত্বাবধায়ক হোয়াটসঅ্যাপ কলে যোগাযোগ করে নিজের ডরমিটরি কক্ষে একসাথে সময় কাটানোর অনৈতিক প্রস্তাব দেন। এতে রাজি না হওয়ার পরদিন হাসপাতালের স্টাফ ও নার্সদের সামনে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।

অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদনটি আমার কাছ থেকে চাপ সৃষ্টি করে নেওয়া হয়েছিল। আমি সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।

ঘটনার একপর্যায়ে ২১ জুলাই হাসপাতালের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত আলোচনার পর ভুক্তভোগী চিকিৎসক অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। সেখানে পারস্পরিক ভুল বোঝাবুঝির অবসানের কথা উল্লেখ করা হয়। তবে পরদিনই নতুন আবেদন দিয়ে তিনি অভিযোগ প্রত্যাহারের নেপথ্যের ঘটনা তুলে ধরেন।

আবেদনে ভুক্তভোগী দাবি করেন, চাকরিজীবনে ক্ষতির আশঙ্কা দেখিয়ে কয়েকজন চিকিৎসক তাঁকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট ও সংবাদ দেখিয়ে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এমনকি তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাঁকে বক্তব্য দিতেও বাধ্য করা হয়েছিল।

ডা. রেজওয়ানুর আলমের উত্তর

অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. রেজওয়ানুর আলম বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তিনি নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করে বাইরে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখতেন। এ কারণে আমি তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলাম। শোকজ দেওয়ার পরদিনই তিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। হাসপাতালের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে গিয়ে আমি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছি।’

ভুক্তভোগী আরও উল্লেখ করেন, জেলার স্বাস্থ্যসেবার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে এমন বিবেচনায় সে সময় প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করেননি। তবে ১৪ জুলাই দেওয়া তাঁর মূল অভিযোগের প্রতিটি বিষয়ে তিনি এখনো অনড় রয়েছেন এবং অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেন। তাই দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

আমার অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। এটি সমাজের জন্যও একটি বার্তা। স্বাস্থ্যসেবার কর্মরত সবারই দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত।

Leave a Comment