Technology

মোবাইল সেবা: বিটিআরসির গণশুনানিতে ২৯ হাজার অভিযোগ

Foto : Mary Taylor - banglajibon.com

মোবাইল সেবা: বিটিআরসির গণশুনানিতে ২৯ হাজার অভিযোগ

সামগ্রিক পর্যালোচনা

Banglajibon.com – ম ব ইল স ব – বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ছয়টি গণশুনানির মাধ্যমে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে ২৯ হাজারের অধিক অভিযোগ গ্রহণ করেছে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযোগের মধ্যে কল ড্রপ, ইন্টারনেটের ধীরগতি, নেটওয়ার্ক কভারেজ, মোবাইল ডেটা ও কলরেট, ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস (ভাস) এবং সিমের মালিকানা সংক্রান্ত জটিলতাগুলোই বেশির ভাগ।

গ্রাহকদের অভিযোগ সরাসরি শোনার পাশাপাশি টেলিযোগাযোগ সেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে গত দশকজুড়ে বিটিআরসি ছয়টি গণশুনানির আয়োজন করেছে। তবে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন এই গণশুনানিগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, যে অভিযোগগুলো আসে, সেগুলোও ঠিকভাবে নিষ্পত্তি করা হয় না।

গণশুনানির বিস্তারিত বিবরণ

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর বিটিআরসি অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম গণশুনানি। সেখানে ১ হাজার ৫০টি অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিল কল ড্রপ, ইন্টারনেটের ধীরগতি এবং বায়োমেট্রিক সিম নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয়।

২০১৯ সালের ১২ জুন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে দ্বিতীয় গণশুনানিতে শতাধিক অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর ২০২১ সালের ২২ আগস্ট কোভিড-১৯ মহামারির সময় অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় গণশুনানি। সেখানে ২৩ হাজার ১৬টি অভিযোগ জমা পড়ে। এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে এই গণশুনানিতে। ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে শতাধিক নাগরিক শুনানিতে অংশ নেন।

২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের র‍্যাডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে অনুষ্ঠিত চতুর্থ গণশুনানিতে ৮৪৮টি অভিযোগ পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ৮ মে ঢাকার বিটিআরসি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পঞ্চম গণশুনানিতে ৩ হাজার ২৫টি অভিযোগ পাওয়া যায়। এরপর ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর দেশীয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘কনভে’-তে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ গণশুনানিতে এই খাত সংশ্লিষ্ট প্রায় দেড় হাজার অভিযোগ জমা পড়ে। এই গণশুনানি চলে প্রায় দুই ঘণ্টা।

ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও অভিযোগ নিষ্পত্তি

টেলিযোগাযোগ সেবা সংক্রান্ত গ্রাহকদের অভিযোগ, মতামত ও পরামর্শ গ্রহণের লক্ষ্যে আগামী ১৯ আগস্ট সপ্তম গণশুনানির আয়োজন করেছে বিটিআরসি। কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কনভে ও অফলাইনে এই শুনানি হবে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ধারণক্ষমতা সীমিত হওয়ার আগ্রহীদের নির্ধারিত নিবন্ধন ফরমে অভিযোগ, প্রশ্ন ও মতামত জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়েছে ২৬ জুলাই।

বিটিআরসি ‘নামমাত্র লোক দেখানো’ গণশুনানি করে। গণশুনানিতে সবাইকে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয় না। যে অভিযোগগুলো আসে, সেগুলোও ঠিকভাবে নিষ্পত্তি করা হয় না।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এই মন্তব্য করেছেন। তবে বিটিআরসির দাবি, গণশুনানির পর মোবাইল অপারেটরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা হয়। জনস্বার্থে টেলিযোগাযোগ সেবার মানোন্নয়ন, গ্রাহকস্বার্থ সংরক্ষণ এবং সেবা সংক্রান্ত সমস্যার কার্যকর সমাধানের লক্ষ্যেই গণশুনানির আয়োজন করা হয়।

Leave a Comment