কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি নতুন উপনিবেশবাদী শক্তি হয়ে উঠছে
ক ত র ম ব দ ধ – আধুনিক যুগে ডেটা সংগ্রহ এবং তথ্যের নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর আধিপত্য বজায় রাখার সাধারণ পদ্ধতি হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি এখন নতুন এক ধরনের সংকটের কারণ হয়ে উঠেছে। এআই প্রশিক্ষণের কাজে ইন্টারনেট থেকে শতকোটি মানুষের তথ্য চুরি করা হচ্ছে, যার ফলে মানুষের সংস্কৃতি এবং বৈচিত্র্য হারাচ্ছে।
ডেটা উপনিবেশবাদের বিশ্বাস বিপ্লব
প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষে তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি পুরোপুরি পরিবর্তিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই প্রযুক্তির ফলে জনপ্রিয় সব লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল উইয়ার্ড বা পশ্চিমা সমাজের তথ্য থেকে শিখেছে। এই মডেলগুলো নিজস্ব পরিচয় ক্ষুণ্ন করে অনুমান করে সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য বিশ্লেষণ করছে।
“আমরা পাঠ্যবইতে পড়ি উপনিবেশবাদ বহু আগে শেষ হয়ে গেছে এবং দেশগুলো স্বাধীনতা পেয়েছে। কিন্তু আধুনিক যুগের ডিজিটাল উপনিবেশবাদ যে এখনো টিকে আছে, তা মানুষ বুঝতে পারছে না।” – ইয়েল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জুলিয়ান পসাদা
আধুনিক ডেটা উপনিবেশবাদ এখন বিশ্বের জনপ্রিয় এআই মডেলগুলোকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ইতিহাস ও পরিচয় হারিয়ে যাওয়ার কারণ হয়ে উঠেছে। কর্নেল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আদিত্য বশিষ্ঠ বলেন, ভারতীয় খাবার সম্পর্কে এআই মডেলগুলো ঢালাওভাবে বলে দেয় যে সব ভারতীয় খাবারই তেল-মসলা, সুগন্ধি ও ঝালযুক্ত। অথচ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের খাবার বিভিন্ন রকম হলেও এআই সেগুলো একক করে দিচ্ছে।
আদিবাসী সম্প্রদায় থেকে তথ্য চুরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কানাডার কুইন্স ইউনিভার্সিটির ফেলো মাইকেল শারবার্ট। তিনি বলেন, আমেরিকান এআই কোম্পানিগুলো চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য আদিবাসীদের মতামত নেওয়ার কোনো তোয়াক্কাই করছে না। অনেক আদিবাসী ঐতিহ্য ও গোপন জ্ঞান সম্পর্কে ডেটা স্ক্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে এআই মডেলগুলো সেগুলো জোর করে প্রকাশ করছে।
অন্টারিওর শ্যাপলো ক্রি ফার্স্ট নেশনের সদস্য এবং কামা ডট এআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান রিচি আরও বলেন, “আদিবাসী নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন সম্মেলনে অংশ নেওয়া হয়েছে কিন্তু প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো উদাহরণ প্রকাশ করতে পারছে না।”
তথ্যনির্ভর নতুন যুগে উপনিবেশবাদ আর ভূমি দখলের মাধ্যমে নয়, ডেটা, অ্যালগরিদম ও জ্ঞান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সংস্কৃতির বিপ্লব ঘটছে। অ্যালগরিদম দ্বারা সত্য ও মিথ্যার নির্ধারণে বিশ্বজুড়ে পশ্চিমা মানুষের মূল্যবোধ ও পরিচয় স্থায়ী রূপে প্রকাশ পেয়েছে। ফলে পুরো পৃথিবীর সত্য ও মিথ্যার মাপকাঠামো নতুন রূপে তৈরি হয়েছে।
