মেসির পারফরম্যান্স অবিশ্বাস্য হয়েছে
৩৯ বছর বয়স ম স য কর – নিউজার্সিতে আর্জেন্টিনা এবং স্পেনের ফাইনাল শেষে ক্যামেরার লেন্স মেসিকে খুঁজে পায়। তাঁর চোখ থেকে অঝোরে জল ঝরতে থাকে। তিনি দলকে অগ্রগামী হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন কিন্তু বিশ্বকাপ জয় ছাড়া কাছাকাছি এসে স্বপ্ন ভঙ্গের দুঃখে তাঁর মন ভেঙে পড়েছে।
ব্রাজিল ও ইতালির পর টানা দুই বিশ্বকাপের সুযোগ ছিল আর্জেন্টিনার সামনে। কিন্তু শেষে স্বপ্ন ভঙ্গের পর মেসি কাঁদেন। তাঁর বয়স যেন কেবল একটি সংখ্যা—বর্তমান বিশ্বকাপে তাঁর দেখা পারফরম্যান্স একটি অপূর্ব বিস্ময়।
“আমি পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলাম যে লিও যতদিন ইচ্ছা ততদিন খেলতে চেয়েছিল। আমি আশা করি সে তার সতীর্থদের নিয়ে গর্বিত। আর আমার বিশ্বাস, সে অবশ্যই গর্বিত। কারণ ফুটবল মাঠে পা রাখা সর্বকালের সেরা ফুটবলার সেই মেসি। এই বিশ্বকাপে সে যা করেছে, তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।”
মেসি ৩৯ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক হিসেবে পারফরম্যান্স করেছেন যা অপরিসংখ্য সামগ্রিক সাফল্য নিয়ে আসে। তিনি অ্যাসিস্ট করেছেন ৪টি এবং গোল করেছেন ৮টি—যার মধ্যে রয়েছে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক। বিশ্বকাপে প্রথম ফুটবলার হিসেবে টানা আট ম্যাচে গোল করার রেকর্ড দিয়ে গিয়েছেন এবং ম্যারাডোনার আট অ্যাসিস্টের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বকাপে দ্বাদশ অ্যাসিস্টের সাফল্য অর্জন করেছেন।
ফাইনালে যে মেসি অংশ নিয়েছেন সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু নিউজার্সিতে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে স্পেন আর্জেন্টিনার প্রধান খেলোয়াড়কে সামনে দিয়ে দিয়েছে অপরিসংখ্য চাপ। প্রথমার্ধে তিনি মাত্র ১৫ বার বল স্পর্শ করেন। দ্বিতীয় অর্ধেও অনেকটা নিষ্প্রভ ছিলেন।
তোরেসের গোলে স্পেন এগিয়ে যাওয়ার পর আর্জেন্টিনা শেষের দিকে আক্রমণ করতে পারেনি। দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয় পেয়েছে স্পেন। তাঁদের মঞ্চে হাসিমুখে মেডেল পরছে।
দীর্ঘ ৩৯ দিন ব্যাপিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ হয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যদের ট্রফি উদযাপন করে আর্জেন্টিনা। মেসির কীর্তিতে নিকোলাস ওতামেন্দি এবং রদ্রিগো দি পল কেঁদেছেন। বাকরুদ্ধ স্কালোনি চোখের পানি ধরে রেখেছেন কিন্তু তিনি নীরবে কেঁদেছেন।
স্পেনের কাছে হারের পর আর্জেন্টিনার কোচ বলেন, “লকার রুমে আমি যতটা পারি কেঁদেছি। লিওর সঙ্গে আমার কথা হয়নি। আর নিজেদের সামর্থ্যের ওপরই ভরসা রেখেছিলাম। আবারও সেটা প্রমাণ করেছি।”
