ফিফা সভাপতির বেসরকারি মালিকানা পরিকল্পনা প্রত্যাহার
Banglajibon.com – ত ব র ব র ধ ত – বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তাঁর বিতর্কিত বেসরকারি মালিকানা আনার প্রস্তাব থেকে সরে এসেছেন। ফুটবল সংস্থাগুলোর তীব্র প্রতিবাদ এবং ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর বয়কটের হুমকির মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাব ও বিরোধিতার বিবরণ
মঙ্গলবার ইনফান্তিনো একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করেন, যেখানে বলা হয়েছিল বিশ্বকাপ পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি কোম্পানি গঠন করা হবে। এই কোম্পানিতে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা অংশগ্রহণ করবেন। কুশনার পরিবারের সংশ্লিষ্ট একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের তালিকায় ছিল।
প্রস্তাব ঘোষণার পর থেকেই সমালোচনা বাড়তে থাকে। শুক্রবার রাতে এক বিবৃতিতে ইনফান্তিনো জানান, পরিকল্পনাটি আর বাস্তবায়ন করা হবে না। তিনি বলেন,
সব পক্ষের মতামত মনোযোগ দিয়ে শোনার পর স্পষ্ট হয়েছে যে এই প্রকল্প এমন বিভাজনের সৃষ্টি করেছে, যা সমর্থনের মাত্রা যাই হোক না কেন, শুরুতে যে লক্ষ্য সামনে রেখে এটি নেওয়া হয়েছিল, তার স্বার্থে আর উপযোগী নয়।
একই বিবৃতিতে ইনফান্তিনো আরও বলেন,
এখন আমার লক্ষ্য হলো আগামী দিন ও সপ্তাহগুলোতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আবারও একত্র করা, আমাদের সবার অভিন্ন স্বার্থ—ফুটবলকে সামনে রেখে। বিশেষ করে যেসব দেশের সবচেয়ে বেশি সহায়তা প্রয়োজন, সেখানে ফুটবলের উন্নয়ন অব্যাহত রাখাই আমাদের উদ্দেশ্য।
ফিফার অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা
একই দিনে ফিফার দুই শীর্ষ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেন। বিশ্বকাপবিষয়ক হোয়াইট হাউস টাস্কফোর্সে ফিফার প্রতিনিধি কার্লোস কর্দেইরো প্রতিবাদ জানিয়ে ইনফান্তিনোর উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সাবেক গোল্ডম্যান স্যাকস ব্যাংকার কর্দেইরো বলেন,
ফিফা যখন বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির কথা বিবেচনা করছে, তখন আমি এর সঙ্গে থাকতে পারি না।
একই সঙ্গে তিনি ফিফার অন্য কর্মকর্তাদেরও এ বিষয়ে মুখ খোলার আহ্বান জানান।
এর কয়েক ঘণ্টা পর ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন লামুরও প্রকল্পটির সমালোচনা করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে ইনফান্তিনো যথেষ্ট স্বচ্ছতা দেখাননি, ফলে ফিফার কর্মীরা বিভ্রান্ত হয়েছেন। লামুর বলেন,
এটি একজন ব্যক্তির প্রকল্প। শুধু এই প্রকল্প বন্ধ করাই নয়… এখন সময় এসেছে ফুটবল প্রশাসনের নেতাদের নিজেদের সঠিক প্রশ্ন করার এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার।
আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের বিস্তার
শুধু ফিফার অভ্যন্তরেই নয়, আন্তর্জাতিক ফুটবলেও এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। উয়েফার ৫৫টি সদস্যদেশ বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপসহ ফিফার সব প্রতিযোগিতা বয়কটের সিদ্ধান্তে একমত হয়। উয়েফা এক বিবৃতিতে জানায়,
কিছু বিষয় বিক্রি করার মতো নয়।
পরে আরেক বিবৃতিতে তারা আরও বলে,
এটি শুধু নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতা নয়, বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক হিসেবে ফিফার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোরও শামিল।
উয়েফার পাশাপাশি উত্তর, মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবীয় ফুটবল কনফেডারেশন (কনকাকাফ) এবং এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)ও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করে।

