আসতেকার প্রান্তে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ
আসত ক ত ই ত র শ – মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আসতেকার আকাশ যখন গ্যালারির মানুষের মোবাইল ফোনের আলো দিয়ে ভরে উঠছিল, তখন মাঠের বাইরে ছাড়া এক অলৌকিক মুহূর্ত হয়ে উঠেছিল। কেবল একজন মানুষ এখনও স্থির হয়ে ছিলেন মাঝখানে। তাঁর কপালে পরিচিত ব্যান্ড, ক্ষীণ হাড়ে ক্ষীণ চুল। ওই মানুষটি গিয়োর্মো ওচোয়া।
সাইপ্রাসের এইএল লিমাসোল ক্লাবে ওচোয়া যখন ৪০ বছর বয়সে আসতেকার দরজা খুলে দিয়েছিলেন, তখন সেটা তাঁর ষষ্ঠ এবং শেষ বিশ্বকাপ। পরের সপ্তাহেই তিনি মেক্সিকো ক্লাবে পা দেবেন এবং সেই ক্ষুদ্র আকাশে নিজের বিদায় মুহূর্ত গুঞ্জন জাগিয়ে তুলছিল।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ওচোয়ার প্রতিটি মুহূর্ত তাঁকে ফিরিয়ে আনছিল দুই দশক আগের অতীতে। গ্যান মাতেও শাভেজ তাঁকে বলেন, ‘সে আমাদের সবার জন্য এক বড় উদাহরণ। সে জিমে সবার আগে আসে এবং সবার শেষে বের হয়।’ মাঠে নামার প্রতিটি মুহূর্ত তাঁকে বিশ্বকাপের ক্লাব আমেরিকার প্রথম ম্যাচ হতে ফিরিয়ে আনছিল।
২০০৪ সালে তাঁর পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরু হয়েছিল আসতেকাতে ক্লাব আমেরিকার জার্সিতে। তাঁর ক্ষতির স্মৃতি গুঞ্জন জাগানো হয়েছিল ২০১০ বিশ্বকাপে গোল না করার বিপর্যয়ে। এবং এই মানুষটি আজ তাঁকে এনে দিয়েছিল এক রাজকীয় বিদায়।
২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ফোর্তালেজায় না খেলিয়ে সেভটি যেন সর্বকালের সেরা সেভের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। মেক্সিকো বিপক্ষে চেক প্রজাতন্ত্রের ম্যাচ যখন ২-০ ব্যবধানে নিয়ন্ত্রণে ছিল, তখন গ্যালারির দাবি উঠেছিল ওচোয়ার। খেলা শেষ হতে ১২ মিনিট বাকি ছিল।
মাঠে নামার প্রতিটি মুহূর্ত ওচোয়াকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল দুই দশক আগের এক অতীতে।
চতুর্থ রেফারি যখন ১৩ নম্বর বোর্ডটি তুললেন, আসতেকার বুক চিরে যে গর্জন বের হলো, তা মেক্সিকোর যেকোনো গোল উদ্যাপনকেও হার মানায়।
সতীর্থ মাতেও তিনি ব্রাজিলের না খেলিয়ে সেভটি যেন সর্বকালের সেরা সেভের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। তাঁর ক্ষত সম্পূর্ণ ভুলে গেলেন বুড়ো হাড়ের ভেল্কি দেখিয়ে প্রমাণ করেছিলেন নিবেদন। এই ম্যাচের শেষ দিকে আলভারো ফিদালগো তৃতীয় গোলটি করলেন, তখন ওচোয়া সবার আগে ছুটে গেলেন ডাগআউটের দিকে।
আসতেকার গোলপোস্টে চুমু খেলেন ওচোয়া শেষ বাঁশি বাজার পর। পেনাল্টি স্পটে হাঁটু গেড়ে বসে কেঁদে উঠলেন। সতীর্থরা তাঁকে কাঁধে তুলে আকাশে ছুড়ছিল। দিনশেষে ওচোয়া বলেন, ‘আমার প্রথম ম্যাচ আসতেকায়, আমার শেষ ম্যাচও আসতেকা। এটি আমার ক্যারিয়ারের এক সুন্দরতম শেষ অধ্যায়। সবাইকে ধন্যবাদ।’
