Op Ed

রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও অপরাজনীতির কালিমা-১

Killed-leaders_XOOqlcV
Foto : Betty Thomas - banglajibon.com
Table of Contents
  1. রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও অপরাজনীতির কালিমা-১
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও অপরাজনীতির কালিমা-১

Banglajibon.com – র জন ত ক হত য ক – রাজনীতির ক্ষেত্রটি অত্যন্ত পিচ্ছিল। যেকোনো সময় যেকোনো ব্যক্তি এখানে পিছলে পড়তে পারেন। কেউ কেউ পচা শামুক পায়ে লাগার মতো অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। এমনকি যাকে পুরো জাতি হৃদয়ে স্থান দিয়েছে, তাকেও সহজেই হত্যা করা হয়। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি স্থানীয় রাজনীতির নানা মারপ্যাঁচও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে রয়েছে। এই ক্যানভাসটিকে ছোট করে নিয়ে এলে আলোচনা সহজ হবে। আমরা ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু করব। সরকারপ্রধান বা রাজনীতিতে বিপুলভাবে প্রভাব বিস্তারকারী নেতাদের হত্যাকাণ্ডগুলোর কারণও কিছুটা অনুসন্ধান করা হবে। রাজনীতিতে আগ্রহী অনেকেরই এই হত্যাকাণ্ডগুলোর কথা মনে পড়বে। কেন ও কীভাবে সেগুলো সংঘটিত হয়েছিল, সে কথাও অনেকের মনে পড়বে। কেউ কেউ আরও বিশদভাবে সেগুলো পড়ার জন্য বইয়ের সাহায্য নেবেন।

গান্ধীর হত্যাকাণ্ড: একটি অবিশ্বাস্য ঘটনা

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি দেশের জন্ম হওয়ার মাত্র চার বছরের মধ্যেই দুটি বড় হত্যাকাণ্ড দেখেছে পৃথিবীবাসী। প্রথম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন ভারতের অবিসংবাদিত নেতা মোহনচাঁদ করমচাঁদ গান্ধী। রবীন্দ্রনাথ যার নাম দিয়েছিলেন মহাত্মা। ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দিল্লির বিড়লা হাউসে প্রার্থনাসভায় যাওয়ার সময় নাথুরাম গডসে গান্ধীর কাছে গিয়ে খুব কাছ থেকে গুলি করেন। গান্ধী মারা যান কয়েক মিনিটের মধ্যেই।

গান্ধীকে হত্যা করেছেন যে নাথুরাম গডসে, তিনি একসময় ছিলেন আরএসএস বা রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের একজন সদস্য। মহারাষ্ট্রের একজন হিন্দু জাতীয়তাবাদী কর্মী। গান্ধীজি মুসলমানদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছেন, এটা ছিল হত্যাকাণ্ডের একটি কারণ। দেশভাগের চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানকে তার প্রাপ্য অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য গান্ধীজি ভারত সরকারকে চাপ দেন। এটাও উগ্র হিন্দুরা পছন্দ করেনি। ১৯৪৭-৪৮ সালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার সময় দাঙ্গা বন্ধ ও মুসলমানদের নিরাপত্তার দাবিতে গান্ধীজি অনশন করেন। ভারতের উগ্র হিন্দু জাতীয়তাবাদীরা এসব কারণে গান্ধীর প্রতি নাখোশ ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ড ছিল তারই ফল।

ভারতে কেউ মহাত্মা গান্ধীকে হত্যা করতে পারে, এ রকম চিন্তাও ছিল অবিশ্বাস্য। কিন্তু আমরা ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখব, রাজনীতির ইতিহাসজুড়েই রয়েছে এ রকম অবিশ্বাস্য সব হত্যাকাণ্ড।

পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যু

এরপর হত্যাকাণ্ড পাকিস্তানে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান জনসভায় বক্তৃতা করার সময় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। ১৯৫১ সালের ১৬ অক্টোবর রাওলপিন্ডির কোম্পানিবাগে এক জনসভায় বক্তৃতা দেওয়ার সময় এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটি শুরু থেকেই আমলাতন্ত্র আর সেনাবাহিনীর ক্ষমতার গহ্বরে চলে যায়।

পাকিস্তানের মূল নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ দেশভাগের পর পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হন। দেশের প্রধানমন্ত্রী হন লিয়াকত আলী খান। ব্রিটিশ সরকারের কাছ থেকে পাকিস্তান যে শাসনতন্ত্র উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিল, তা ছিল মূলত সংসদীয় গণতন্ত্র। আরও পরিষ্কার করে বললে, জনপ্রতিনিধিত্বমূলক গণপরিষদ বা পার্লামেন্ট ছিল সার্বভৌম এবং ক্যাবিনেট প্রথার শাসনব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন সরকারি মুখপাত্র ও পরিষদের কাছে দায়ী। আর গভর্নর জেনারেল পদটি ছিল মূলত আলংকারিক, এখনকার রাষ্ট্রপতির মতো। কিন্তু পাকিস্তানে জিন্নাহ যখন নিজেই গভর্নর জেনারেল হয়ে গেলেন, তখন নিয়মতান্ত্রিকতা আর সচল থাকল না। জিন্নাহ যখন গভর্নর জেনারেল তখন মন্ত্রিসভা স্বভাবতই নিষ্প্রভ হয়ে গেল। জিন্নাহই হয়ে উঠলেন মূল ক্ষমতার মালিক। এতে লিয়াকত আলী খান খুব বেশি খুশি হননি।

পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের সঙ্গে প্রথম গভর্নর জেনারেলের সম্পর্ক যে খুবই খারাপ হয়ে গিয়েছিল, সেটা বোঝা যায় জিন্নাহ ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার পর। সে সময় জিন্নাহ জিয়ারতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। জিয়ারতে দীর্ঘকাল থাকার সময় জিন্নাহকে মাত্র একবার কয়েক মিনিটের জন্য দেখতে গিয়েছিলেন লিয়াকত আলী খান। মুমূর্ষু অবস্থায় জিন্নাহকে করাচি আনা হলে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রী বা তাঁর মন্ত্রিসভার কোনো মন্ত্রী উপস্থিত হননি। একটি ভাঙা অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ হয়েছিল দেশটির গভর্নর জেনারেলের জন্য। মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর মৃত্যুর পর লিয়াকত আলী খান অসহিষ্ণু হয়ে উঠেছিলেন। ক্ষমতার জন্যও পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। তিনি পাকিস্তানে ষড়যন্ত্রের রাজনীতির গোড়াপত্তন করেছিলেন। এবং তিনি নিজেই হয়েছিলেন তার প্রথম শিকার। প্রকাশ্যে রাওলপিন্ডিতে তাঁকে হত্যা করা হলেও কেউ গ্রেপ্তার হননি। পাকিস্তানের রাজনীতি এরপর পুরোপুরি চলে গেল সামরিক ও বেসামরিক আমলাদের হাতে। এখন পর্যন্ত পাকিস্তান সেই রাজনীতির বাইরে আসতে পারেনি।

লুমুম্বার হত্যাকাণ্ড: আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ফল

এই হত্যাকাণ্ডের ১০ বছর পর কঙ্গোর হত্যাকাণ্ডের শিকার হন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী প্যাট্রিস লুমুম্বা। আধুনিক আফ্রিকার ইতিহাসে এটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হত্যাকাণ্ড। গান্ধী ও লিয়াকত আলী খানের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যেমন উপমহাদেশের রাজনীতি জড়িত আছে, তেমনি প্যাট্রিস লুমুম্বার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আছে বেলজিয়ামের ঔপনিবেশিক স্বার্থ, কঙ্গোর খনিজ সম্পদ, শীতল যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্র, সিআইএ, সোভিয়েত ইউনিয়ন, জাতিসংঘের অবস্থান এবং কঙ্গোর অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব। ১৯৬১ সালের ১৭ জানুয়ারি লুমুম্বাকে একজন বেলজিয়ান কর্মকর্তা গুলি করে হত্যা করেন। কাতাঙ্গার বিচ্ছিন্নতাবাদী সেনা ও সহযোগীরাও এতে অংশ নেয়। পৃথিবীবাসী এখন জানে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ লুমুম্বাকে হত্যা করার ছক কষেছিল। লুমুম্বা হত্যাকাণ্ড ষাটের দশকের একটি বহুল আলোচিত বিষয়।

Frequently Asked Questions

What is র জন ত ক হত য ক?

র জন ত ক হত য ক is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does র জন ত ক হত য ক matter?

র জন ত ক হত য ক matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment