শিশুশ্রম: অর্থনৈতিক বাধ্যবাধকতা আর নৈতিক দুর্নীতি
শ শ শ রম শ ধ অর – শিশুদের দুটি পথে দেখা যায় শিশুশ্রম। সকালের মিষ্টি রোদে একদল শিশু স্কুলের পথে হাসিমুখে হাঁটে বলে দেখা যায়, ঠিক তখন অন্য শিশু কোনো চায়ের দোকানে কয়লার ধোঁয়ায় চোখ কচলাচ্ছে। এই দৃশ্য আমাদের ভীষণ পরিচিত। এতটাই পরিচিত যে এমন ঘটনাগুলো আমরা আমলেই নিই না।
শিশুশ্রমের কথা আমরা অর্থনৈতিক প্রয়োজনের সাথে তুলে ধরে থাকি। যে ছোট হাতটি চা আমাদের দিকে এগিয়ে দিল, তার দিকে মনোযোগ দেওয়ার মতো সময় আমাদের নেই। দারিদ্র্যের কারণে শিশুটি কাজ করতে বাধ্য হচ্ছে বলে আমরা নিজেদের সান্ত্বনা দিই। শিশুকে খুব সামান্য মজুরি দিলেই চলে বলে আমরা মেনে নিই।
যাঁরা শিশুশ্রম পুঁজি করে যাঁরা প্রতিনিয়ত ফায়দা লুটছেন, তাঁদের কথা আমরা কতবার ভেবেছি? একজন প্রাপ্তবয়স্ক শ্রমিকের বদলে শিশুকে কাজে রাখা কারখানার অনেক সুবিধা দেয়। সেই শিশু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে জানে না। শ্রম অধিকারের মতো বিষয়গুলো তাদের কাছে সম্পূর্ণ অজানা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অমানবিক পরিশ্রম চাপিয়ে দিলেও তারা মুখ বুজে সব সহ্য করে নেয়।
২০২৫ সালের জুন মাসে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে দেশে প্রায় ৩৫ লাখ শিশু শ্রমিক রয়েছে এবং ১০ লাখ শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত। এই শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়টিতে হাড়ভাঙা খাটুনিতে যুক্ত করা হয়। কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া, রাসায়নিক পদার্থের সরাসরি সংস্পর্শ কিংবা ভারী বোঝা টানার কারণে তারা খুব অল্প বয়সেই নানা রকম দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়।
অভাবের তাড়নায় অনেক মা-বাবা তাঁদের সন্তানদের কাজে পাঠাতে বাধ্য হন। আমাদের সমাজে শিশুদের অনেকে যুক্তি দেখান যে সরকার বিনা মূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে। বছরের প্রথম দিনে নতুন বই দিচ্ছে। উপবৃত্তি দিচ্ছে। তাহলে কেন শিশুরা স্কুলে যাচ্ছে না? এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের ত্রুটিপূর্ণ আর্থসামাজিক কাঠামোর গভীরে।
নৈতিক সংকটের কথা আমরা কতবার ভেবেছি?
যখন শিশুদের দেখা যায় সমবয়সী অন্য শিশুরা সুন্দর পোশাক পরে গাড়িতে চড়ে স্কুলে যাচ্ছে, তখন তাদের ছোট্ট মনে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া হয় সেটা প্রশ্ন হয়ে ওঠে।
