ক দ খ ছ আরও ক: রাষ্ট্র গঠনের আওয়াজ এবং ভাষাভিত্তিক জাতি গঠনের কথা
ক দ খ ছ আরও ক দ – পঞ্চাশের দশকে রাষ্ট্রের দিক থেকে আওয়াজটা ছিল জাতি গঠনের দিকে। পাকিস্তানে শাসন প্রতিষ্ঠা হবে আমলাদেরই তা ছিল জিন্নাহ সাহেবের শঙ্কা। নবগঠিত রাষ্ট্রকে সুগঠিত করার জন্য এবং টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে তিনি বিশ্বাস করতেন যে ভাষা ছিল প্রধান উপাদান। আওয়াজের ওই জোরটাই বলে দিত যে ভেতরে অন্তর্বস্তুর ঘাটতি রয়েছে।
জাতি গঠনের উদ্দেশ্য এবং দেশভাগের পরিণতি
সম্প্রদায় অনুসারে রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিল মাত্র পাকিস্তানি নামে। দেশভাগের পর দ্বিজাতিতত্ত্ব তো আর কার্যকর শক্তি হয়নি। একজন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি বুঝেছিলেন যে ভাষা ছিল প্রধান উপাদান। উর্দু যে সেই ভাষা নয়, যে বাঙালিদের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না তা তো তিনি জানতেন পূর্ববঙ্গে প্রথম এবং একমাত্র সফরে এসেই।
মাটির পুতুল নইতো আমরা আজাদ পাকিস্তানি কেমন করিয়া রাখিব আজাদী জানি, তাহা জানি।
আজাদীর অভিজ্ঞতাটি লাভের কয়েক মাসের মধ্যেই জিন্নাহ সাহেব মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি নিশ্চয় বুঝে ফেলেছিলেন যে পাকিস্তানে শাসন প্রতিষ্ঠা হবে আমলাদেরই। ক্ষমতাবান হয়ে উঠলেন গোলাম মোহাম্মদ ব্যারাকের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন। কিন্তু তার মতো ক্ষমতার স্পষ্ট কারণ ছিল না।
আমাদের পাড়ার মুকুল ফৌজের কুচকাওয়াজে ফররুখ আহমদের লেখা গানটি ছিল তৎপরতার সঙ্গে সংযুক্ত। সামরিক বাহিনীর পাঠান অফিসার সেনাবাহিনীর কাছ থেকে রাইফেল ব্যবহারের ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি আমাদের ট্রেনিংয়ের জন্য সীমান্ত রক্ষীবাহিনী ইপিআরের হেডকোয়ার্টার্সের সঙ্গে যুক্ত।
মুকুল ফৌজ গঠিত হয়েছিল আজাদ পত্রিকাকে কেন্দ্র করে। যুক্ত করার উদ্দেশ্যে তাদের কাছে আজাদ পাকিস্তানি হিসেবে দাবি করার আশঙ্কা ছিল। প্রতিষ্ঠা হয়েছিল সামরিক ক্ষমতার দিক থেকে সংঘর্ষ সৃষ্টি হবে অমীমাংসিত কাশ্মীর প্রশ্নে। সীমান্ত রক্ষীবাহিনী ও বিকেলবেলার আয়োজন সংগে আমাদের ট্রেনিং ছিল স্বল্পকালীন। কিছু দিন আমার মনে হয় সপ্তাহ দুয়েক চলেছিল কি না সন্দেহ।
পাকিস্তানপন্থী বুদ্ধিজীবীদের প্রবল উৎসাহ ছিল। ক্ষমতাসীনদের দিক থেকে রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করার জন্য নিজেদেরকে সৈনিক হিসেবে দেখার উৎসাহে তাই ভাটা পড়ে গিয়েছিল। তিনি মিশুক প্রকৃতির বয়স্ক মানুষ ছ
