গ্যাসের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে
Table of Contents
গ্যাসের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে: এলএনজি টার্মিনাল বন্ধে সরবরাহ কমেছে
Banglajibon.com – গ য স র দ র ভ – সরকার বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তবে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় যানবাহন, শিল্প ও বাসাবাড়ির জন্য গ্যাসের বরাদ্দ ইতিমধ্যেই হ্রাস পেয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর ফলে দৈনন্দিন জীবনের অন্যান্য খাতে গ্যাসের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে গেছে, তেমনি সিএনজিচালিত বহু যানবাহনও বন্ধ হয়ে গেছে।
এলএনজি টার্মিনালের পরিস্থিতি
গতকাল বৃহস্পতিবার পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাগরে ভাসমান দুটি এলএনজি টার্মিনালের একটির (সামিট গ্রুপের) পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। সাগর উত্তাল থাকায় সামিটের টার্মিনালে এলএনজিবাহী জাহাজ ভিড়তে পারছে না বলেই এ অবস্থা। আর অর্ধেক সচল থাকা মার্কিন মালিকানাধীন এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনাল থেকে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে।
এদিকে দেশীয় গ্যাসকূপ থেকে ১৬৪২ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদনসহ সার্বিক সরবরাহ দিনে ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি রয়েছে। অথচ চাহিদা ৩৮০০ মিলিয়নের মতো। আমদানির এলএনজি ও দেশীয় কূপের উৎপাদন মিলিয়ে সর্বোচ্চ ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাচ্ছিল। তবে সম্প্রতি এক্সিলারেটের টার্মিনালে আগুন ধরা এবং পরবর্তী সময়ে সাগর উত্তাল হওয়ার কারণে সামিটের এলএনজি কার্গো বন্দরে ভেঙতে না পারার কারণে গত ২১ জুলাই থেকে গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদা-উৎপাদনের হিসাব একেবারে গুড়িয়ে গেছে।
যানবাহন ও পরিবহনে প্রভাব
তীব্র গ্যাস-সংকট দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং শিল্প ও পরিবহনসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে প্রভাবিত করছে। বাসাবাড়ির চুলার পাইপের সরবরাহ কার্যত বন্ধ। কয়েক দিন আগে পরিস্থিতির একটু উন্নতি হলেও এলএনজি টার্মিনালের পরিস্থিতির কারণে পরিস্থিতির আবার অবনতি হয়েছে। সড়কে গ্যাসভিত্তিক যানবাহনও অনেকটা অচল হয়ে পড়েছে।
গতকাল দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার তাজ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাসের জন্য পণ্যবোঝাই গাড়ির দীর্ঘ লাইন। সেখানে আবদুল খালেক নামে এক লরিচালক বলেন,
রাতে চট্টগ্রামের ইপিজেড থেকে পণ্য নিয়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছি। আমার গাড়িটি গ্যাসে চলে। গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় এই ফিলিং স্টেশনে এসেছি। কিন্তু গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
গ্যাস-সংকটের কারণে ফেনী ও কুমিল্লা আঞ্চলিক সড়কের গণপরিবহনগুলোর একটা বড় অংশ বন্ধ। এতে করে দুই জেলার মানুষ পড়েছেন ভোগান্তিতে। চৌদ্দগ্রাম ট্রান্সপোর্ট নামে কাভার্ড ভ্যানের মালিক ওবায়েদ পাটোয়ারী বলেন,
গ্যাস-সংকটের কারণে আমাদের গাড়ির খরচ বেড়েছে। যে গাড়ি পণ্য নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে, সে গাড়ি এখন তিন দিনেও গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।
ফেনী-কুমিল্লা সড়কে যাতায়াতকারী আঞ্চলিক পরিবহন যমুনা মালিক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন,
গ্যাস-সংকট দেখা দেওয়ার কারণে ট্রান্সপোর্টের অধিকাংশ গাড়ি বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে গাড়ির সংকট দেখা দিয়েছে।
বিক্ষোভ ও অবরোধ
জামালপুরে গ্যাস-সংকট নিরসন ও গ্যাসের দাবিতে জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা। গতকাল সকাল ৬টায় জামালপুর পৌর শহরের দ্বিপাড়া এলাকার মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। চালকেরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করার যান চলাচল বন্ধ হয়ে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন অসংখ্য মানুষ।
অবরোধকারী সিএনজিচালকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও তাঁরা প্রয়োজনীয় গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে তাঁদের উপার্জন ব্যাহত হচ্ছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়া এবং সিএনজিচালিত যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত গ্যাসের ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবেন। বিক্ষোভকারী চালক জ্ঞানাল আবেদীন সকালে বলেন,
গত রাত ১২টা থেকে লাইনে বসে আছি, এখনো গ্যাস পাই নাই। গ্যাস না পেলে গাড়ি চালাব কীভাবে? তাই বাধ্য হয়ে সবাই মিলে রাস্তা অবরোধ করেছি।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস-সংকটে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকেরা। গতকাল বেলা ১টার দিকে সরাইল সদরের এক সিএনজি স্টেশনের সামনে এই অবরোধ করেন তাঁরা। এতে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
শিল্পকারখানায় প্রভাব
তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ইনামুল হক খান গতকাল জানান, ব্যাপক সমস্যার পর মধ্যে কয়েক দিন গ্যাসের সরবরাহ কিছুটা ঠিক থাকলেও আবার গ্যাসের চাপ কমে গেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে ঢাকার আশপাশে কোনো শিল্পকারখানার বয়লার চলছে না। অনেকে বিকল্প উপায়ে তুষ বা অন্যান্য প্রচলিত জ্বালানি জ্বালিয়ে কারখানা চালু রেখেছেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী
গ্যাসের দুর্ভোগ কেন বেড়েছে? এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্তের ফলে দৈনন্দিন খাতে গ্যাসের দুর্ভোগ বেড়েছে।
বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ কতটুকু? দেশীয় গ্যাসকূপ থেকে ১৬৪২ মিলিয়ন ঘনফুট উৎপাদনসহ সার্বিক সরবরাহ দিনে ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি রয়েছে।
সিএনজিচালিত যানবাহন কীভাবে প্রভাবিত হচ্ছে? গ্যাসের দুর্ভোগের কারণে সিএনজিচালিত যানবাহন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং চালকেরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।
শিল্পকারখানাগুলো কী করছে? ঢাকার আশপাশের শিল্পকারখানাগুলো বয়লার বন্ধ রেখে বিকল্প উপায়ে তুষ বা অন্যান্য জ্বালানি জ্বালিয়ে কারখানা চালু রাখছে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is গ য স র দ র ভ?
গ য স র দ র ভ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does গ য স র দ র ভ matter?
গ য স র দ র ভ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
