আট জেলা: বন্যার পর ছড়িয়ে পড়ছে রোগবালাই
আট জ ল – আটটি জেলায় পাহাড়ি ঢলে হওয়া বন্যা এলাকাগুলো বিপর্যয়ের আঁচ ছাড়া জলাবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বন্যার পানি নেমে আসার পর নতুন একটি জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রোগ সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে যার কারণে গত বুধবার পর্যন্ত পাঁচ দিনে মোট ২ হাজার ৬৩০ জন ব্যক্তি অসুস্থ হয়েছে। ডায়রিয়া এই সমস্ত রোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণ হারানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে বন্যার পানি নেমে আসার সাথে সাথে দ্বিতীয় দুর্যোগ শুরু হয়ে যায়। দূষিত পানি, ভেঙে পড়া স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণের ব্যাঘাতে রোগের সংক্রমণ বাড়ছে। শিশু, গর্ভবতী মহিলা, বয়স্ক এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি রয়েছে।
ডাঃ আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান বলেন, বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর নিরাপদ পানি, শুকনো খাবার, দ্রুত রোগ নজরদারি এবং গর্ভবতী নারী ও ছোট শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
১০ থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ডায়রিয়া, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, সাপের দংশন, পানিতে ডুবে যাওয়া, চর্মরোগ, চোখের প্রদাহ ও আঘাতসহ বিভিন্ন কারণে ২ হাজার ৬৩০ জন ব্যক্তি অসুস্থ হয়েছে। তার মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩০৪ জন।
এলাকাগুলোতে কাজ করছে মেডিকেল টিম
এর পর নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডাঃ সেখ ফজলে রাব্বি জানান, বন্যার পর কর্মসূচি চালু করেছেন। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বন্যাপরবর্তী রোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
ডাঃ মুশতাক হোসেন বলেন, বন্যার শুরুতে সাপের দংশন, আঘাত ও পানিতে ডুবে যাওয়ার ঘটনা বেশি দেখা যায়। পরে খাদ্য ও পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বাড়ে। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়া ও নিরাপদ পানির সংকট এ ঝুঁকি আরও বাড়ায়।
স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজে নিয়োগ করেছে চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি জানান, বন্যাদুর্গত বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলায় বিভিন্ন মেডিকেল টিম কাজ করছে। তাদের মাধ্যমে জরুরি ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
চন্দনাইশ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রশ্মি চাকমা বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে অর্ধশতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপদগ্রস্ত হয়েছে সাপে কাটা রোগীদের সংখ্যা।
