ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের প্রতিবাদে ৩৯ নাগরিকের যৌথ বিবৃতি
Banglajibon.com – ব রশ র ষ ঠ হ ম – দেশের শীর্ষস্থানীয় ৩৯ জন নাগরিক ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙার চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সাথে যথাযথ মর্যাদার সাথে ভাস্কর্যটি পুনরায় স্থাপনের দাবিও তারা উত্থাপন করেছেন। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো যৌথ বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সংযোগ সড়কের বেদীতে জেলার কৃতী সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের একটি ভাস্কর্য তৈরি হচ্ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে কোনো আলোচনা ছাড়াই জেলা প্রশাসন এই ভাস্কর্য অপসারণের কাজ শুরু করেছে। এই সিদ্ধান্ত জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ব্যক্তিরা
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল, নিজেরা করির সমন্বয়কারী খুশী কবির, নারীপক্ষের সদস্য শিরীন পারভিন হক, লেখক ও সাংবাদিক আবু সাঈদ খান, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সভাপতি জেড আই খান পান্না, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক সুমাইয়া খান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবায়দা নাসরিন, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়িত ফেরদৌস, গীতি আরা নাসরিনসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, লেখক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্বাধীনতাবিরোধী একটি গোষ্ঠী নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটিতে ভাঙচুর চালিয়েছিল। সেটি সংস্কার না করে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের উদ্যোগ ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও চরম আপত্তিকর’।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্বাধীনতাবিরোধী একটি গোষ্ঠী নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটিতে ভাঙচুর চালিয়েছিল। সেটি সংস্কার না করে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের উদ্যোগ ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও চরম আপত্তিকর’। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনা এড়ানোর যুক্তি দেওয়া হলেও এ বিষয়ে শহীদ পরিবারের সদস্য বা স্থানীয় নাগরিক সমাজের সাথে কোনো আলোচনা করা হয়নি।
বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধে জীবন উৎসর্গকারী বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য অপসারণের উদ্যোগ তাঁকে অসম্মান করার শামিল। তাঁরা যথাযোগ্য মর্যাদার ভাস্কর্যটি পূর্ব স্থানে পুনঃস্থাপনের দাবি জানান।
একই সাথে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনাগুলোর সংস্কার ও পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

