র্যাবকে বিলুপ্ত নয়, আরও সক্রিয় করা হচ্ছে
ব ল প ত নয় আরও সক – ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিলুপ্তির দাবি উঠেছিল। তখন গঠিত গুম কমিশন বাহিনীটি বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। অবিলম্বে বিএনপি সরকার র্যাব বিলুপ্ত নয়, বরং তাকে সুনির্দিষ্ট আইনের আওতায় আরও সক্রিয় ও জবাবদিহিমূলক করে অপরাধ দমনে ব্যবহার করতে চায়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিএনপি সরকারের আমলে র্যাব বিলুপ্তি আলোচনা আরও জোরালো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, সরকার বাহিনীকে পেশাদার, মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে। পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে দুটি নতুন প্রশিক্ষণ একাডেমি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। র্যাবের জন্য গাড়ি কেনার ব্যয় প্রায় ১২২ কোটি টাকা হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি এলিট ফোর্স প্রয়োজন রয়েছে। এত দিন র্যাবের কোনো স্বতন্ত্র আইন ছিল না। যেমন ইচ্ছা তেমন চলেছে। এখন আমরা র্যাবকে আইনের আওতায় আনতে চাই। এ বিষয়ে একটি খসড়াও তৈরি করা হয়েছে।’
র্যাবের আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ওই বাহিনী ও কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। গুম কমিশনের সিনিয়র সদস্য মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন জানান এবং প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল জাতিসংঘ।
বিএনপির সরকার এখন বাহিনীকে নতুন আইনের আওতায় পরিচালনা করার বিষয়টি চিন্তা করছে। প্রশাসনিক কাজ, নিয়োগ, পদায়ন এবং শৃঙ্খলা ব্যবস্থা এই আইনের আওতায় করা হবে। গ্রেপ্তার, তদন্ত ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ক্ষমতাও স্পষ্ট হিসেবে নির্ধারণ করা হবে।
র্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ জানান, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষায়িত এলিট ফোর্সের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘র্যাব বিলুপ্তি বা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত সরকারের বিষয়। এ ক্ষেত্রে বাহিনীটির নিজস্ব কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই, র্যাব একটি দায়িত্বশীল ও প্রযুক্তিনির্ভর সংস্থা হিসেবে গড়ে উঠুক।’
