পাহাড়ের বুনো সৌন্দর্য রাইক্ষং
Table of Contents
রাইক্ষং ঝরনা: পাহাড়ের গহীন থেকে উদ্ভূত এক অপরূপ দৃশ্য
Banglajibon.com – প হ ড় র ব ন স – ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে বান্দরবানে পৌঁছানো যায়। বান্দরবানের রুমা বাসস্ট্যান্ড থেকে রুমা বাজার পর্যন্ত লোকাল বাস চলে। রুমা বাজার থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে রুমা আর্মি ক্যাম্পে এন্ট্রি দিতে হয়, সেখানেই গাইড নিতে হয়। এই পথই রাইক্ষং ঝরনার দিকে প্রবেশের একমাত্র ধাপ।
যাত্রার প্রস্তুতি ও প্রথম পর্ব
বর্ষা, শরৎ ও হেমন্ত — এই তিন মৌসুমই পাহাড়ের লুকানো সৌন্দর্যের সর্বোত্তম প্রদর্শনী। তিন পার্বত্য জেলার ভূমি এই সময়ে তার রূপের পূর্ণ প্রকাশ করে। চারদিকে অসীম সবুজের ঢেউ। আমাদের ছয়জনের দল বগা লেক থেকে ভোর সাতটায় যাত্রা শুরু করে। হাতে জুতসই বাঁশের লাঠি, মুখে আল্লাহর নাম।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা চড়াই-উতরাই। কখনো দুই হাজার ফুট উপরে, কখনো পাঁচ হাজার ফুট নিচে। ঢেউখেলানো পাহাড়ের সারিতে ছায়া-ঝিরি মাখামাখি। একটুও নিশ্চিন্তে থাকা যায় না — শিকারি টাইগার জোঁকের উপদ্রব সব সময় সক্রিয়।
নাখজং ও পুকুরপুরার পথে
বেশ কয়েক ঘণ্টা হাঁটার পর নাখজং পাড়া চোখে পড়ে। সেখানে মুরংদের বসতি। কিছুক্ষণ বিশ্রামের পাশাপাশি সঙ্গে নেওয়া মুড়ি-চানাচুরে তেল মেখে খাওয়া হয়। খাবার শেষে আবার পথ চলতে হয়।
পুকুরপুরা আজকের আসল গন্তব্য। পাহাড়-অরণ্যে হাঁটতে হয় গুটিগুটি পায়ে। চারদিকে তাকিয়ে থাকতে হয়, কখনো নটনাবিরাম প্রকৃতির দৃশ্যে থমকে দাঁড়াতে হয়। নাহলে পাহাড়ে ঘোরার সেই আনন্দ হারিয়ে যায়। ক্যামেরার শার্টার টিপছি, হেলেদুলে হাঁটছি, বিস্ময়ের আনন্দে মগ্ন।
এতটাই প্রকৃতির রূপে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলাম যে পাহাড়ি মহিষা আর টাইগার জেঁক দেহে আলিঙ্গন করেছিল — টেরই পাইনি। কাপড় ভিজে লাল রক্ত গড়িয়ে পড়ছিল, তখনই হুঁশ ফিরেছে।
রুমা খালের তীরে
বেলা দুইটা বিশ মিনিটে রুমা খালের দেখা পাই। খালের পানিতে ছানো-ছিটানো প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট ছোট-বড় অসংখ্য পাথরের চাঁই। স্বচ্ছ শীতল পানি হাতে-মুখে দিয়ে, সঙ্গে থাকা চিড়া-গুড় দিয়ে দুপুরের খাবার সেরে নিই। এরপর পাথর আর পানি ডিঙিয়ে গন্তব্যের দিকে এগোতে হয়।
এনংপুরায় রাত
এনংপুরার কাছে পৌঁছানোর সময় প্রায় সন্ধ্যা। ডানে তাকালে দেখা যায় বিশাল গাছ আর জঙ্গলে ঘেরা উঁচু এক পাহাড়। পুকুরপুরা যেতে হলে এই পাহাড়টি ডিঙতে হবে। ঢাকা থেকে বয়ে আনা রশির বস্তা কাজে লাগবে।
আমাদের রাত করে পাহাড়-জঙ্গলে হাঁটার দারুণ অভিজ্ঞতা আছে। কিন্তু গাইড বেঁকে বসল। তার জোরালো আবদার — রাতে এনংপুরাতেই থেকে যান। রুমা খালে সাফসুতরা হয়ে এনংপুরাতেই থেকে যাই।
রাতের খাবারে অর্ডার দেওয়া হলো: বাঁশ কোঁচলের ভাজি, ডাল, পাহাড়ি মুরগির ভুনা, সঙ্গে ঢেঁকিছাঁটা জুমের চালের বইঠা ভাত।
খাওয়া শেষে ঘুমাতে যাই, কিন্তু ঘুম আসে না। খোলা জানালার ফাঁক দিয়ে ভরা জোছনার আলো চোখে পড়ে। চারদিকের সুনসান নীরবতা খান-খান করে কানে ভেসে আসে, অবিরাম ধারায় বয়ে যাওয়া খালের পানির কলকল শব্দ। একরাশ হিমেল হাওয়া শরীর জুড়িয়ে দেয়। মনে প্রচণ্ড বাসনা জাগে — ঘরের বাইরে বেরিয়ে পূর্ণিমা উপভোগ করার। কিন্তু ততক্ষণে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে।
প্রথম প্রভাত ও ট্রেকিং
মোরগডাকা ভোরে বিছানা ছাড়ি, জাগিয়ে তুলি সবাইকে। সামান্য দানাপানি পেটে দিয়ে ছুটি মূল গন্তব্যে। গত সন্ধ্যায় দেখা সেই উঁচু পাহাড়টিই ট্রেকিং করতে হবে — প্রায় আট ঘণ্টা।
পাড়া থেকে নেমে সামান্য দূরে গিয়েই শুরু হয় ট্রেকিং। আকাশছোঁয়া বৃক্ষ, শরীরে জড়িয়ে পড়া সব লতাগুল্ম, ভয়ংকর শিকারি জেঁক। এ যেন পাহাড় নয় — মনে হয় কোনো মৃত্যুপুরীর ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি।
প্রায় সাত ঘণ্টা হাঁটার পর পেয়ে যাই সুমিষ্ট স্বচ্ছ পানির ধারা। দুই পাহাড়ের বুক চিরে অবিরাম গড়িয়ে পড়া পানি। স্যালাইন, খেজুর আর ঠান্ডা পানি পান করে আবার হাঁটা।
পুকুরপুরার দৃশ্য
এবার দুই পাহাড়ের মাঝে সরু পথ দিয়ে যেতে হয়। কিছু দূর গেলেই দেখা যায় গাছের পাতা পাহাড়ের ভাঁজে ঝুরঝুরে পাথুরে মাটিতে পাহাড়ের সবচেয়ে ভয়ংকর টাইগার জেঁক দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বন্ধু ইফতেখার ভয়ে শিশুদের মতো কেঁদেই ফেলল।
কিছু পেতে হলে কিছু দিতে হবে — এই দুর্গম নির্জন পাহাড়ে বিনা রক্তপাতে কিছু পাওয়া যাবে কি? যতটা সম্ভব দ্রুত হাঁটছি। দেহের রক্ত চোষা শুরু হয়েছে, তা একটু-আধটু টের পাচ্ছি।
আনুমানিক প্রায় পঁচিশ ফুট ওপরে উঠার পর চোখ ছানাবড়া। দৃষ্টির সীমা যত দূর যায় — শুধু সবুজে মোড়ানো দিগন্তছাঁটা পাহাড়ের ঢেউ। পুকুরপুরা আর্মি ক্যাম্পের পাদদেশেই বিশালাকার টলটলে পানির লেক। চারপাশে পাহাড়, মাঝখানে অবিশ্বাস্য সৌন্দর্যের প্রাকৃতিক লেক। সোনার অঙ্গ বেঁধে পড়া রক্ত মুছি, মায়ের কথা মনে করি।
রাইক্ষং ঝরনার দর্শন
প্রাংজাংপুরা পেরিয়ে পুকুরপুরা সুজন মাস্টারের কটেজের দিকে এগোতে থাকি। কটেজে কাঁধের ঝোলা রেখে দেশি পেঁয়ারা চিবিয়ে নব উদ্যমে আবার হাঁটি। ঘণ্টাখানেক নিচের দিকে হাঁটার পর শুনতে পাই সেই কাঙ্ক্ষিত কলকল রিমঝিম শব্দ। পায়ের গতি আরও বেড়ে যায়।
দুই রাত স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ঘরে মুলি বাঁশের মাচায় ঘুমিয়ে, প্রায় দুই দিন বন্ধুর পথে পা দিয়ে অবশেষে পৌঁছে যাই বছরখানেক যাবৎ স্বপ্নে বোনা রুদ্ধশ্বাস সৌন্দর্যের রাইক্ষং ঝরনা।
বিশাল জলরাশি সিঁড়ির মতো ধাপে ধাপে অবিরাম গড়িয়ে পড়ছে। অন্য যেকোনো ঝরনার চেয়ে রাইক্ষংয়ের বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। পানির বহমান ধারার দ
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is প হ ড় র ব ন স?
প হ ড় র ব ন স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does প হ ড় র ব ন স matter?
প হ ড় র ব ন স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
