ফুটবল বিশ্বকাপে ওলন্দাজদের কমলা রং উত্তাল কমলা সমুদ্র হিসেবে আসে
ক ছ ল ন দ রল য – আজ থেকে প্রায় চার শ বছর আগে ওলন্দাজদের নতুন ঐতিহাসিক আবেগের সূত্র হিসেবে কমলা রং উপস্থিত হয়। সে গল্প যেহেতু প্রতিবেশী দেশের পতাকার মধ্যে কমলা রং অস্তিত্ব না থাকলেও তাদের জার্সিতে সাজানো হয়েছে এই রং, তাই এটি একটি আশ্চর্য কাহিনী। আমরা জানি যে ওলন্দাজ নেদারল্যান্ডসের মানুষ ও তাদের ভাষাকে ডাচ নামে অভিহিত করে। যাইহোক, ওদের জাতীয় পতাকার মধ্যে কমলা রং কোনো অস্তিত্ব নেই।
ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবের স্মৃতি
তবে কমলা রং ওলন্দাজদের কাছে শুধু রাজকীয় স্মৃতির কথা নয়। প্রথম যুদ্ধের পর ওদের এ রং জাতীয় বীরত্ব ও দেশপ্রেমের চিরন্তন প্রতীক হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছিল। ডাচ রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা উইলিয়াম অব অরেঞ্জ ওদের জাতীয় ঐক্যের সংকেত হিসেবে বিশেষ করে বিশ্বযুদ্ধের সময় প্রতিবাদের স্বরূপ হয়েছিলেন। এই মূল প্রতীকটি দেশটির স্বাধীনতার ইতিহাস বহন করে।
দুর্গম সময়ে ছোট কৌশলের প্রাণবান প্রতিক্রিয়া
২য় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানরা ডাচ পতাকার নিষেধাজ্ঞা জারি করে। সেই সময় ওলন্দাজ গৃহিণীদের কাছে কমলা রং স্বাধীনতার চিহ্ন হিসেবে বিশেষ মূল্যবান। তাঁরা বাড়ির উঠানে বা বারান্দায় ধোয়া কাপড়গুলি শুকাতে দেওয়ার সময় কমলা রং তৈরি করতেন। এই অভিনব পদ্ধতিতে দূর থেকে দেখলে একটি কমলা, একটি লাল, একটি সাদা ও একটি নীল রং দেখা যেত।
১৫৬৮ সালে ওলন্দাজরা স্প্যানিশ শাসন বিরোধিতা করে। যেখানে এই প্রতিরোধের সাথে সংগ্রাম শুরু হয়, সেখানে উইলিয়াম অব অরেঞ্জ বিশেষ অবদান রেখেছিলেন। দীর্ঘ ৮০ বছর বিপ্লবের পর নেদারল্যান্ডস স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
২০২৬ সালে মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে ওলন্দাজ সমর্থকেরা টেক্সাসের হিউস্টন বা কানসাস সিটিতে হাজার হাজার কমলা রং দিয়ে স্টেডিয়ামগুলো ভাসিয়ে দিয়েছেন। এটি পুরনো ইতিহাসের সঙ্গে আমেরিকার মাটির একটি সম্পর্ক ঘটিয়েছে। সতেরো শতকে ওলন্দাজরা নিউ নেদারল্যান্ড নামে একটি উপনিবেশ গড়ে তুলেছিল। পরবর্তীতে ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে নিউ আমস্টারডাম শহরটি নিউইয়র্ক সিটি হিসেবে পরিচিত হয়েছিল। কিন্তু ওদের স্মৃতি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাঁচিয়ে রেখেছিল।
সূত্র: ডাচ আমস্টারডাম, পলিটিকো
