ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে নতুন পরিস্থিতি
Banglajibon.com – য ক তর ষ ট র র – ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান সময়ে আলোচনার জন্য কোনো অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বার্তা বিনিময় চললেও কূটনীতি ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
সার্বভৌমত্ব রক্ষা এখন প্রথম অগ্রাধিকার
অস্ট্রিয়ার ওআরএফ টেলিভিশনের এক সাক্ষাৎকারে বাঘাই বলেন, এখন ইরানের প্রধান কাজ আলোচনা নয়, বরং নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। তিনি আরও জানান, আমরা যোগাযোগ বজায় রেখেছি, কিন্তু এই মুহূর্তে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জনগণকে সুরক্ষিত রাখা।
আমরা বার্তা আদান-প্রদান করছি, তবে এই মুহূর্তে আমাদের প্রধান কাজ হলো ইরানের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও জনগণকে রক্ষা করা।
বারবার কূটনীতি নষ্ট করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে বাঘাই বলেন, মার্কিন পদক্ষেপগুলো আলোচনার পরিবেশ ধ্বংস করেছে এবং তেহরানের সাথে আগের চুক্তি বা সমঝোতাগুলো লঙ্ঘন করেছে। সাম্প্রতিক মার্কিন হামলাকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ‘অবৈধ যুদ্ধের’ অংশ বলে আখ্যা দেন তিনি। তাঁর মতে, এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে ওয়াশিংটন নিজের প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা
হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে বাঘাই জানান, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান তার দায়িত্ব পালন করেছে। তবে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই পানিপথকে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করে বলেন, তাদের সামরিক পদক্ষেপ ওই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে অস্থির করে তুলেছে।
২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র বেরিয়ে যাওয়ার পর ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেনি। প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসার কারণে ইউরোপীয় দেশগুলো ‘ইরানের কাছে বড় ঋণী’ হয়ে আছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও ট্রাম্পের ঘোষণা
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা মারাত্মক রূপ নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়েছে, আর জবাবে তেহরানও বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতসহ অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সরঞ্জাম লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
গত ৮ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে করা সমঝোতা স্মারকটি ‘বাতিল’ ঘোষণা করেন এবং তেহরানের বিরুদ্ধে ওই চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা এবং এই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথে জাহাজ চলাচলের নিয়ম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরির পর এই ঘোষণা আসে। ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাধীন ও অবাধ জাহাজ চলাচলের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে তেহরান বলছে, জাহাজগুলোকে তাদের উপকূলীয় একটি নির্ধারিত চ্যানেল দিয়ে এবং ইরানের পরিচালনা করা নিয়মনীতি মেনেই যাতায়াত করতে হবে।
এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে শনিবার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানে নতুন করে হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা দৈনন্দিন হামলার অবসান ঘটল।

