Bangladesh

নেত্রকোনায় লাশ দাফন শেষে ফেরার পথে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ৪০

Foto : Michael Davis - banglajibon.com

আলমশ্রী গ্রামে দাফন শেষে সংঘর্ষে ৪০ জন আহত

Banglajibon.com – ন ত রক ন য় ল শ – নেত্রকোনার মদন উপজেলার আলমশ্রী গ্রামে রোববার সকালে একটি তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের মধ্যে এই ঝামেলায় অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে নারীরাও রয়েছেন। সংঘাতের সময় বেশ কিছু ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। ঘটনার পর মদন থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গুরুতর আহতদের অবস্থা

সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের মধ্যে এমদাদুল (৩৭), সাইফুল ইসলাম (৩০), সজীব মিঞা (২৫), প্রান্ত (৩০), আবুল কাশেম (৩৮), মুনায়েম (৩০), রামিন (১৩), সিফাত (১৫), রোশনারা আক্তার (৩৫), রাকিবা আক্তার (৪০) এবং নুরজাহান আক্তার (৮০) কে মমেক হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘাতের পটভূমি

কয়েক দিন আগে ফারুক মেম্বারের খালাতো ভাই জামাল অটোরিকশা নিয়ে আলমশ্রী বাজারের দিকে যাওয়ার সময় কামরুল ও বেবুল মেম্বারের লোকজন তাঁর গতি রোধ করে। ওই সময় ফারুক মেম্বারের মামাতো ভাই হৃদয় বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়। এরপর থেকে ফারুক মেম্বারের লোকজনের বাজারে যাতায়াত বন্ধ ছিল। স্থানীয় মাতব্বররা বিষয়টি নিষ্পত্তির চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়।

গত শুক্রবার ফারুক মেম্বারের এক ভাতিজা ঢাকায় বিদ্যুতায়িত হয়ে মারা যান। আজ সকালে গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন শেষে ফেরার পথে এই বিরোধকে কেন্দ্র করে কামরুল ও বেবুল মেম্বারের লোকজন হামলা চালালে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

দুই পক্ষের বক্তব্য

সাবেক ইউপি সদস্য বেবুল মিঞা বলেন, ‘ফারুক বর্তমান মেম্বার হওয়ার পর থেকে নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে চান। কেউ যেন ভবিষ্যতে নির্বাচনে প্রার্থী না হন, সে জন্য তিনি লোকজনকে মারধর করেন। আজ তাঁরা লাশ দাফন শেষে রাস্তায় অবস্থান করছিলেন। আমাদের পক্ষের সাত্তার হাওরে যাওয়ার সময় তাকে রাস্তায় আটকে দেওয়া হলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।’

মেম্বার ফারুক মিঞা বলেন, ‘এটি মূলত পূর্বপরিকল্পিত একটি অজুহাত। আমাদের বাড়ির সামনে ‘আশারবান’ নামে একটি হাওর রয়েছে, যেখানে প্রতিবছর কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা হয়। আমাদের মারধর করে গ্রামছাড়া করতে পারলে তারা হাওরটি দখল করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করতে পারবে—এটাই মূল উদ্দেশ্য।’

পুলিশের বিবৃতি

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দিন করিম জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আলমশ্রী গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment