ইয়েমেনে তীব্র সংঘর্ষ, এক দিনে ১৫৪০ হুতি যোদ্ধার হতাহত হওয়ার দাবি
Table of Contents
তাইজে সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ছে, এক দিনে ১ হাজার ৫৪০ হুতি যোদ্ধা হতাহত হওয়ার দাবি
Banglajibon.com – ইয় ম ন ত ব র স – ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশ আবারও বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সরকারের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে হুতি গোষ্ঠীর ১ হাজার ৫৪০ যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন। এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবে প্রদেশজুড়ে লড়াই বাড়ার প্রেক্ষাপটে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের মাত্রা স্পষ্ট হচ্ছে।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, হুতি অবস্থান, নতুন করে মোতায়েন করা শক্তিবৃদ্ধি, কমান্ড সেন্টার এবং সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে মোট ৪৭৪টি অভিযান চালানো হয়েছে। এসব অভিযানে হতাহতের বড় অংশই তাইজের বিভিন্ন যুদ্ধক্ষেত্রে ঘটেছে বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।
বহুমুখী অস্ত্র ব্যবহারের দাবি
সামরিক মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি বলেছেন, সাম্প্রতিক অভিযানে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, কামান, ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট লঞ্চার ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বোঝা যায়, সংঘর্ষ শুধু স্থলভাগের মুখোমুখি লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; দূরপাল্লার অস্ত্র ও আকাশভিত্তিক হামলাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তাইজ দীর্ঘ সময় ধরে ইয়েমেনের সংঘাতের অন্যতম সংবেদনশীল এলাকা। উচ্চভূমি ও লোহিত সাগর উপকূলের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে প্রদেশটির সড়ক, পাহাড়ি এলাকা এবং শহরে প্রবেশের পথগুলো সামরিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লড়াই এখানে প্রায়ই তীব্র আকার ধারণ করে।
গত কয়েক সপ্তাহে বানি বাকারি, মাকবানাহ ও আল-আকুরদ এলাকায় বারবার সংঘর্ষের কথা জানিয়েছে সরকারপন্থী বাহিনী। তাইজ শহরের উত্তর ও পূর্ব প্রান্তের প্রবেশপথেও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এসব পথের নিয়ন্ত্রণ শুধু সামরিক চলাচলের জন্য নয়, বেসামরিক মানুষের যাতায়াত এবং পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
আল-হুবান ক্রসিং বন্ধ
শনিবার সরকারি বাহিনী আল-হুবান ক্রসিং বন্ধ করে দেয়। এই সড়কপথটি হুতি-নিয়ন্ত্রিত আল-হুবান এলাকা এবং সরকারনিয়ন্ত্রিত তাইজ শহরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি করেছিল। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ক্রসিংটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সামরিক বাহিনী।
সরকারি পক্ষের অভিযোগ, হুতি যোদ্ধারা ওই পথ ব্যবহার করে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছেন, সড়কের আশপাশে হামলা চালিয়েছেন এবং সেখানে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়েছেন। ক্রসিংটি বন্ধ হওয়ায় দুই ভিন্ন নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার মানুষের যোগাযোগ আরও কঠিন হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২০২৪ সালে বেসামরিকদের চলাচলের সুবিধার্থে পথটি ফের চালু করা হয়েছিল। তার আগে এটি টানা নয় বছর বন্ধ ছিল। মানবিক বিবেচনায় পুনরায় খোলার পর এটি তাইজের বিভক্ত অংশগুলোর মধ্যে সীমিত যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠেছিল। নতুন করে বন্ধ হওয়া সেই যোগাযোগকে আবারও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
‘মানবিক কারণে’ ২০২৪ সালে বেসামরিক মানুষের চলাচলের জন্য আবার খুলে দেওয়ার আগে ক্রসিংটি টানা নয় বছর বন্ধ ছিল।
কৌশলগত অবস্থান ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনী বলছে, তাইজের আশপাশের কৌশলগত সড়ক এবং উঁচু ভূখণ্ডের দিকে হুতিদের অগ্রসর হওয়া ঠেকাতে তাদের অভিযান চলছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতেই হুতি লক্ষ্যবস্তুতে ৭১টি অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছিল বাহিনীটি। সর্বশেষ ব্যাপক অভিযানের দাবি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সংঘর্ষ ঠেকানোর প্রচেষ্টার পাশাপাশি অবস্থান ধরে রাখার লড়াইও জোরদার হয়েছে।
জুলাই পর্যন্ত যে আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি ছিল, তা পরে ভেঙে পড়ে। ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এই তুলনামূলক স্থিতি তৈরি হয়েছিল। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলেও বিভিন্ন এলাকায় সংঘাতের তীব্রতা আগের তুলনায় কম ছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখাচ্ছে, সেই স্বস্তির সময় আর টেকেনি।
সেপ্টেম্বরে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের অগ্রযাত্রার খবর আসে। কৌশলগত গুরুত্বের কারণে মোখা বন্দরের আশপাশে পরিস্থিতি বিশেষ নজরে আসে। পরে সরকারপন্থী বাহিনী জানায়, কয়েকটি ফ্রন্টে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ কিছু অবস্থান পুনর্দখল করেছে।
বাস্তুচ্যুতি বাড়াচ্ছে মানবিক চাপ
নতুন সংঘর্ষের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে বাধ্য হয়েছেন বহু পরিবার। সেপ্টেম্বরে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর অন্তত ১ লাখ ৯৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের শিবির ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত নির্বাহী ইউনিট জানিয়েছে।
বাস্তুচ্যুত মানুষদের আশ্রয় দেওয়া প্রদেশগুলোর মধ্যে তাইজ শীর্ষে রয়েছে। প্রদেশটির ১৫টি জেলায় ১৩ হাজার ৯২৫টি পরিবারের মোট ৯৭ হাজার ৫২৯ জন বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি ছড়িয়ে আছেন। চলমান লড়াই এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বন্ধ থাকার ফলে এই জনগোষ্ঠীর যাতায়াত, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ইয়েমেনের বর্তমান সংঘাতের শিকড় ২০১৪ সালে। সে বছর হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে এবং উত্তর ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে। পরের বছর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি জোট সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। এরপর থেকে যুদ্ধ, রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার চাপ দেশটিকে দীর্ঘ সংকটে রেখেছে।
তাইজের সাম্প্রতিক লড়াই তাই কেবল একটি প্রাদেশিক সংঘর্ষ নয়। এটি ইয়েমেনের বৃহত্তর ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথের নিয়ন্ত্রণ এবং লাখো বেসামরিক মানুষের অনিশ্চিত জীবনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ইয় ম ন ত ব র স?
ইয় ম ন ত ব র স is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ইয় ম ন ত ব র স matter?
ইয় ম ন ত ব র স matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
