হামের প্রাদুর্ভাব: টিকা দানে কম কভারেজ নিয়ন্ত্রণে আসছে না সংক্রমণ
হ ম র প র দ র – এ পর্যন্ত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে হামের কভারেজ স্থাপনের লক্ষ্য ছাড়িয়ে গেছে বলে জানা যায়। বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি অনুসারে কয়েক মাস ধরে শিশুদের প্রতিরোধ বিশেষ ক্যাম্পেইন চালানো হচ্ছে। কিন্তু এ মাস পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ও মৃত্যুর হার কমেনি। পরিস্থিতি প্রত্যাশিত ভাবে নিয়ন্ত্রণে আসছে না বলে অনেকে আশঙ্কা জানাচ্ছেন।
টিকা প্রয়োগের হার বৃদ্ধির সত্যিকার প্রভাব দেখা যাচ্ছে না
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতামত অনুযায়ী টিকা প্রয়োগের সত্যিকার প্রভাব সৃষ্টি হচ্ছে না। বিশেষ ক্যাম্পেইনে কর্মসূচি আরম্ভ হওয়ার পর থেকে হামের সংক্রমণ বেশি হতে শুরু করেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মাঠে এখনও প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল তা অতিক্রম করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
“টিকাদানের ফলে হামের সংক্রমণ আগের চেয়ে কমে আসছে। কিন্তু পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।”
টিকা প্রয়োগের আওতায় জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিশেষ ক্যাম্পেইনে শিশুদের টিকা দেওয়া হয়েছে। করোনা পরে আগে থেকে গত বছরের শুরুতে হামের সংক্রমণ শুরু হয়। মার্চ মাসে এটি সীমান্ত রোগ হিসেবে বিস্তার লাভ করে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গতকাল সকাল ৮টার পর্যন্ত আগের ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ২০ জন শিশু হামের চিকিৎসাধীন হয়েছে।
গত এপ্রিল শুরু হওয়া পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ৭৭৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ৪৫ জন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে টিকা প্রয়োগের হার শতভাগ ছাড়াও সংক্রমণ বাড়ছে বলে ধারণা। প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়নি বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা জানাচ্ছেন।
ঘাটতি দূর করতে আওতা বাড়ানো প্রয়োজন
ভেড়ার পালকে টিকাদান পদ্ধতিতে হাম বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে ওঠে। যখন নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীতে নির্দিষ্ট অনুপাতে টিকা দেওয়া যায়, তখন সে গোষ্ঠীতে আর সংক্রমণ হতে পারে না। এই প্রক্রিয়া হার্ড ইমিউনিটি নামে পরিচিত। কিন্তু টিকা কভারেজ হারে পরিস্থিতি প্রত্যাশামতো নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
“কাগজে-কলমে শতভাগ টিকাদানের লক্ষ্য পূরণ হলেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ না নেওয়ায় একটি অংশ টিকা থেকে বাদ পড়ছে।”
ময়মনসিংহ জেলায় এ পর্যন্ত টিকা প্রয়োগের হার কমেছে না। গত ৫ এপ্রিল থেকে নিবিড় নজরদারির অভাবে অনেকে টিকার আওতায় আসছেন না। রোগনিয়ন্ত্রণের জন্য ভাসমান ও পথশিশুদের প্রতি সতর্কতা দরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী গতকাল আগের ২৪ ঘন্টায় আরও ৫ শিশু মৃত্যু ঘটেছে।
