জ্যৈষ্ঠের দুপুরে হঠাৎ বৃষ্টিতে স্বস্তি, নগরীর জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি
জ য ষ ঠ র দ প – বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলগুলোতে প্রচলিত একটি লোককথার মাধ্যমে বোঝানো হয় যে রোদ আর বৃষ্টি একই সঙ্গে হলে খ্যাঁকশিয়ালের বিয়ে ঘটে। এ কথাটি জ্যৈষ্ঠের রৌদ্রোজ্জ্বল মধ্যদুপুরে সৃষ্টি হওয়া হঠাৎ মুষলধার বৃষ্টির সাথে জুড়ে পড়ে। তবে তা কেবল স্বস্তির সূত্রপাত করে না, বরং দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে।
বৃষ্টির পর দিনে আচমকা ঝুম বৃষ্টি কিছুক্ষণের মধ্যে অস্বস্তিতে পরিণত হয়। প্রায় এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর সড়কে পানি জমে যায়। কিছু স্থানে হাঁটুসমান পানি জমার ফলে চলাচল ব্যাহত হয়। বিশেষ করে নিচু এলাকাগুলো জলাবদ্ধ হয়ে পথচারী আর যানবাহনের মানুষকে বিপর্যস্ত করে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে যে লঘুচাপের বিস্তার গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। এর সাথে মৌসুমি বায়ু দেশের ওপর সক্রিয় থাকছে। ফলে বৃষ্টির প্রবণতা অনেক এলাকায় অব্যাহত থাকতে পারে।
অফিস ছুটির সময় হওয়ায় বৃষ্টির কারণে সড়কে যানবাহনের গতি কমে যায়। কয়েকটি এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। এ কারণে নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি জোরদার হওয়া প্রয়োজন।
আবহাওয়াবিদ বলছেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় এবং লঘুচাপের প্রভাবে ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
রাজধানীর অধিকাংশ এলাকায় মুষলধার বৃষ্টি হয়েছে। নগরবাসী জলাবদ্ধতার ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে রামপুরা, বনশ্রী, মালিবাগ, মগবাজার, বেইলি রোড, কাকরাইল, শান্তিনগর, মতিঝিল, পল্টন, কমলাপুর, শাহজাহানপুর, বাংলামোটর, শাহবাগ, পান্থপথ, ধানমন্ডি ও গ্রিন রোডসহ এলাকাগুলো আঁতাতে পরিণত হয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণের সাথে বজ্রপাত দেখা গেছে।
