শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের জন্য আন্দোলন: সুন্দরগঞ্জে পাঠদান বন্ধের অভিযোগ
Banglajibon.com – স ন দরগঞ জ প ঠদ ন – গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শিবরাম আলহাজ মো. হোসেন স্মৃতি স্কুল অ্যান্ড কলেজে রোববার একটি অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা একমত যে, পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত করে শিক্ষার্থীদের নিয়ে সমাবেশ, মানববন্ধন ও র্যালি আয়োজন করা হয়েছে।
এই প্রতিষ্ঠানের বরখাস্ত অধ্যক্ষ গোলাম আজম, অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরিদা পারভীন এবং প্রদর্শক আবু তাহের আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ রয়েছে। দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়রা এই কর্মসূচি পালন করেছেন। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
সরেজমিনে ঘটনার বিবরণ
সকালে যথারীতি পাঠদান কার্যক্রম চলছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ের মাঠে মঞ্চ তৈরি করে মাইকে ডাকা শুরু হলে শিক্ষকেরা কষ্টে প্রথম পিরিয়ড শেষ করেন। এরপর শুরু হয় সমাবেশ ও মানববন্ধন। বেলা দুইটা পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান চলতে থাকে, যার ফলে আর কোনো ক্লাস হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন,
বিদ্যালয়ে এসে দেখি মঞ্চ সাজানো। তারপরও আমরা প্রথম পিরিয়ড নেই। উচ্চস্বরে মাইক বাজানোর জন্য ক্লাস নিতে পারিনি।
একাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা আমজাদ হোসেন জানান,
আজ সমাবেশ ও মানববন্ধনের কারণে কোনো ক্লাস হয়নি। শুধু আজই নয়, অনেক দিন ধরেই বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। আমরা চাই বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরে আসুক এবং নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা হোক।
নিয়োগ নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী বলেন,
স্বার্থ ছাড়া কেউ কিছু করে না। বিদ্যালয়ে ছয়-সাতটি নিয়োগের বিষয় রয়েছে। মূলত সেটিকে কেন্দ্র করেই এই আন্দোলন হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি করে কোনো কর্মসূচিই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
প্রদর্শক আবু তাহের আলম বলেন,
আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি কুচক্রী মহল এ আন্দোলন করেছেন।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বক্তব্য
অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরিদা পারভীন বলেন,
২০০৩ সালে প্রভাষক (পৌরনীতি) পদে এ কলেজে যোগদান করি। পরে পদোন্নতি পেয়ে ২০২০ সালে সহকারী অধ্যাপক হই। এরপর পরিপত্র মোতাবেক ২০২৪ সালের ৩১ জানুয়ারি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পাই। সেই থেকে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এমতাবস্থায় গত ২৯ জুলাই এ প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. গওছেল আজমকে স্থানীয় কয়েকজন জোরপূর্বক আমার চেয়ারে বসিয়ে দেন। এর পর থেকে তাঁরা আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছেন। যেগুলো মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দাবিদার মো. গওছেল আজম জানান,
আমি প্রতিষ্ঠানে ছিলাম। সমাবেশ শুরু হলে লোকজন মঞ্চে ডেকে নেন আমাকে। পরে সবার বক্তব্য শেষে আমি বক্তব্য দিই।
তবে পাঠদান ফেলে শিক্ষার্থীদের জন্য আন্দোলন করাটা কতোটা যৌক্তিক—জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের মতামত
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন,
পাঠদান ফেলে শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের আন্দোলন করা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি। জানার পরে উভয় পক্ষকে ডেকেছি।
ইউএনও আরও বলেন,
জোরপূর্বক কেউ কাউকে দায়িত্ব দিতে পারেন না। আবার কেউ দায়িত্ব নিতেও পারেন না। পরিপত্র আছে, এর বাহিরে কিছু করলে সেটা বৈধতা পাবে না।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is স ন দরগঞ জ প ঠদ ন?
স ন দরগঞ জ প ঠদ ন is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does স ন দরগঞ জ প ঠদ ন matter?
স ন দরগঞ জ প ঠদ ন matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
