বিএমডিএর পরিত্যক্ত কূপে মহিষ মৃত্যুর ঘটনা
ব এমড এর পর ত যক ত – রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের শাহানাপাড়া গ্রামে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) বানানো একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে মহিষটি মৃত্যু ঘটে। ঘটনাটি শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে ঘটে। বিএমডিএর ফায়ার সার্ভিস দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারের জন্য চেষ্টা করে থাকলেও কূপের ভেতরে পড়ে থাকা মহিষটিকে বাইরে তুলতে সক্ষম হননি।
গত বছরের ডিসেম্বরে রাজশাহীর তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে বিএমডিএ পরিত্যক্ত কূপে পড়ে মৃত্যু হয়েছিল দুই বছরের শিশু সাজিদের। প্রায় ১৬ ঘণ্টার উদ্ধার অভিযান শেষে সাজিদের মৃতদেহ ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করে। এ ঘটনার পর বিভাগীয় কমিশনার এ ধরনের বোরহোলগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিছু কূপ বন্ধ হয়ে যায়। তবে শাহানাপাড়া গ্রামে এই কূপটি বন্ধ হয়নি।
মহিষের মালিক বিকাশ খা খা আছেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওঁরাও সম্প্রদায়ে। তাঁর দুটি মহিষ ছিল। দেড় লাখ টাকার ঋণ নিয়ে মহিষ কিনেছিলেন। মাসে কিস্তি হয় ১৫ হাজার টাকা। মহিষ দিয়ে তিনি হালচাষ করে সংসার চালান। ঋণ এখনো শেষ হয়নি।
এবার তাঁর দুটি মহিষের মধ্যে একটি কূপে পড়ে মারা যাওয়ায় তিনি বিষণ্ণ হয়ে পড়েছেন। কূপটি খনন করা হয় আব্দুর রহিমের জমিতে। কূপটি প্রায় ৮০ ফুট গভীর এবং ৪ ফুট ব্যাসার্ধ রয়েছে। গর্তের চারপাশে বাঁশের চাটাই দেওয়া হয়েছে মাটি ধসে না পড়ে।
আমাদের বড় সংসার। বাবা মহিষ দিয়েই হালচাষ করে সংসার চালান। এখন আমাদের সংসার কীভাবে চলবে, সেই চিন্তা করে কূল পাচ্ছি না।
গ্রামের লোকজন বলছেন, গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বরে বাশির উদ্দিন বাবু সহ কয়েকজন কূপ খননের চেষ্টা করেন। খনন করে পানির স্তর পাওয়া যায়। তখন বিএমডিএ কাগজপত্র জমা দিতে বলে। কিন্তু জমির মালিক আব্দুর রহিম কাগজপত্র নিয়ে যাননি। ফলে কূপটি স্থাপন করা হয়নি।
বাশির উদ্দিন জানান, কূপে মহিষ পড়ে মারা যাওয়ার ঘটনাটি তিনি শুনেছেন। সব উদ্যোক্তার সঙ্গে আলোচনা করে তাঁরা সমাধান খুঁজবেন।
বিকাশের মেয়ে মন্দিরা খা খা বলেন, বিকেলে মহিষ ছুটে গিয়ে কূপে পড়ে। খবর পেয়ে তিনি এবং তাঁর বাবা ঘটনাস্থলে আসেন। মহিষের দশা দেখে বাবা অচেতন হয়ে পড়েন। পরে গ্রামের লোকজন মাথায় পানি ঢালেন।
