ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেবা সংক্রান্ত অসম্ভব অবস্থা
ট ক ছ ড় মম ক ম – ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ঘুষ, দালাল চক্র এবং অন্যান্য সমস্যার কারণে চিকিৎসা প্রদান নিয়ে বিশেষ চিন্তা জন্মাচ্ছে। হাজারো রোগী এখানে প্রতিদিন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে, যারা টাকা ছাড়া কোনো সেবা পায় না। কিছু সময় টাকা দিয়েও চিকিৎসা পাওয়া যায় না। এ বিষয়ে কর্মীদের ওপর অত্যাচার সম্পাদন করা হচ্ছে।
“চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের আঙিনায় ঢুকতেই চারদিক থেকে লোকজন আমাকে ঘিরে ধরে। এখানে কে স্টাফ বা দালাল, তা বোঝার উপায় নেই। এরপর শুরু হয় হয়রানি। এত কিছুর পরও যদি একটি নাপা ট্যাবলেট পেতাম, তাহলে মনকে বোঝাতে পারতাম।”
৮ জুন সকালে জরুরি বিভাগের সামনে রোগীর স্বজনদের মারধর করেন শাহীন নামের এক ওয়ার্ডবয়। তাঁকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাময়িক বরখাস্ত করে। সম্প্রতি কর্মরত এক নারীর টাকা নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার শুরু হয়। অপারেশনের নামে অর্থ আদায়, ট্রলিবয় এবং আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বাড়ছে।
আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রোগী ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে উঠে এসেছে। দেখা গেছে, মমেকে হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে ৪ হাজার রোগী ভর্তি থাকে সিট দ্বারা। বহির্বিভাগে সেবা নেয় প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার রোগী। নিরাপত্তাহীন পরিবেশে গরু, ছাগল এবং বিড়ালের উপদ্রব দেখা যাচ্ছে।
“আনসার ও সিকিউরিটি গার্ডকে এক করে ফেলেন স্বজনেরা। আমার মনে হয় আনসার সদস্যরা সিট-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নয়। যদি এমন প্রমাণ থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ময়মনসিংহ সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। তিনি বলেন, “মানুষ যখন তার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তখন সমাজে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। আমরা দেখছি, সেবার অন্যতম কেন্দ্র অব্যবস্থাপনার কারণে সুনাম হারাচ্ছে।”
ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেন, “হাসপাতালের লোকবল রোগীদের নয়, তারা নিজেদের স্বার্থ চিন্তা করে। আমি সংসদ সদস্য হিসেবে এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে সকলকে নিয়ে কাজ শুরু করব।”
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, “হাসপাতালে কিছু সমস্যা যে নেই, তা অস্বীকার করছি না। তবে যাঁরা ভুক্তভোগী কিংবা হয়রানির শিকার হচ্ছেন, তাঁরা যদি অন্তত নির্দিষ্ট করে মৌখিকভাবেও আমাদের কাছে অভিযোগ করেন, তাহলে ব্যবস্থা নিতে সুবিধা হয়।”
