চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ধীরগতির সমস্যা: দোহাজারী অংশে ট্রেন আটকে
Banglajibon.com – চট টগ র ম কক সব জ – চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার রেললাইনে ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ার পর থেকেই যাত্রীদের অভিযোগের শেষ নেই। বারবার অতিরিক্ত টাকা বরাদ্দ হওয়ার পরেও এই রুটে ট্রেনের গতিবেগ ঠিকমতো বাড়েনি। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেনের গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার হলেও চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী অংশে তা মাত্র ১০ থেকে ৩০ কিলোমিটার। এই পার্থক্য যাত্রীদের মধ্যে বিরক্তি তৈরি করেছে।
পাহাতিলী-চট্টগ্রাম-দোহাজারী ৬২ কিলোমিটার রেললাইন সংস্কারের জন্য প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দোহাজারী-ঘুনধুম-কক্সবাজার ১০২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণের কাজ চলছে। ২০২৩ সালে উদ্বোধনের আগেই বন্যার ধসে এই রেললাইনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর কয়েক ধাপে সংস্কারে বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
বহু বছরের সংস্কারেও গতিবেগ বাড়েনি
রেলওয়ে সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল পর্যন্ত ষোলশহর-দোহাজারী ৪০ কিলোমিটার রেলপথে ট্রেনের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় কমবেশি ২০ কিলোমিটার। ১৯৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের অধীনে ষোলশহর-দোহাজারী ও ষোলশহর-নাজিরহাট সেকশন সংস্কার করা হয়েছিল। প্রকল্পের দুই-তৃতীয়াংশই ব্যয় হয়েছে ষোলশহর-দোহাজারী সেকশনে। তবে নিম্নমানের কাজের কারণে ট্রেনের গতিবেগ আশানুরূপ বাড়েনি।
এই কারণে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে রেলের ওয়ার্কিং টাইমটেবিলে (ডব্লিউটিটি) সেকশনটিতে ট্রেনের গতিবেগ নির্ধারণ করা হয় মাত্র ৩০ কিলোমিটার। পরে আবার সংস্কার করে গতিবেগ দ্বিগুণ করা হলেও এখন ট্রেন চলছে ১০ থেকে ৩০ কিলোমিটার গতিতে।
জরুরি মেরামতে ব্যয় হয়েছে কোটি কোটি টাকা
২০১৯ সালে ষোলশহর-দোহাজারী অংশ ও ষোলশহর-ফতেহাবাদ-নাজিরহাট অংশের জন্য ব্যয় হয় ১৯৭ কোটি ৪৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা। ২০২৩ সালে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল চালুর আগমুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে কালুরঘাট সেতু মেরামত বাবদ খরচ করা হয় ৬৫ কোটি টাকা। ঠিক একই সময়ে ২০২৩ সালে আবার জরুরিভাবে ২৫ কোটি টাকা রাজস্ব তহবিল থেকে দিয়ে মেরামত করা হয় চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলসড়ক।
এদিকে গত মাসে কয়েক দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ আবার পানিতে তলিয়ে যায়। এর মধ্যে আবার জরুরি ভিত্তিতে মেরামত করা হয় চট্টগ্রাম–দোহাজারী রেললাইন। রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টিতে ষোলশহর-দোহাজারী সেকশনের শমসেরপাড়া এলাকার প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন পানির নিচে চলে যায়। সাধারণ অবস্থায় রেললাইনের ওপর চার থেকে পাঁচ ইঞ্চি পানি থাকলেও ট্রেন চলাচল সম্ভব। কিন্তু সেখানে পানির উচ্চতা বেড়ে প্রায় ২৪ ইঞ্চিতে পৌঁছায়।
যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ
কক্সবাজার রুটে ট্রেন চালু হওয়ার আমরা অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কিছুদিন পর সেটা যেন আশার গুঁড়ো বালি। এই রুটে ট্রেনের টিকিট পাওয়া যায় না, ট্রেনের যাত্রীসেবার মানও খারাপ। আবার চলে ধীরগতিতে, সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার ট্রেনে নিয়মিত যাতায়াতকারী ব্যবসায়ী মো. ইসমাইল খান এই কথাগুলো বলেন।
নতুন প্রকল্প ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এবার পাহাতিলী-চট্টগ্রাম-দোহাজারী অংশ আবার সংস্কারে নেওয়া হয়েছে ১০ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকার প্রকল্প। এই প্রকল্পের পরিচালক মো. আসাদুল হক জানান, আগামী মাসেই এই প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। ২০২৮ সালের জুন মাসে এর কাজ শেষ হবে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ২০১৮ সাল পর্যন্ত ষোলশহর-দোহাজারী ৪০ কিলোমিটার রেলপথে ট্রেনের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় কমবেশি ২০ কিলোমিটার। ১৯৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের অধীনে ষোলশহর-দোহাজারী ও ষোলশহর-নাজিরহাট সেকশন সংস্কার করা হয়েছিল। প্রকল্পের দুই-তৃতীয়াংশই ব্যয় হয়েছে ষোলশহর-দোহাজারী সেকশনে। তবে নিম্নমানের কাজের কারণে ট্রেনের গতিবেগ আশানুরূপ বাড়েনি।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণের পর ঢাকা-কক্সবাজার দ্রুতগতির ট্রেনের সঙ্গে সমন্বয় করতে ২০২৩ সালের শেষার্ধে ষোলশহর-দোহাজারী রেলপথটি আবার সংস্কার করে পূর্বাঞ্চল রেলের প্রকৌশল বিভাগ। প্রায় ২৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে এই সংস্কারকাজের পর রেলপথটির অনুমোদিত গতিবেগ বাড়িয়ে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার করা হয়। দ্বিতীয় দফা সংস্কারকাজও মানসম্মত না হওয়ার শুরু থেকে সেকশনটির গতিবেগ কমিয়ে ঘণ্টায় ৪০ কিলোমিটারে নামিয়ে এনেছে রেলওয়ে, যা ঢাকা-চট্টগ্রাম ও দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেনের গতিবেগের সঙ্গে বড় ব্যবধান তৈরি করেছে।
রেলের অপারেশন-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে কক্সবাজারে ট্রেন সার্ভিস চালুর আগে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথটি দ্রুত সংস্কার করা হয়। তা ছাড়া কর্ণফুলী নদীতে নতুন সেতু নির্মাণে দেরি হওয়ার ৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কালুরঘাট সেতুটি মেরামত করা হয়।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের কক্সবাজার রুটের এক লোকোমাস্টার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘চট্টগ্রাম-ষোলশহর ও ষোলশহর-দোহাজারী রেলপথটি সংস্কার করে জিআইবিআর (গভর্নমেন্ট ইন্সপেক্টর অব রেলওয়ে)। অনুমোদন নিয়ে ৬০ কিলোমিটার গতিবেগ নির্ধারণ করা হলেও শুরু থেকে ৪০ কিলোমিটারের কম গতিতে ট্রেন চালাতে হচ্ছিল।’
ওই লোকোমাস্টার জানান, দোহাজারী থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত তিনটি জায়গায় ২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালাতে হয়। এগুলো হলো-লোহাগড়ার চুনতি (হাতি পারাপারে সংরক্ষিত জায়গা) হারবাং, চকরিয়া থেকে ডুলাহাজারা এবং ঈদগাঁও ইসলামাবাদ এলাকা।
জানতে চাইলে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের জেনারেল ম্যানে
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is চট টগ র ম কক সব জ?
চট টগ র ম কক সব জ is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does চট টগ র ম কক সব জ matter?
চট টগ র ম কক সব জ matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
