Politics

ছাত্ররাজনীতি: শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতায় সেই লেজুড়বৃত্তি

Foto : Susan Hernandez - banglajibon.com
Table of Contents
  1. ছাত্ররাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা: লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির ফিরতি আসা
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

ছাত্ররাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা: লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতির ফিরতি আসা

Banglajibon.com – ছ ত রর জন ত – ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঘোষিত নয়টি দফার মধ্যে একটি ছিল দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। কিন্তু দুই বছর পার হওয়ার পরেও ছাত্রসংগঠনগুলোর এই দাবি পূরণ হয়নি বলে তারা অভিযোগ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে চলমান অস্থিরতার মূল কারণ হিসেবে ছাত্রসংগঠনগুলো লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতিকে দায়ী করছে। এই দাবি পূরণ না হওয়ার কারণে ছাত্রসংগঠনগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদান-প্রদান করছে।

ছাত্রসংগঠনগুলোর পারস্পরিক অভিযোগ

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল দাবি করে যে, তারা ওই সময়েই লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাদের অভিযোগ, যারা লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছিলেন, তাঁরাই এখন সেই লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন। ছাত্রসংগঠনগুলো দলীয় স্বার্থ বাস্তবায়নে যতটা সক্রিয়, সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ে ততটা সোচ্চার নয় বলে তারা মনে করছেন।

বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারও একই মতামত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ক্যাম্পাসে নতুন সংঘাত ও অস্থিরতা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পর দেখা যাচ্ছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ছাড়া গণ-অভ্যুত্থানপূর্ববর্তী সময়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনই সক্রিয় রয়েছে। গণ-অভ্যুত্থানের পর আত্মপ্রকাশ করা নতুন রাজনৈতিক দলও ছাত্রসংগঠন করেছে। আবার যারা নিজেদের স্বতন্ত্র ছাত্রসংগঠন বলে দাবি করে, তাদেরও রাজনৈতিক দলের পক্ষে কাজ করতে দেখা গেছে।

অতীতের মতোই বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনগুলো সংঘর্ষে জড়িয়েছে। হঠাৎ করে অন্তত সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।

গত সোমবার রাত থেকে গতকাল বুধবার পর্যন্ত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি), রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), ঢাকা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ও নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। গতকাল বিভিন্ন জেলায়ও এ তিন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

দলীয় সম্পর্ক ও ছাত্রসংগঠন

বর্তমানে যে তিন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষ হচ্ছে, তার মধ্যে ছাত্রদল ক্ষমতাসীন দল বিএনপির ছাত্রসংগঠন। ছাত্রশিবির জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন এবং জাতীয় ছাত্রশক্তি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের গঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্রসংগঠন। এই দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন। ওই ৯ দফার সপ্তম দাবি ছিল—ঢাবি, জাবি, চবি, রাবিসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগ নামক সন্ত্রাসী সংগঠনসহ দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করে ছাত্র সংসদকে কার্যকর করতে হবে।

দাবির পূরণ ও ভবিষ্যৎ কাঠামো

প্রায় দুই বছর ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি থেকে ছাত্ররাজনীতি মুক্ত হতে পারেনি বলে মনে করেন ছাত্রনেতারাই।

লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার ওই দাবি তুলে ধরা আব্দুল কাদের এ বিষয়ে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ওই ৯ দফার সপ্তম দাবির উদ্দেশ্য শুধু লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করা ছিল না, বরং শিক্ষাঙ্গনে ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা (পলিটিক্যাল সেটেলমেন্ট) তৈরি করাই ছিল মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি।

এই দাবির সঙ্গে ওই সময়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল একমত ছিল না বলে জানিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। তিনি বলেন, ‘ছাত্রশিবির রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের গুপ্ত রাজনীতি চালিয়ে যেতে প্রতারণামূলকভাবে ছাত্ররাজনীতি বন্ধের দাবি সামনে এনেছিল। আমরা সে সময়েই এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। অথচ পরবর্তী সময়ে দেখা গেল, তারাই দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি করছে। জামায়াতের নেতাদের জন্য তাঁরা ভোট চাইতে গেছেন। দলের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকেই ৯ দফা লিখে দেওয়া হয়েছিল। সপ্তম দফায় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্ররাজনীতি বন্ধ বলতে আমরা কী বোঝাতে চেয়েছিলাম, তা বারবার স্পষ্ট করেছি।’ তিনি বলেন, ওই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ) ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন কাজ করতে পারছিল না। জোরপূর্বক ছাত্রদের আওয়ামী লীগের কর্মসূচিতে নেওয়া হতো। না গেলে নির্যাতন করা হতো। ওই প্রেক্ষাপটে দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছিল। জামায়াতের প্রার্থীদের পক্ষে ছাত্রশিবিরের নেতাদের নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, ভোট গণতান্ত্রিক অধিকার। কেউ কাউকে ভোট দিতে পারে বা কারও পক্ষে ভোট চাইতে পারে।

Frequently Asked Questions

What is ছ ত রর জন ত?

ছ ত রর জন ত is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does ছ ত রর জন ত matter?

ছ ত রর জন ত matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment