বাঁশখালীতে আতঙ্ক বাড়ছে প্রকল্পের অসম্পূর্ণতার কারণে
চট টগ র ম র ব শখ – বাঁশখালী উপকূলে প্রকল্পের কারণে নিরাপত্তার বিষয়ে স্থানীয় মানুষের আতঙ্ক ক্রমাগত বাড়ছে। এ প্রকল্পে বর্তমানে প্রায় ১২ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ স্থাপন করা হয়েছে, কিন্তু মাটির বাঁধ ভেঙে দাঁড়ানোর কারণে আতঙ্ক আরও দৃঢ় হয়ে আসছে। বন্যার সময় বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে কয়েকটি অঞ্চলে, যেমন খানখানাবাদ, প্রেমাশিয়া, ডোংরা, বাঘমারা ও ছনুয়া।
প্রকল্পের বৃদ্ধি হয়েছে ব্যয় ও দৈর্ঘ্যে
২০১৫ সালে শুরু হওয়া বাঁশখালী ও আনোয়ারার উপকূলীয় বেড়িবাঁধ প্রকল্পে প্রাথমিক ব্যয় ২৫১ কোটি ২৯ লাখ ৮৬ হাজার ছিল, যা ২৯৪ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার হয়েছে। আগে ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত সময় ২০১৮ সালের জুন ছিল, কিন্তু প্রকল্পটি ২০২২ সালে সম্পন্ন হয়।
প্রকল্পটি শেষ হলে নদী ও সাগর উপকূলের মানুষসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে উপকূলের বেড়িবাঁধ রক্ষায় প্রকল্পটি কার্যকর হবে।
এ প্রকল্পের আওতায় সিসি ব্লকের মাটির বাঁধ ভেঙে দাঁড়ানোর কারণে এলাকার উপকূলবাসীরা প্রতি বন্যার প্রতি আতঙ্ক অনুভব করছেন। খানখানাবাদের প্রেমাশিয়া ও কদমরসুলের কয়েকটি পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায় ভাঙনের ভয়াবহ চিত্র। সাগরের পানি ঢেউ তোলার কারণে সিসি ব্লকগুলো ধসে পড়ছে। বাঁধের মাটি খসে যাচ্ছে এবং জিও ব্যাগের সাহায্যে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।
বাঁধটি দুই বছরও টেকেনি। এখন বাঁধ নিয়ে নতুন আতঙ্ক তৈরি হয়েছে মানুষের মাঝে। বন্যায় সবচেয়ে ভয়ে ছিলাম বাঁধটি নিয়ে। এখন বিভিন্ন পয়েন্টে বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় উপকূলের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ভর করেছে।
বাঁশখালীতে করা প্রকল্পে প্রায় ১৫ হাজার ৯০১ হেক্টর এলাকা রক্ষা করার লক্ষ্য ছিল, কিন্তু অনেক স্থানে বেড়িবাঁধের স্থায়িত্ব বিপদের সামনে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
অক্ষত বস্তু ঝুঁকিতে আছে
প্রকল্পের কারণে উপকূলীয় এলাকায় বেড়িবাঁধের কারণে একাধিক অবকাঠামো প্রতিটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল চালার প্রায় ৫৭টি কালভার্ট, ৪৪টি সেতু, ৭ হাজার ১৬৭টি ঘরবাড়ি ও মসজিদ-মন্দির সহ আরও বেশি সংখ্যক বস্তু ঝুঁকিতে আছে। সড়ক প্রায় ৫৫৩ কিলোমিটার, দোকান ৪ হাজার ৬৬৬টি ও কৃষি জমি ৫ হাজার ৩৮০ একর লবণাক্ততা ও প্লাবনের ঝুঁকিতে।
নির্বাহী প্রকৌশলী ড. তানভীর সাই
