আগ্রাসী যমুনা তাড়া করে সাবিয়াদের
চৌহালীর আকাশে ঘন হয়ে আসে নদীর ঘটনা
আগ র স যম ন ত ড় – বিকেলে আকাশ ঘন হয়ে আসে চৌহালী উপজেলার চর সলিমাবাদে, যমুনার তীরে দাঁড়িয়ে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সামনে নদীর দিকে তাকালে সাবিয়া বেগমের চোখে শুধু ভয় ও গল্পের ছাপ পড়ে। তাঁর জীবনে শেষ আশ্রয় হয়ে গেছে যমুনা। পাঁচ মাস আগে স্বামীকে হারিয়েছিলেন তিনি। তার আগে তিন সন্তানও নদীর বিপর্যয়ে হারিয়েছিল।
যে ঘরটি ছিল একসময় নিরাপদ আশ্রয়, সেই ভিটেমাটিও কয়েক বছর আগে গিলে খেয়েছে যমুনা। এখন তিনি চর সলিমাবাদের অন্যের ভাড়া বাড়িতে বাস করেন। বছরে ৭ হাজার টাকার বিনিময়ে সেই আশ্রয়ে কোনোভাবে টিকে আছেন তিনি।
‘কী আর বলব বাবা…আমাদের গ্রাম, বাড়িঘর, জমিজমা—সব নদী গিলে খাচ্ছে। রাতে ঘুমাতে পারি না নদীভাঙনের চিন্তায়।’
তাঁর কণ্ঠে ক্ষোভ নয়, আছে এক গভীর অসহায়ত্ব। যে ঘর ছিল শেষ সম্বল, তা-ও আর নেই। সাবিয়া বেগমের প্রতিবেশী সাইফুল মোল্লা অটোরিকশা চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন। কিন্তু যমুনা তাঁর জীবনের শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিয়েছে।
বাঘুটিয়া ইউনিয়নে নদী গিলে গেছে কয়েক জায়গা
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) চৌহালীর চর সলিমাবাদ এলাকায় তাঁর বসতভিটার অর্ধেকের বেশি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। তিনি বলেন, পার্শ্ববর্তী চর সলিমাবাদ গ্রামের মোল্লা সাইফুল ইসলামের বাড়িটি চোখের পলকেই যমুনায় চলে গেছে। এ বিষয়ে কথা বলতে চৌহালীর ইউএনও মো. নুরুল আমিনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে সাড়া পাওয়া যায়নি।
‘আমি ভাঙনকবলিত এলাকায় এসেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
