Bangladesh

২ হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায়, চাকরি হারালেন ভূমি কর্মকর্তা

Foto : Mary Taylor - banglajibon.com

হিজলার ভূমি কর্মকর্তা চূড়ান্ত বরখাস্ত: দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায়র অভিযোগ প্রমাণিত

Banglajibon.com – ২ হ জ র একর খ সজম – বরিশাল বিভাগের হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনি০ন ভূমি অফিসের ইউনি০ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সামাজিক বরখাস্তের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে হিজলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সরকারি জমি অবৈধভাবে ব্যক্তিমালিকানায় দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এর আগে ২২ জুলাই বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে জারি করা এক আদেশে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদের স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৪ (৩) (ঘ) অনুযায়ী তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলার তদন্তে শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের বিরুদ্ধে আনা একাধিক অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

তদন্তে দেখা যায়, তিনি হিজলা উপজেলার বিভিন্ন মৌজার ১ নম্বর খাস খতি০ানের সরকারি জমি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অবৈধভাবে খাজনা আদায় করে হোল্ডিং খুলে দিয়ে সরকারের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা নিয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৮০ সালে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদ সৃষ্টি হওয়ার আগের পদবি ব্যবহার করে তিনি প্রায় ২৫৮ একর ২৬ শতাংশ সরকারি খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দেন। এ ছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই আরও ২২২ একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে।

অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ

এ ছাড়া রামানন্দী মৌজার একটি নামজারি মামলায় ভিন্ন তারিখ ব্যবহার এবং দ্বৈত খতি০ান সৃষ্টির অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, শঙ্কর চন্দ্র মালাকারের অনুমোদিত ১০৫টি দাখিলায় মধ্যে ৮৭ টির মাধ্যমে সরকারের প্রায় দুই হাজার একর খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় অবমুক্ত করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে তদন্তে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় মনে করেছে, এ ধরনের কর্মকর্তাকে রাজস্ব প্রশাসনে বহাল রাখা জনস্বার্থ ও সরকারি স্বার্থের পরিপন্থী। তাই তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বেহাত হওয়া সরকারি খাসজমি দ্রুত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ফিরিয়ে আনতে হিজলা উপজেলার সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্র জ্যোতি বড়াল জানান, সামাজিক বরখাস্ত ইউনি০ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা শঙ্কর চন্দ্র মালাকারকে চূড়ান্ত বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ উপজেলা ভূমি অফিসে আদেশ পৌঁছার পরে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ওই আদেশের আগেই প্রায় সব খাসজমি উদ্ধার করা হয়েছে।

এর পরেও খাসজমি ব্যক্তিমালিকানায় আছে কি না—তা তদন্তের জন্য সার্ভেয়াকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাওয়া গেলে দ্রুত উদ্ধার করা হবে।

Leave a Comment