Bangladesh

সাপের কামড় খাওয়া সেই জেলের মৃত্যু, অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন অনেকে

Foto : Jennifer Jones - banglajibon.com

সাপের কামড়ে মৃত জেলের পরিবারের পাশে সমাজ

Banglajibon.com – স প র ক মড় খ ওয় – দরিদ্র জেলে বাবলু সাপের বিষাক্ত কামড়ে প্রাণ হারিয়েছেন। গত রোববার বিকেলে নয় দিন ধরে মৃত্যুর সাথে লড়াই চালিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আজকের পত্রিকার মানবিক সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই অসহায় পরিবারের জন্য মানুষ এগিয়ে আসছেন।

চিকিৎসার অর্থের অভাবে সংগ্রাম করছিলেন স্ত্রী সুরমা বেগম। স্বামীর জীবন বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি ও মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে সহযোগিতা চেয়েছিলেন তিনি। ওই সংবাদ শেয়ার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বাবলুকে সাহায্যের অনুরোধ জানান।

মৃত্যুর পরেও মানুষের হাত বাড়ল

গত রোববার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে নিজ বাসায় বাবলুর মৃত্যু হয়। দৌলতখান উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের সপ্তম ওয়ার্ডের কেরামত আলী বাসার মৃত আহমদ আলীর ছেলে তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই ছেলেকে রেখে যান।

সংবাদ প্রকাশের পর ও অসহায় দরিদ্র জেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে অনেকেই মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাঁদের মধ্যে একজন হলেন দৌলতখান উপজেলার বাসিন্দা ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিকের সুপারভাইজার মো. মাকসুদ আলম। তিনি মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে অসহায় দরিদ্র বাবলুর পরিবারকে অর্থসাহায্য করেন। তিনি বাবলুর দুই সন্তানের পড়াশোনার খরচও চালিয়ে যাবেন বলে জানান।

এছাড়া দুবাইপ্রবাসী মো. ফরহাদও মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা করেন। যাতে প্রয়াত বাবলুর স্ত্রী-সন্তানদের খাদ্য ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সম্ভব হয়। এছাড়া আবুল কালাম আজাদ, আ. মান্নান, মো. আওলাদ হোসেনসহ অনেকেই বাবলুর পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

সহায়তার টাকা তুলে দিলেন শিক্ষকরা

আজ মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে বাবলুর বাসাতে গিয়ে তাঁর স্ত্রী সুরমা বেগমের হাতে সহায়তার টাকা তুলে দেন ছাকিনা আদর্শ একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও দৌলতখান রিপোর্টার্স ইউনিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজ হোসাইন, সুকদেব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম, মো. হেলাল উদ্দিন এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর মো. রাকিব হোসেন।

বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে পাওয়া এই টাকা আমার ধারদেনা পরিশোধসহ আমি ও আমার দুই সন্তানের জীবনে চলার পথে অনেক উপকারে আসবে।

সহায়তার অর্থ পেয়ে বাবলুর স্ত্রী সুরমা বেগম বলেন, ‘বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে পাওয়া এই টাকা আমার ধারদেনা পরিশোধসহ আমি ও আমার দুই সন্তানের জীবনে চলার পথে অনেক উপকারে আসবে।’ জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিকের সুপারভাইজার মো. মাকসুদ আলম আজ বিকেলে আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মানুষ মানুষের জন্য। আমি আজকের পত্রিকার সংবাদ প্রকাশের পর জানতে পারি, আমার এলাকার এক লোক বাবলুকে সাপে কামড়িয়েছে। অথচ চিকিৎসা হচ্ছে না, এটা তো হতে পারে না। আমার কাছে বিষয়টি খারাপ লেগেছে। পরে জানলাম, অসহায় দরিদ্র সেই বাবলু মারা গেছে। তখন চিন্তা করলাম, তার জন্য আমাদের কিছু করা দরকার। তাই আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি পরিবারটির জন্য সহযোগিতা করতে। মানবিকতার কারণে আমি বাবলুর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছি। যতটুকু সম্ভব, ভবিষ্যতেও তার পরিবারের খোঁজখবর রাখব।’ তিনি আরও বলেন, সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবানদের উচিত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছে সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ। তারা আশা প্রকাশ করে—সমাজের অন্য সামর্থ্যবান ব্যক্তিরাও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে আসবেন।

দৌলতখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল মতিন খান বলেন, ‘আমি জেনেছি, সাপের কামড়ে আহত হওয়ার পর অসহায় দরিদ্র জেলে বাবলুকে চিকিৎসার জন্য ঢাকা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে জানলাম, তিনি মারা গেছেন। আমরা বিষয়টি মানবিকভাবে দেখব। ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে কীভাবে তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া যায়, সেটা বিবেচনায় নেব।’ ইউএনও আরও বলেন, আজকের পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরে ইতিমধ্যে অনেকেই বাবলুর পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

Leave a Comment