Bangladesh

শেষ বিদায়ে সহকর্মীদের ব্যতিক্রমী শ্রদ্ধা: অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনে থমকে গেল জনপদ

শেষ বিদায়ে সহকর্মীদের ব্যতিক্রমী শ্রদ্ধা: অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনে থমকে গেল জনপদ

শ ষ ব দ য় সহকর – ফেনীর বাসিন্দারা দেখেছেন অনুভূতিপূর্ণ এক দৃশ্য। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত অ্যাম্বুলেন্স চালক নুর আলম ও তাঁর ছেলে নুর হাসনাতের শেষ বিদায়ে সহকর্মীরা ব্যতিক্রমী শ্রদ্ধা জানালেন। মরদেহ বহন করতে অংশ গ্রহণ করেছেন ২৫টি অ্যাম্বুলেন্স। সাইরেন বাজিয়ে শহরের বিভিন্ন সড়কে মানুষ থমকে দাঁড়ায়, রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে শোকে নীরব হয়ে দেখেছেন তাঁদের যাত্রা।

সহকর্মীদের প্রতিক্রিয়া

ফেনী জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক-চালক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক বলেন, “নুর আলম ছিলেন শুধু একজন চালক নয়, তিনি ছিলেন মানবিক একজন মানুষ। সব বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াতেন। সেই কারণে সহকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁর শেষযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেছেন।”

“আমরা প্রতিদিন মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য ছুটি। আজ আমাদেরই একজন সহকর্মীকে এভাবে বিদায় দিতে হবে, কখনো ভাবিনি। সাইরেন বাজানোর সময় বারবার চোখ ভিজে যাচ্ছিল।”

“নুর আলম ভাই সবার প্রিয় ছিলেন। কোনো চালক সমস্যায় পড়লে সব সময়ই এগিয়ে যেতেন। তাই আজ সবাই নিজ দায়িত্বে তাঁর শেষযাত্রায় শরিক হয়েছে।”

সন্ধ্যার দিকে বহরটি রাজাপুর গ্রামে পৌঁছালে সেখানে হৃদয়বিদারক দৃশ্য সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারি আর হাজারো মানুষের কান্নায় এলাকাটি ভারী হয়ে ওঠে। বাড়ির সামনে মানুষের ঢল নামে একনজর দেখার জন্য।

বিপর্যস্ত ঘটনা

মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ৯টার দিকে ফেনী সদর উপজেলার হাফেজিয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দ্রুতগতির একটি বাস মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে নুর আলম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তাঁর ছেলে নুর হাসনাত নিরব হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায়। তাঁর ভাগনা আফজাল মিঠু আহত হন।

পরে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি কবরে বাবা-ছেলেকে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় মানুষের ভাবনা সম্পূর্ণ পরিবর্তিত হয়ে যায়। আবদুল কাদের বলেন, “একসঙ্গে এত অ্যাম্বুলেন্স আমরা আগে কখনো দেখিনি। এ দৃশ্য দেখে পুরো গ্রামের মানুষ কান্না ধরে রাখতে পারেনি।”

“সাইরেনের শব্দ শুনে মনে হচ্ছিল পুরো এলাকাই শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে। একজন মানুষের প্রতি সহকর্মীদের এত ভালোবাসা সত্যিই বিরল।”

Leave a Comment