Bangladesh

‘মায়ের লাশ রেখে কেমনে এখানে আসি’—কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেন সুরমা

সুরমা বেগম: মায়ের দাফন শেষে চায়ের দোকানের আগুন নেবার চেষ্টা করতে পারেন নি

ম য় র ল শ র খ – বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের লেমুয়া গ্রামে বসবাস করা সুরমা বেগম (৩০) একদিকে মায়ের নিথর দেহ বাড়িতে রেখে অন্যদিকে চায়ের দোকানটি বাজারে পুড়ছিল। গতকাল সোমবার রাতে লেমুয়া বাজারে অগ্নিকাণ্ডে তাঁর দোকানটি আগুনে তলিয়ে গেলে মাকে চিরবিদায় জানানোর জন্য তিনি প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

তিনি জানান, মায়ের লাশ রেখে কেমনে এখানে আসি? কান্নাজড়িত কণ্ঠে সেই প্রশ্নটি তাঁর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাজারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন। গতকাল বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাঁর মা শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি স্বজনদের সাথে একত্রে মায়ের দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

‘মায়ের লাশ রেখে কেমনে এখানে আসি?’

গতকাল রাত ২টার দিকে অগ্নিকাণ্ডে লেমুয়া বাজারে প্রায় ৪৫টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। মুদি, মনোহরী, ফার্মেসি, পোশাক এবং জুতার দোকানসহ পরিচিত ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, এতে প্রায় ১৬ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ড ঘটার পর খবর পেয়ে পাথরঘাটা, মঠবাড়িয়া ও বামনা স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে অধিকাংশ দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বরগুনার জেলা প্রশাসক তাছলিমা আক্তার, পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা এবং পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল আজ সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, লেমুয়া বাজারে পোড়া গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের আহাজারি ছড়িয়ে আছে। কেউ ছাইয়ের স্তূপে অবশিষ্ট মালামাল খুঁজছেন, আবার কেউ সর্বস্ব হারিয়ে নির্বাক হয়ে বসে আছেন। জেলা প্রশাসক জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা সম্পন্ন হলে সরকারি আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির পক্ষ থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সাত বছর আগে সুরমার বাবা আলমগীর হাওলাদার মারা যাওয়ার পর তাঁর চায়ের দোকানটি সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস হয়ে উঠেছিল।

Leave a Comment