বিএডিসির প্রকল্প: দুই বছরে শূন্য ফসল ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক
Table of Contents
বগুড়ায় অচল পলিশেডে আটকে কৃষিজমি, দুই বছরেও ফসল ফলাতে পারেননি কৃষকেরা
Banglajibon.com – ব এড স র প রকল প – নিরাপদ সবজি, ফল ও ফুল উৎপাদনে আধুনিক সেচপ্রযুক্তি ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে বগুড়ায় স্থাপন করা পাঁচটি পলিশেড এখন কৃষকদের জন্য বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে এসব স্থাপনা কার্যকর না থাকায় সেখানে পরিকল্পিত চাষাবাদ শুরু করা যায়নি। বরং পলিশেড বসানোর কারণে প্রায় পাঁচ বিঘা জমি কৃষিকাজের বাইরে চলে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কৃষকেরা।
সরকারি প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল পানির সাশ্রয় করে সেচ দেওয়া এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নিরাপদ কৃষিপণ্য উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করা। বাস্তবে বিদ্যুৎ-সংযোগের অভাব, দুর্বল সোলার প্যানেল, অচল বা অকার্যকর যন্ত্রপাতি এবং নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্নের কারণে প্রকল্পের প্রত্যাশিত সুবিধা মিলছে না। কয়েকবার ফসল ফলানোর চেষ্টা করেও ক্ষতির মুখে পড়েছেন জমির মালিকেরা।
পাঁচ গ্রামে পরিত্যক্ত চিত্র
বগুড়া সদরের শেখেরকোলা ইউনিয়নের মহিষবাথান ও বালুপাড়া, গোকুল ইউনিয়নের গোকুল, মোকামতলা ইউনিয়নের গনেশপুর এবং দেউলী ইউনিয়নের পাকুড়তলায় পাঁচটি পলিশেড নির্মাণ করা হয়। এখন প্রতিটি জায়গায় অব্যবস্থাপনার চিহ্ন স্পষ্ট। কোথাও ভেতরে আগাছা জন্মেছে, কোথাও পলিথিন ছিঁড়ে ঝুলছে বা মাটিতে পড়ে আছে। লোহার কাঠামোর বিভিন্ন অংশে মরিচাও দেখা যাচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের জমিতে ডিপ টিউবওয়েল এবং সেচব্যবস্থা বসানো হয়েছে। কিন্তু সোলার প্যানেলচালিত পাম্প প্রয়োজনের সময়ে পানি দিতে পারে না বলে কৃষকদের দাবি। তাঁদের ভাষ্য, সকাল ১০টার আগে পাম্পে ঠিকমতো পানি ওঠে না; আবার দুপুর গড়ানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি বন্ধ হয়ে যায়। শীতের কম রোদে এই সংকট আরও প্রকট হয়। ফলে ফসলের জন্য যখন পানি দরকার, তখন নির্ভরযোগ্য সেচ পাওয়া যায় না।
আলো, বাতাস ও পানির সংকটে নষ্ট টমেটোর চারা
মহিষবাথান গ্রামের কৃষক আলফাজ উদ্দিন প্রকল্পের জন্য ২৯ শতাংশ জমি দিয়েছেন। প্রায় দুই বছর আগে তাঁর জমিতে পলিশেড ও সেচযন্ত্র স্থাপন করা হয়। তাঁর অভিযোগ, পাম্পে কিছু পানি উঠলেও তা চাষের চাহিদা মেটানোর মতো নয়। বিদ্যুৎ-সংযোগ না থাকায় পলিশেডে ফগার মেশিন ও ফ্যান চালু করা যায়নি। নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষাবাদের জন্য যেসব ব্যবস্থা থাকার কথা, সেগুলো চালু না হওয়ায় উৎপাদন সম্ভব হয়নি।
চলতি বছর আলফাজ উদ্দিন পলিশেডে তিন হাজার আগাম টমেটোর চারা লাগিয়েছিলেন। পর্যাপ্ত পানি, আলো ও বাতাসের অভাবে চারাগুলো টেকেনি। তাঁর ধারণা, প্রতিটি স্থাপনার জন্য প্রায় এক কোটি টাকা করে বাজেট থাকলেও মাঠপর্যায়ে ২০ লাখ টাকার বেশি কাজ দৃশ্যমান নয়।
“পলিশেডে বিদ্যুৎ-সংযোগ না থাকায় ফগার মেশিন ও ফ্যান চালানো যায়নি। ফলে সেখানে চাষাবাদ করা সম্ভব হয়নি।”
পলিশেডে সাধারণ খোলা মাঠের চাষের তুলনায় পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকার কথা। তবে বাতাস চলাচল, তাপমাত্রা ব্যবস্থাপনা, সেচ এবং আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র সচল না থাকলে সেই কাঠামো কেবল অব্যবহৃত স্থাপনায় পরিণত হয়। কৃষকদের অভিজ্ঞতায় বগুড়ার এসব পলিশেডে ঠিক এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে।
লাভের আশায় জমি দিয়ে ক্ষতির অভিযোগ
গনেশপুর গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ৪৪ শতাংশ জমিতেও দুই বছর আগে পলিশেড ও সেচপাম্প বসানো হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি এখনো সেখানে কোনো ফসল ফলাতে পারেননি। তিনি জানান, ওই জমিতে কলা চাষ করতে পারলে বছরে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আয় করা সম্ভব হতো। প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়ার পর থেকে জমিটি পড়ে আছে।
এক মাস আগে হেলাল উদ্দিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার টমেটোর চারা রোপণ করেছিলেন। সেগুলোও মারা গেছে। সরকারি উদ্যোগ থেকে লাভের প্রত্যাশা থাকলেও তাঁর কাছে সেটি এখন আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠেছে।
“এই জমিতে কলা চাষ করতে পারলে বছরে প্রায় আড়াই লাখ টাকা আয় করতে পারতাম। সরকারি প্রকল্পের জন্য জমি দেওয়ার পর দুই বছর ধরে জমিটা পড়ে আছে।”
“বিএডিসি আমাকে লাভের বদলে ক্ষতির মুখে ফেলেছে। এখন এমন অবস্থা সরকারি প্রকল্প বলে পলিশেড সরাতেও পারছি না, আবার ঠিকমতো ফসলও চাষ করতে পারছি না।”
কৃষকদের জন্য জমি শুধু উৎপাদনের জায়গা নয়, পরিবারের আয় ও জীবিকার প্রধান ভিত্তি। ফলে দীর্ঘ সময় জমি অচল থাকলে মৌসুমি ফসল, সম্ভাব্য আয় এবং পরবর্তী চাষের পরিকল্পনা—সবই ব্যাহত হয়। পলিশেডে বিনিয়োগ করা হলেও তা ব্যবহারযোগ্য না থাকায় জমির মালিকেরা বিকল্প চাষও নির্বিঘ্নে করতে পারছেন না বলে তাঁদের অভিযোগ।
ব্যয় ও কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন
প্রকল্পটির পেছনে সরকারের পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ ও ব্যয় হয়েছে। অথচ দুই বছরের মধ্যেই পলিশেডগুলোর পলিথিন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং লোহার অংশে মরিচা পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেচব্যবস্থা, সোলার প্যানেল, বিদ্যুৎ-সংযোগ ও অন্যান্য সরঞ্জামের মান কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, কাজ বুঝে নেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
পলিশেড নির্মাণকারী মাগুরার আদর্শ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী গোলাম রাহিদ বলেন, প্রতিটি পলিশেড নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) তাঁদের ১৫ লাখ টাকা করে দিয়েছে। তবে বিদ্যুৎ-সংযোগ, সোলার প্যানেল, ফগার মেশিন এবং অন্য আনুষঙ্গিক কাজ ভিন্ন প্রতিষ্ঠান করেছে বলে তিনি জানান।
বিএডিসির প্রকল্প তদারকির দায়িত্বে থাকা উপসহকারী প্রকৌশলী আসমাউল বিন হোসেন বলেন, তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। প্রকল্পে মোট কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট হিসাব জানাতে পারেননি।
দুই সপ্তাহের মধ্যে চালুর আশ্বাস
‘পানিসাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তি এবং পলিশেড নির্মাণের মাধ্যমে নিরাপদ সবজি, ফল ও ফুল উৎপাদন প্রকল্প’-এর প্রকল্প পরিচালক মাহবুবর রহমান জানিয়েছেন, বরাদ্দের ঘাটতির কারণে প্রকল্পে সমস্যা হয়েছিল। এখন অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পলিশেডগুলো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কৃষকদের প্রত্যাশা, শুধু চালুর ঘোষণা নয়, সেচপাম্পের কার্যকারিতা, স্থায়ী বিদ্যুৎ-সংযোগ, ফগার ও ফ্যান চালুর ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পলিথিন ও কাঠামোর মেরামত নিশ্চিত করা হোক। এসব ব্যবস্থা বাস্তবে কার্যকর হলেই পলিশেডগুলো নিরাপদ কৃষিপণ্য উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবে এবং দুই বছর ধরে আটকে থাকা জমি আবার কৃষকের কাজে ফিরবে।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is ব এড স র প রকল প?
ব এড স র প রকল প is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does ব এড স র প রকল প matter?
ব এড স র প রকল প matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
