গোলাপগঞ্জে গাড়িতে হামলার পর নাহিদ ইসলামের মন্তব্য: সরকার সংস্কার চায় না
Banglajibon.com – বর তম ন সরক র স স – বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, বর্তমান প্রশাসন সংস্কারের পক্ষে নয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তি উঠে আসা উচিত, কিন্তু বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় থাকা প্রয়োজন। এই কারণেই বারবার এমন ধরনের ঘটনা ঘটছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের হযরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন। সভার শিরোনাম ছিল ‘অগ্নিঝরা জুলাই, রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’।
হামলার বিবরণ ও অভিযোগ
বেলা আড়াইটার দিকে গোলাপগঞ্জ উপজেলা অডিটরিয়ামে এনসিপি নেতা-কর্মীরা শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একটি অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। এরপর হেতিমগঞ্জ বাজারে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য তারা রওনা দেন। ঠিক এই সময়েই সারজিস আলমের গাড়িতে হামলা হয়। সারজিস আলম এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক।
বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খালেদা জিয়ার গায়েবহরে যেভাবে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল, ঠিক সেভাবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এনসিপির ওপর হামলা করেছে।
দলের নেতাদের মতামত
দলের যুগ্ম সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন যে, আজ সারজিসের গাড়িতে ছাত্রদল হামলা করেছে এবং গাড়িগুলো ভাঙচুর করেছে। তিনি আরও জানান যে, এর আগে তার ওপরও হামলা করা হয়েছিল।
আমি আজকে থেকে আর কোনো কথা বলব না, চুপ থাকব। পুরো বাংলাদেশে দেখি ওনারা কতটুকু বাড়াতে পারে। কতটুকু যেতে পারে, আমরা সেই মাত্রাটা দেখব।
পাটওয়ারী আরও উল্লেখ করেন যে, সিলেটে পাঁচ প্লাটুন বিজিবি নামানো হয়েছে। বিজিবি নামানোর পরও হামলা কেন হলো, তা তিনি প্রশ্ন করেছেন। তিনি বলেন যে, ছাত্র শক্তির কুড়িগ্রামের আহ্বায়কের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সে রক্তাক্ত।
সারজিস আলমের বক্তব্য
গোলাপগঞ্জ থেকে সিলেট সার্কিট হাউসে এসে সারজিস আলম সাংবাদিকদের বলেন যে, তারেক রহমান ওপরে ওপরে ঢং ধরে অভিনয় করছেন, কিন্তু ভিতরে ভিতরে ছাত্রদলকে সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করছেন।
একটা কী মারছে, হইট মারছে অথবা রড দিয়ে মেরে এইটা ভাঙছে। ভাঙার পরে এখানে তো পুরো গাড়ি এখন ওপেন। দ্বিতীয় আরেকটা ইট যদি মারত, এখানে আমরা ছয়জন ছিলাম। সংসদ সদস্য ছিল, আমি নিজেও ছিলাম। ছয়জনের যে কাউকে যদি আরেকটা ইট এসে লাগত লোকটা তো সঙ্গে সঙ্গে স্পট ডেড হইত।
সারজিস আলম পুলিশের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেন। তিনি বলেন যে, পুলিশ দাঁড়িয়ে নাটক দেখছে। সামনে দুই-একটি গাড়ি থাকে, পিছনে এক-দুইটি গাড়ি থাকে। আবার পঞ্চাশ জন পুলিশ দাঁড়িয়ে থাকে, সবাই নাটক দেখে।
এই যে এরা ইট ছুড়ছে, এরা যে রড দিয়ে হামলা করতেছে, চাপাতি দিয়ে হামলা করতেছে, একজনকে তো বাধা দিতে হবে! কোনো বাধা দেওয়ার কোনো নাম নাই।
পুলিশের বিবৃতি
গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সবেদ আলী হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন যে, তারা প্রোগ্রাম শেষ করে আসছিলেন। এই সময়ে সারজিস আলমের গাড়িতে পিছন থেকে ঢিল মারা হয়। এতে গাড়ির পেছনের গ্লাস ভেঙে যায়। হতাহতের কোনো খবর নেই।

