কাফরুল হত্যাকাণ্ডে যুবদল নেতার বিরুদ্ধে বিএনপি নেতার তীব্র অভিযোগ
Banglajibon.com – ক ফর ল ইউস ফ হত য – রাজধানীর কাফরুল এলাকায় ইউসুফ আলীকে গুলি করে হত্যা করার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে এখন চলছে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবদল নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কাফরুল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওওয়ান জনি।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল অভিযোগ
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ক্র্যাবের মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাব্বির দেওওয়ান জনি এই অভিযোগগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, সম্প্রতি কাফরুলে সশস্ত্র হামলায় যুবদল কর্মী ইউসুফ আলী নিহত হন। ওই হামলায় একজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী এবং একজন পথচারীও গুলিবিদ্ধ হন।
গত মঙ্গলবার কাফরুল থানা যুবদলের আহ্বায়ক হাফিজুল ইসলাম বাবু ক্র্যাবে সংবাদ সম্মেলন করে কয়েকটি ছবি দেখিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য প্রচার করেছেন।
ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের অংশ নেওয়া একাধিক শুটার ও তাদের সহযোগীদের গ্রেপ্তার করে। পরে গোয়েন্দা পুলিশ বা ডিবি এক সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে হাফিজুর রহমান হাফিজের নাম প্রকাশ করে।
ছবি প্রদর্শন নিয়ে বিতর্ক
ছবি প্রদর্শনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জনি বলেন, রাজনীতি করার কারণে সমাজের বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে আমাদের মেলামেশা করতে হয়। হত্যাকাণ্ডের আগে হাফিজুর রহমান হাফিজ অপরাধী ছিলেন—এমন কোনো তথ্য আমার জানা ছিল না। আবার বাবু যেসব ছবি দেখিয়েছেন, তাঁরও হাফিজুর রহমান হাফিজের সঙ্গে একাধিক ছবি রয়েছে। কারও সঙ্গে ছবি থাকলেই তাঁকে অপরাধের সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত করা কখনোই যুক্তিযুক্ত নয়।
থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাব্বির দেওওয়ান জনির অভিযোগ, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে মূল অপরাধীদের আড়াল করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
অপরাধের সঙ্গে যে-ই জড়িত থাকুক, এমনকি তদন্তে আমার সম্পৃক্ততাও পাওয়া গেলে আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। তবে অহেতুক মিথ্যাচারের কারণে আমি এবং আমার পরিবার অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি।
বাবুর বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ
এক প্রশ্নের জবাবে জনি বলেন, হাফিজুল ইসলাম বাবু কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেভাবে আমার নাম জড়িয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছেন, তাতে আমার মনে হচ্ছে, তিনি নিজেই এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারেন। নিজের ওপর হামলার অজুহাত তৈরি করে সহানুভূতি পাওয়ার জন্য তিনি ভাড়াটে কিলার ব্যবহার করে থাকতে পারেন।
অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান হাফিজকে গ্রেপ্তার করা হলে এ বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে। বাবুর বিরুদ্ধে দলীয় নেতা-কর্মীকে হত্যার একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেন এ নেতা।
বাবুর প্রতিক্রিয়া
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজুল ইসলাম বাবু বলেন, কে মিথ্যাচার করছেন, সেটি তদন্তেই বেরিয়ে আসবে। রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু প্রতিহিংসা কখনোই কাম্য নয়। নিজের বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, একটি মামলায় আমি খালাস পেয়েছি। অন্য মামলায় নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়ে যাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন—কাফরুল থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম নবী রতন, সদস্য আমিরুল ইসলাম বাবু, ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি এস এম আনসার আলী ও হাবিব দেওওয়ান এবং মহিলা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মমতাজ বেগম ও অ্যাডভোকেট আছিয়া বেগম।

