Bangladesh

বগুড়ার সারিয়াকান্দি: যমুনায় বিলীন শতবর্ষী স্কুল, টিনের ছাউনিতে পাঠদান

বগুড়ার সারিয়াকান্দি: যমুনায় বিলীন শতবর্ষী স্কুল, টিনের ছাউনিতে পাঠদান

বিলীন স্কুলের প্রাথমিক অবস্থা

বগ ড় র স র য় ক – বগ ড় র স র য় ক – গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে দশটার সময় যমুনা নদীর বন্যা প্রতিরোধ করার জন্য বাঁধের উপর টিনের ছাউনি দেওয়া একটি খোলা ঘরে বাংলা ক্লাস চলছিল। এখানে দরজা বা জানালা নেই। শিক্ষকদের বসার আলাদা কক্ষ ও অফিস বা শৌচাগার নেই। বাতাস জোরে বইলে টিনের ছাউনি কেঁপে ওঠে। বৃষ্টি নামলে পাঠদান থামে, বই-খাতা ভিজে যায়। এই স্থানটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম বিশ শতাব্দীতে এবং যমুনা নদীর বিপর্যয়ের সামনে বাঁধের উপর স্থাপিত হওয়ায় এখন এটি মাত্র টিনের ছাউনি ও ধূসর ছাদের পরিবেশে অবস্থিত। শিক্ষার্থীদের পরিবার স্থানান্তরিত করার পরিণতি হিসাবে এখন স্কুলে মাত্র ৭৩ জন ছাত্র পড়াশোনা করে। নদীভাঙনের কারণে চকরতিনাথ, করমজাপাড়া, ধনেরপাড়া, কর্নিবাড়ি এবং শিমুলবাড়িসহ আরও অনেক গ্রাম শিক্ষার মান কমে গেছে। আলমগীর কবির বলেন, “বিলীন স্কুলটি যে সময়ে মানুষের সাথে ছিল, আজ তার ছাত্রদের সংখ্যা কমেছে কিন্তু তারা সংস্কৃতি ও শিক্ষার জন্য সর্বাপেক্ষা বিপন্ন হয়েছে।”

স্থায়ী স্থানান্তর এবং পরিবারগুলোর প্রতিক্রিয়া

১০ বছর আগে স্কুলটি প্রায় পাঁচ শত শিক্ষার্থী ছিল। সুজাতপুর চরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে ছোট ছোট শিশু কয়েক কিলোমিটার হেঁটে নদীর ঘাটে আসে। খেয়ানৌকায় যমুনা পার হয়ে আবার হেঁটে পৌঁছায় বিদ্যালয়ে। বর্ষায় নদী উত্তাল থাকলে সেই যাত্রা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক দিন আবহাওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে পৌঁছানোই সম্ভব হয় না। তারপরও লেখাপড়া ছাড়তে রাজি নয় শিশুদের বলে আলমগীর কবির। এই সংকটের মধ্যে ছাত্রদের পরিবারগুলো একের পর এক অন্যত্র সরে যাওয়ায় স্কুলের গুরুত্ব প্রায় হারিয়ে গেছে। বগ ড় র স র য় ক্ষেত্রে প্রতিদিন বৃষ্টি কিংবা নদীর উত্তাল অবস্থা ছাত্রদের পড়াশোনার পথে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। যে মানুষ এখন স্থায়ী করে তাঁদের ছেলেমেয়েরা টিনের ছাউনিতে আপন আপন করে পাঠদান করছে। যে সময় বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, এখন তার ছাত্রদের সংখ্যা কমেছে কিন্তু শিক্ষার প্রতি আগ্রহ কমে না।

বগ ড় র স র য় ক্ষেত্রে নদীভাঙনের পরিণতি প্রায় একশত বছর ধরে চলছে। চকরতিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ছয়বার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। তার জন্য শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমেছে এবং স্কুলটি আরও জনপ্রিয় হয়েছে কিন্তু স্থায়িত্ব হারিয়েছে। কিছু শিক্ষার্থী বিলীন স্কুলে এখনও আছে যারা স্থানান্তর করতে চায�

Leave a Comment