Bangladesh

প্রবাস থেকে কৃষিতে, আমবাগানেই সফলতার গল্প এয়াকুব দৌলতের

Foto : Betty Thomas - banglajibon.com

প্রবাস থেকে কৃষিতে, আমবাগানেই সফলতার গল্প এয়াকুব দৌলতের

Banglajibon.com – প রব স থ ক ক ষ – ফটিকছড়ি উপজেলার দাঁতমারা ইউনিয়নে মোহাম্মদপুর ফকিরটিলা এলাকায় প্রায় পাঁচ একর জমিতে বিভিন্ন জাতের আম চাষ করছেন মোহাম্মদ এয়াকুব দৌলত। এখন তার বাগানে এক হাজারের বেশি আমগাছ রয়েছে যে কারণে তিনি অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা অর্জন করেছেন এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ে পরিচিত হয়েছেন।

জীবনের দুর্দশা থেকে সাহসে পথ খুঁজে পান

দেশে ফিরে কৃষি কর্মকর্তারা দেখতে পান যে এয়াকুব দৌলত প্রবাসে অবস্থান করছেন দীর্ঘদিন। সংসারের আর্থিক সংকট কাটাতে তিনি বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সেগুলো থেকে আশা অনুযায়ী সফলতা পাননি। দেশে ফিরে তিনি এক আত্মীয়ের মাধ্যমে আম্রপালি আম চাষ নিয়ে পরিচিত হন। পরিত্যক্ত টিলার পরিসরে প্রথম চাষ শুরু করেন সেই জাতের আম।

“শুরুতে অনেকেই আমাকে পাগল বলেছিল। টিলা জমিতে বিদেশি জাতের আম হবে না বলেও নানা কথা শুনতে হয়েছে। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। প্রথম বছরের সফলতাই আমাকে আরও বড় পরিসরে কাজ করার সাহস জুগিয়েছে।”

বর্তমানে তার বাগানে স্থানীয় মহিলা ও পুরুষ নিয়মিত কাজ করছেন অন্তত ১০ জন। কৃষি সম্প্রসারণের সঙ্গে সাথে তার আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হয়েছে।

তবে তিনি আবার জানান যে কৃষি বিস্তারে এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আবহাওয়ার অস্থিতিশীলতা, মুকুলে পোকামাকড় ও ছত্রাকের আক্রমণের কারণে এ বছর ফলন কিছুটা কম হয়েছে। কিন্তু সহজ শর্তে কৃষিঋণ ও কারিগরি সহায়তা পেলে আরও বড় পরিসরে বাগান বিস্তার সম্ভব বলে তিনি আশা করছেন।

পরিবারে সামাজিক গৌরব জন্মানো হয়েছে

এয়াকুব দৌলতের বাবা আবুল কাসেম জানান যে শুরুর দিকে পরিবারের অনেকেই তার উদ্যোগ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছিলেন। কিন্তু তার সফলতা দেখে সবাই আনন্দিত। বাগানটি আমাদের পরিবারের গর্ব হয়ে উঠেছে বলে তিনি জানান।

ফটিকছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সালেক বলেন, “আম্রপালি একটি জনপ্রিয়, মিষ্টি ও আঁশবিহীন জাতের আম। এয়াকুব দৌলতের সফলতা অন্য কৃষকদেরও উদ্বোধন করছে। কৃষি বিভাগ সবসময় চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।”

বর্তমানে বাগানের আম আকারভেদে প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে তিনি প্রায় ২০ টন আম বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন। সব ধরনের ব্যয় বাদ দিয়ে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আপেক্ষা করছেন তিনি।

Leave a Comment