Bangladesh

নারী শিল্পীর আত্মহত্যা, মরদেহ দাফনে বাধা

নারী শিল্পীর আত্মহত্যা, মরদেহ দাফনে বাধা

ন র শ ল প র আত – চুয়াডাঙ্গার দৌলতদিয়াড়ের বাড়িতে সুবর্ণা আক্তারের মৃতদেহ আনা হয় দুপুরে, কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারা দাফনকাজে বাধা দেয়। পরে প্রশাসনের সহযোগে কবরস্থান কমিটির অনুমতি পেয়ে তাঁর মৃতদেহ শহরতলির দৌলতদিয়াড়ে দাফন করা হয়। তার জন্য কবরস্থানের ন্যূনতম সদস্য ফি (৭ হাজার টাকা) দেওয়া হয়।

গতকাল বুধবার রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাড়িতে সুবর্ণা আক্তার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তিনি স্বামীর সঙ্গে বসবাস করতেন। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁকে দুপুরে চুয়াডাঙ্গার শহরতলির বাড়িতে নেওয়া হয়।

আসাদুজ্জামান নামের একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘মেয়েটির চরিত্র ভালো না। আমাদের কবরস্থানে দাফন দিতে আপত্তি জানিয়েছে এলাকার লোকজন। তার বাবা কিংবা স্বামীর বাড়িতে দাফন করুক।’

মিনারুল ইসলাম বলেন, ‘এটি আমাদের এলাকাবাসীর কবরস্থান। সে আমাদের কবরস্থানের সদস্য না। পূর্বে সদস্য হওয়ার জন্য বললেও তারা অগ্রাহ্য করেছিল।’

সুমন হোসেন বলেন, ‘আগে আমাদের পরিবারের আরেক সদস্য মৃত্যু হয়, তখন দাফনে বাধা দেওয়া হয়নি। কিন্তু সুবর্ণার মৃতদেহ দাফনে বাধা দেয়া হয়। পরে কবরস্থানের ন্যূনতম সদস্য ফি দিয়ে আমরা দাফন করেছি।’

দৌলতদিয়াড় দক্ষিণপাড়ার জান্নাতুল বাকী কবরস্থান কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম জানান, ‘এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা না করিনি। লোকজন নানা রকম মন্তব্য করেছে এবং তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। কবরস্থানের সদস্য না হলে দাফনের নিয়ম নেই। আমি নিজেই কবর খুঁড়েছি এবং এখানেই দাফন হয়েছে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, এলাকাবাসীর সামান্য ক্ষোভ ছিল, তবে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়াড়ের স্থানীয় ওহিদ মোল্লার মেয়ে সুবর্ণা আক্তার (৩৫) চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের কুলচারা ক্যানালপাড়ার কাউসারের ছেলে তুহিনের সঙ্গে বিয়ে হয়। সংসারে পরপর দুই মেয়ে ও এক ছেলে জন্ম নেয়। ছয় বছর আগে স্বামী-সন্তান রেখে ঝিনাইদহের শৈলকুপার পাভেলকে বিয়ে করেন সুবর্ণা। তাঁর পরিবারের দাবি, স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

Leave a Comment