চাকরি দেওয়ার কথা বলে লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
চ কর দ ওয় র কথ বল – ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে রুমা বেগম নামের এক মহিলার বিপক্ষে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে সর্বোচ্চ ২৫ জন জনবল নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে টাঙ্গাইলের মেসার্স এইচ আর কে নিয়োগ কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পায়। সরকারি নথি অনুযায়ী, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে সরবরাহ করা হয় জনবল।
“আমি কোনো অর্থ লেনদেনে জড়িত নই। মানবিক কারণে রুমা বেগমকে সহায়তা করতাম। চাকরির বিষয়টি সিরাজুল ভাইকে জানিয়েছিলাম মাত্র,” বলেন এক্স-রে বিভাগের টেকনোলজিস্ট দিলীপ কুমার।
অভিযোগ অনুযায়ী, রুমা বেগম দীর্ঘদিন হাসপাতালে আয়ার কাজ করার পর নতুন নিয়োগের খবর পেয়ে দিলীপ কুমারের সহযোগিতা চান। প্রথমে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হলেও পরে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়। দুটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গত জুন মাসে ঝালকাঠির মোরশেদ মেডিকেল সেন্টারে তিনি এই টাকা সিরাজুল ইসলামের হাতে তুলে দেন। টাকা লেনদেনের প্রমাণ ওই প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া যাবে বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর একটি ভিডিও বক্তব্যও আজকের পত্রিকার হাতে রয়েছে। তবে ১ জুলাই নিয়োগপ্রাপ্ত ২৫ জনের তালিকায় তাঁর নাম ছিল না। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সিরাজুল ইসলাম অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তাঁর মতে, চাকরি দেওয়ার নামে কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
বিষয়টি অনুসন্ধানে জানা গেছে
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সিরাজুল ইসলাম মোরশেদ মেডিকেল সেন্টারে খণ্ডকালীন জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করছেন। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর।
ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাসুম ইফতেখার বলেন, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগ সম্পূর্ণ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে হয়। হাসপাতালের কোনো ব্যক্তি অনিয়মে জড়িত থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সচেতন নাগরিক কমিটির মতাদর্শ
সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ঝালকাঠির সভাপতি সত্যবান সেনগুপ্ত বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণ মিললে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
