চাঁপাইনবাবগঞ্জ: পদ্মার পাঁচ পয়েন্টে মাটি লুট
চ প ইনব বগঞ জ – চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মা নদীর পাঁচটি পয়েন্টে বেশ প্রভাবশালী চক্র মাটি লুট করছেন। ট্রাক্টর থেকে আলাদাভাবে চাঁদা তোলা হয় প্রশাসন ও পুলিশের ম্যানেজ করার জন্য। নদীতীরবর্তী কয়েক কিলোমিটার এলাকা ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে প্রতিটি অবৈধ মাটি কাটার কারণে। এ কারণে রাস্তাঘাট ধুলার রাজ্যে পরিণত হওয়ায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।
বাখের আলী-আলীমনগর এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৫, ৬, ৭ ও ৮ নম্বর স্পারে মাটি ভর্তি ট্রাক্টরগুলো পদ্মার গতিপথ পরিবর্তন করতে দেওয়া বাঁধ দিয়ে উঠছে। বাঁধের দুপাশে জনবসতি রয়েছে। কিছুক্ষণ পরপর সেই বাঁধ দিয়ে মাটি নিতে ট্রাক্টর পদ্মায় নামছে, মাটি নিয়ে আবার উঠছে। তাই বাঁধে প্রচণ্ড ধুলা জমা হয়েছে। ট্রাক্টর যাওয়া-আসার সময় আশপাশের বাড়িঘর ধুলায় ঢেকে যাচ্ছে। মানুষের বসবাস কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে এ কারণে।
আলীমনগর এলাকা থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হয় সোজা রাস্তা নেমে পদ্মার নিচে। বাখের আলী এলাকায় নদীর পাড়ে বালু স্তূপ করে রাখা আছে। প্রতিদিন প্রায় দেড় হাজার গাড়ি পাঁচটি পয়েন্ট থেকে মাটি কাটা হয়। মাটিখেকো চক্র গাড়িপ্রতি ৪০০ টাকা দামে মাটি নেওয়ার জন্য ট্রাক্টর যাওয়া-আসার সময় আরও ১ হাজার টাকা প্রতিটি ট্রাক্টর থেকে চাঁদা তোলে। এ কারণে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ টাকা পকেটে ঢোকাচ্ছে চক্রটি।
অভিযোগ ও প্রতিকারের অভিযান
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইকরামুল হক নাহিদ বলেন, ‘আমরা মাটিখেকো চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। গত এক মাসে পাঁচ-সাত দিন অভিযান পরিচালনা করেছি। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে অভিযান চালানো হয়েছে। নিয়মিত মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ তিনি প্রশাসনের নামে টাকা তোলার বিষয়ে বলেন, ‘আমরা জানি না। কেউ কোনো অনৈতিক প্রস্তাবও আসেনি। তাই আমরা অভিযান করতাম না।’
‘এটা এসি ল্যান্ডের বিষয়। তারপরেও আমরা অভিযান করি। বেশ কিছু ট্রাক্টর জব্দ করেছি। আসামি ধরেছি এবং মামলাও দিয়েছি।’ – জেলার পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস
স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে মাটিখেকো চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। তারা সবাই দলীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি। সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান মতিউর রহমান পাঁচটি পয়েন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে আছেন আজিজুল ইসলাম। তাঁদের হয়ে টাকা আদায় করে থাকেন মুশফুল আলী, সাদরুল ইসলাম, আসাদুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর আলম, আকবর আলী ও মো. জিয়া। পাঁচ পয়েন্টে আরও কিছু লোকজন রেখে সবকিছু দেখাশোনা করে থাকেন। দিন শেষে টাকার হিসাব বুঝে নেন মতিউর �
