Bangladesh

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত: রোমাঞ্চকর সেবায় নেই নিরাপত্তা ও নজরদারি

Foto : Michael Williams - banglajibon.com
Table of Contents
  1. কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে রোমাঞ্চকর বিনোদন, কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
  2. Related Reading
  3. Frequently Asked Questions

কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকতে রোমাঞ্চকর বিনোদন, কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

Banglajibon.com – কক সব জ র সম দ রস – সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণকারী দর্শনার্থীদের জন্য কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং, ওয়াটার বাইক, টাওয়ার টিউব এবং বিচ বাইক এখন সাধারণ বিনোদনের অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এই আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতার পেছনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, তদারকি এবং অনুমোদনের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের জন্ম দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি মারাত্মক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির পর এই ইস্যুগুলো আবারও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। প্রশ্ন উঠছে, পর্যটকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষগুলো কতটা কার্যকরভাবে কাজ করছে।

প্যারাসেইলিংয়ে মৃত্যু ও অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান

গত শনিবার কক্সবাজার শহরের কাছাকাছি মেরিনড্রাইভ সংলগ্ন দরিয়ানগরে প্যারাসেইলিংয়ের সময় প্রায় তিনশো ফুট উচ্চতা থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে অক্ষর সৌভিক রাউ (৩১) নামের এক তরুণের মৃত্যু ঘটে। ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস নামের এই প্রতিষ্ঠানেই ঘটনাটি সংঘটিত হয়। প্রায় এক দশক ধরে এখানে প্যারাসেইলিংয়ের সময় বেশ কয়েকজন পর্যটক আহত হলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

মৃত্যুর পর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মান্নান জানান, সৈকতে প্যারাসেইলিং পরিচালনার জন্য অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানটিকে জেলা প্রশাসন থেকে কোনো ধরনের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অথচ শহরের বাহারছড়া বাসিন্দা মোহাম্মদ ফরিদ সৈকতের বালিয়ালয় দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে প্যারাসেইলিং প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০২০ সালে জেলা প্রশাসন দরিয়ানগর সৈকতে সাগরলতা পুনরুদ্ধারে একটি প্রকল্প নিয়েছিল। ওই প্রকল্পের জায়গা দখল করেই ফরিদ প্যারাসেইলিংয়ের মালপত্র ও কর্মী থাকার জন্য তিন-চারটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন।

এর পাশে প্রেসিডেন্ট বিচ ও প্যাচারদ্বীপ সৈকতে আরও চারটি প্যারাসেইলিং প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গত রোববার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সমুদ্রসৈকতে অনুমোদনহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেইলিং বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়, সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে অস্থায়ীভাবে অনুমোদিত প্যারাসেইলিং ২০২৪ সালের ৩০ জুন শেষ হয়েছে। এরপর আর কোনো প্রতিষ্ঠানকে প্যারাসেইলিং অনুমোদন দেওয়া হয়নি। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও বিশ্বমানের পর্যটনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্যারাসেইলিং বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ওয়াটার বাইক ও টাওয়ার টিউবে দুর্ঘটনা

অপর দিকে শহরের লাবণী থেকে কলাতলীর তিন কিলোমিটার সৈকতে ওয়াটার বাইক, বিচ বাইক ও টাওয়ার টিউবে চড়ে সমুদ্র দর্শন করেন প্রতিদিন হাজারো পর্যটক। ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর ওয়াটার বাইক থেকে ছিটকে পড়ে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। হরহামেশা ওয়াটার বাইক ও টাওয়ার টিউবে চড়ার সময় ছিটকে পড়ে আহত হন পর্যটক। অনেক পর্যটক সৈকতে গোসলের সময় ওয়াটার বাইকের ধাক্কায় আহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। এসব সৈকতে জেলা প্রশাসনের ৪৫টি ওয়াটার বাইকের অনুমোদন রয়েছে।

ওয়াটার বাইকের অধিকাংশ চালক দক্ষ বলে দাবি করেছেন সৈকতের ওয়াটার বাইক মালিক সমিতির সহসভাপতি মোহাম্মদ সোহেল। তিনি বলেন, ‘আমরা পর্যটকদের নিয়মকানুন সম্পর্কে অবগত করি। তবে কেউ কেউ তা মানতে চান না। ফলে মাঝেমধ্যে বেশি ওজনের কেউ বাইকে চড়লে দুর্ঘটনা ঘটে।’

নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা

সৈকতে অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন পরিচালনার সঙ্গে একাধিক সরকারি সংস্থার সম্পৃক্ততা রয়েছে। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটনসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সমুদ্র নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে অনুমোদন ও তদারকির বিষয় রয়েছে। পর্যটকদের সঙ্গে আলাপে জানা গেছে, তাঁদের অনেকে জানতেই পারেন না কোন প্রতিষ্ঠান বৈধ অনুমোদনপ্রাপ্ত। কারা নিয়মিত নিরাপত্তা পরীক্ষা করে এবং দুর্ঘটনা ঘটলে ক্ষতিপূরণ বা দাবদ্ধতার কাঠামো কী।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সভাপতি করিম উল্লাহ কলিম বলেন, ‘কক্সবাজারে পর্যটকদের জন্য সমুদ্র দেখা ছাড়া তেমন কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই। ফলে অ্যাডভেঞ্চারভিত্তিক পর্যটন ক্রমাগত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে আন্তর্জাতিক মান বিবেচনা করে সৈকতে অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের প্রসার দরকার।’

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে সৈকতে প্যারাসেইলিংয়ের অনুমোদন নেওয়া হয়নি। গোসলে নেমে কোনো পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দা ডুবে গেলে কিংবা নিখোঁজ হলে উদ্ধার তৎপরতা চালানোর জন্য চট্টগ্রাম থেকে ডুবুরি আনতে হয়।’

আন্তর্জাতিক মান ও স্থানীয় বাস্তবতা

প্যারাসেইলিংয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে মানসম্মত হারনেস, লাইফ জ্যাকেট, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টো-বোট, নির্ধারিত ওজনসীমা, বাতাসের গতিবেগ পরিমাপ এবং প্রশিক্ষিত অপারেটর। এ ছাড়া প্যারাসেইলিংয়ের দড়ি, ক্যারাবিনার, হারনেস, প্যারাস্যুট, উইঞ্চ এবং টো-বোট নির্দিষ্ট সময় পরপর পরীক্ষা ও প্রতিস্থাপন করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু কক্সবাজারে ব্যবহৃত সরঞ্জাম কত দিন পরপর পরীক্ষা করা হয়, কে পরীক্ষা করে এবং তার কোনো নথি পাওয়া যায়নি।

পর্যটকের অভিযোগ, মাত্র কয়েক মিনিটের মৌখিক নির্দেশনা দিয়েই উড়তে পাঠানো হয়। নিরাপত্তা সরঞ্জামের মান বা মেয়াদ সম্পর্কে কোনো তথ্য জানানো হয় না। ওয়াটার বাইকেও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই পর্যটকদের চালানো হয়। একই এলাকায় একাধিক জলযান দ্রুত চলার অনেক সময় সংঘর্ষের ঝুঁকিও থাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ১২০ কিলোমিটার সৈকতে অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন ও গোসলে নেমে বিপদে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে সরকারি কোনো ব্যবস্থা নেই। কেবল শহরের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী সৈকতে সি সেফ নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ১২ বছর ধরে লাইফ গার্ড সেবা দিয়ে আসছে।

Frequently Asked Questions

What is কক সব জ র সম দ রস?

কক সব জ র সম দ রস is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.

Why does কক সব জ র সম দ রস matter?

কক সব জ র সম দ রস matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.

Leave a Comment