নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও মাতৃসদনে নতুন করে শুরু হয়েছে অনিশ্চয়তা
Banglajibon.com – জনস ব স থ য স ব – রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ৬৭টিসহ সারাদেশের ২১২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও মাতৃসদন এখন এক ধরনের অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর থেকেই এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অনেক কেন্দ্রে সেবা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাজে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ ও কর্মীদের বেতন বকেয়া
গত সপ্তাহে রাজধানীর কয়েকটি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও মাতৃসদন পরিদর্শন করলে দেখা যায়, রোগীদের ভিড় আগের মতোই রয়েছে। তবে অনেক সেবাগ্রহীতা অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন। মোহাম্মদপুরের বাঁশবড়ি নগর মাতৃসদনে চিকিৎসা নিতে আসা রাণীরবাজার এলাকার এক প্রসূতি আসমানী বেগম (ছদ্মনাম) জানান, আগে যে খরচে চিকিৎসা পাওয়া যেত, এখন তার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। দরিদ্র রোগীদের জন্য এটা খুব কষ্টকর। পাশাপাশি আগের মতো সহজে সেবাও পাওয়া যাচ্ছে না।
মিরপুর মাজার রোডের নগর মাতৃসদনে আসা এক প্রসূতির স্বামী রফিকুল ইসলাম (ছদ্মনাম) বলেন, কম খরচের আশায় এখানে এসেছিলেন। কিন্তু ওষুধের বেশির ভাগই বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে, ফলে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
এদিকে অনেক কেন্দ্রের কর্মীদের বেতন দুই থেকে তিন মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। মোহাম্মদপুরের বাঁশবড়ি নগর মাতৃসদন পরিচালনা করে বেসরকারি সংস্থা নারী মৈত্রী। সংস্থাটির কর্মকর্তা আসাদুল ইসলাম মামুন বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সিটি করপোরেশন থেকে অর্থ না পাওয়ায় তিন মাস ধরে বেতন বকেয়া রয়েছে। তবে এতে চিকিৎসাসেবার প্রভাব পড়েনি।
দায়িত্ব হস্তান্তর ও অর্থনৈতিক জটিলতা
দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন (এলজিআরডি) ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকার নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও মাতৃসদনের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কাজ চালিয়ে আসছিল। তবে চলতি অর্থবছর থেকে সরকার এসব কেন্দ্রের দায়িত্ব স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে। ২২ এপ্রিল এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ও জেলার সিভিল সার্জনদের কাছে পাঠানো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়, নগরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশন ও ২১টি পৌরসভায় ৪৫টি নগর মাতৃসদন এবং ১৬৭টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্র রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ১৫টি অংশীদার এনজিওর মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৭২ জন কর্মী কাজ করছেন। প্রায় পৌনে ২ কোটি মানুষ (জনসংখ্যার কমবেশি ১০ শতাংশের মতো) এসব কেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন।
নগর স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিচালনা ব্যয়ের ৫০ শতাংশ এসেছে সেবাগ্রহীতাদের ফি থেকে। ২৫ শতাংশ দেওয়ার কথা সিটি করপোরেশনের এবং বাকি ২৫ শতাংশ স্থানীয় সরকার বিভাগের। কিন্তু দুই উৎস থেকেই অর্থ ছাড় বিলম্ব হওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।
জুনের মধ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর স্থাপনা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে জনবল ও সেবা পরিচালনা নিয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। বকেয়া অর্থ পরিশোধের বিষয়েও আমরা কাজ করছি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়স চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন।
আমাদের অংশের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের অংশের ২৫ শতাংশ অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া চলছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান বলেন।
পরিচালনা ব্যবস্থায় নতুন চ্যালেঞ্জ
এদিকে কেন্দ্রগুলোর স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অধীনে পরিচালনা নিয়ে এখনো কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। মিরপুর মাজার রোডের নগর মাতৃসদন ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিচালনাকারী বেসরকারি সংস্থা ঢাকা আহছানিয়া মিশনের নগর স্বাস্থ্য প্রকল্পের ব্যবস্থাপক ডা. নাঈলা পারভীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মৌখিক আশ্বাস পেয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো লিখিত নির্দেশনা পাইনি।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছ থেকে তারা ১৯২টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের স্থাপনা বুঝে নিলেও এর মধ্যে দুটি তথ্যের পুনরাবৃত্তি (ডুপ্লিকেশন) রয়েছে। ফলে কার্যত ১৯০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতায় এসেছে। বেতন-ভাতা, পরিচালনা ব্যয়, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ অন্যান্য খরচ নির্বাহের জন্য প্রাথমিকভাবে তিন মাসের অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
আপাতত তিন মাসের পরিচালনা ব্যয়ের জন্য অর্থ বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কেন্দ্রগুলো চালু করা গেলে নগরবাসী প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পাবে।
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী আজকের পত্রিকাকে বলেন।
Related Reading
Frequently Asked Questions
What is জনস ব স থ য স ব?
জনস ব স থ য স ব is the main topic of this guide. The article explains the context, practical details, and next steps readers should understand.
Why does জনস ব স থ য স ব matter?
জনস ব স থ য স ব matters because readers are looking for a useful answer, not just a short summary. Good content should match search intent and help them decide what to do next.
