Bangladesh

অনুমোদনহীন ভবনে হাসপাতাল নেই পরিবেশ ছাড়পত্রও

Foto : Michael Williams - banglajibon.com

অনুমোদনহীন ভবনে হাসপাতাল নেই পরিবেশ ছাড়পত্রও

Banglajibon.com – অন ম দনহ ন ভবন হ সপ – চট্টগ্রামের মেহেদীবাগ এলাকায় একটি দশতলা আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে এরিস্টো কেয়ার নামক হাসপাতাল চালু করার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সিডিএর কোনো অনুমোদন ছাড়াই এই হাসপাতালটি শুরু হওয়ার পথে রয়েছে। নির্মাণকালে নকশা লঙ্ঘন, পরিবেশগত ছাড়পত্রের অভাব এবং কাঠামোগত ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও কাজ থামেনি। সিডিএ একাধিকবার নোটিশ দিয়েছে এবং মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করেছে।

এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তদারকি কাজ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সিডিএর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলালেত হোসেন সরেজমিনে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন। তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আগামী সোমবার সকল কাগজপত্রসহ কার্যালয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছেন।

কাঠামোগত সমস্যা ও নকশা লঙ্ঘন

সরেজমিনে তদারকি থেকে জানা যায়, হাসপাতালের নিচে পর্যাপ্ত পার্কিং সুবিধা নেই। ভবন নির্মাণের সময় শুধুমাত্র একটি লিফটের অনুমোদন পাওয়া গেলেও বর্তমানে তিনটি লিফট স্থাপন করা হয়েছে। নকশা অনুযায়ী ২০টি পিলার নির্মাণের কথা থাকলেও মাত্র ১৭টি পিলার তৈরি করা হয়েছে। এই অসংগতিগুলো ভবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

এ ধরনের নির্মাণত্রুটি রেখেই হাসপাতাল চালু করার তোড়জোড় চলছে। সিডিএর অথরাইজড অফিসার-২ প্রকৌশলী তানজিব হোসেন বিষয়টি নিয়ে বলেন:

এই ভবনে হাসপাতাল করার অনুমোদন দেয়নি সিডিএ। আমরা মোবাইল কোর্টও পরিচালনা করেছি। কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছি কয়েকবার নোটিশ দেওয়ার মাধ্যমে। হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর স্থাপনা নির্মাণে যাচাই-বাছাই ও অনুমোদনের ক্ষেত্রে সিডিএর চেয়ারম্যান মহোদয় জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন।

সময়রেখা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

সিডিএর তথ্য অনুযায়ী, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনটির নির্মাণ অনুমোদন পাওয়া যায় ২০২২ সালের ২১ আগস্ট। জমির মালিক মঞ্জুরুল ইসলাম গং-এর সঙ্গে ২০২৩ সালের ৫ অক্টোবর ডা. তৌফিক হোসেন ও ডা. ফজল করিম বাবুল হাসপাতাল করার চুক্তি করেন।

২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট ভবনের মালিককে শোকজ করা হলেও তারা তা উপেক্ষা করেন। এরপর গত বছরের ২৮ জানুয়ারি আবারও শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়। মেহেদিবাগের ওই সড়কটি অত্যন্ত ব্যস্ত। শোকজ নোটিশে সিডিএর অনুমোদন ছাড়া কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিক চালু না করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

এরিস্টো কেয়ার হাসপাতালের উদ্যোক্তা ডা. শরীফ মো. তৌফিক হোসেন ভারতে মা-এর চিকিৎসা নিতে ব্যস্ত থাকায় মন্তব্য এড়িয়ে যান। ভবনের মালিক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, তিনি এসব বিষয় জানেন না এবং ভবনটি ভাড়া দিয়ে হাসপাতাল করার জন্য ব্যবস্থা করেছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান নিশ্চিত করে বলেন, এরিস্টো কেয়ার হাসপাতালের কোনো পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি জানান, ভবনটি তারা পরিদর্শন করেছে এবং হাসপাতাল ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রতিবেদন ঢাকায় পাঠিয়েছেন। ভবন নির্মাণসংক্রান্ত অনুমোদন সিডিএর দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

Leave a Comment