বোরো চাষীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে অতিবৃষ্টির কারণে
অত ব ষ ট ত ব র – কুড়িগ্রামে টানা বৃষ্টি কারণে বোরো চাষীদের ক্ষতি আকার নেয়েছে। জমিতে জল জমে পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেইসাথে কেটে আনা ধান ও খড় শুকানোর সুযোগ না পেয়ে পচন ধরছে। ফলে ধান চাষের লাভ দূরে সরে গেছে এবং উৎপাদন খরচ কভার করতে পারবেন কিনা সেই প্রশ্নে কৃষকরা আটকে আছেন।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে রৌমারী উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের চতলাকান্দা এলাকায় দেখা গেছে বোরো জমিতে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি জমে রয়েছে। পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে ধান কাটছিলেন কৃষক ফুলমিয়া (৫৭) ও তাঁর ছেলে শাহিন (১৮)।
ফুলমিয়া বলেন, ‘দিনরাত বৃষ্টি হচ্ছে। ধান কাটার পর শুকাতে পারছি না। এমন অবস্থা হয়েছে যে কী করব বুঝতে পারছি না।’
সেই গ্রামের কিষানি ইয়াতুন্নেছা আরও বলেন, পানিতে থাকা ধান কাটার শ্রমিক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি মজুরি দিলেও শ্রমিক কম আসছে বৃষ্টির কারণে ধান ও খড় শুকানোর সুযোগ হচ্ছে না। তাই ধান পচে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
রৌমারী ছাড়াও জেলার বিভিন্ন জায়গায় একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কৃষি বিভাগ জানায়, জলাবদ্ধ বোরো জমিতে ধান দ্রুত কেটে মাড়াই করে ছাউনিযুক্ত স্থানে রাখতে হবে। বাতাসে কিছুটা শুকিয়ে গেলে পরে রোদে শুকানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে খড় সংরক্ষণে কোনো কার্যকর বিকল্প উপায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগের তথ্য অনুযায়ী গত ১৩ মে জেলায় ১৯০ মিলিমিটার এবং ১৮ মে ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা এই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ হিসেবে রয়েছে। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ‘এবার বোরো চাষীদের ক্ষতি বিস্তার লাভ করেছে অতিবৃষ্টির কারণে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করে কৃষকরা এগিয়ে যেতে হবে।’
আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, ‘যারা এখনো ধান কাটেনি, তাঁদের দ্রুত কেটে নিতে হবে। দীর্ঘ সময় জলে থাকলে ধান নষ্ট হয়ে যেতে পারে।’
