Analysis

কাস্পিয়ানেও কি ছড়াবে ইরান যুদ্ধ

Foto : Michael Williams - banglajibon.com

কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনের হামলা: ইরান যুদ্ধের নতুন ময়দান?

Banglajibon.com – ক স প য় ন ও ক – ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা বাব-আল মান্দেব প্রণালি অবরোধের ঘোষণা দিলে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে চলমান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হতে পারে এমন আশঙ্কার তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। এতে প্রশ্ন উঠেছে, এবার কী ইরান যুদ্ধ লোহিত সাগরের গণ্ডি ছাপিয়ে কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত পৌঁছে যাবে? ইরান জানিয়েছে, গত শনিবার জাহাজে হামলায় তাদের একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।

ইউক্রেনের হামলার বিস্তারিত বিবরণ

এই ঘটনার পর তেহরান ইউক্রেনের কূটনীতিকদের তলব করে এবং কিয়েভের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক’ কাজের অভিযোগ আনে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, দূরপাল্লার হামলায় ইরানের সামরিক পণ্যবাহী জাহাজ এবং একটি রুশ যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানের সামরিক অভিযানে সহায়তা করছে রাশিয়া।

জুলাইয়ের শুরু থেকে আমরা উপসাগরীয় রাষ্ট্র ও সেখানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনার ওপর রাশিয়ার সক্রিয় স্যাটেলাইট নজরদারি লক্ষ্য করেছি। এসব ছবি পরে ইরানের কাছে যায়।

জেলেনস্কি জানান, রুশ স্যাটেলাইট চিত্র ও পরবর্তী ইরানি হামলার মধ্যে ‘স্পষ্ট সম্পর্ক’ দেখা গেছে। এই ছবিগুলো হামলার আগে প্রস্তুতির জন্য এবং পরে ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য ব্যবহার করা হয়। ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ শুরু করলে ২০২২ সাল থেকে তেহরান-কিয়েভ সম্পর্কে ফাটল দেখা দেয়। কিয়েভের দাবি, মস্কো তখন থেকে ইরানি-নকশার এই ড্রোন নিজেদের মতো করে বদলে ইউক্রেনের শহরগুলোতে হাজার হাজার হামলা চালিয়েছে।

ইরানের সামুদ্রিক করিডোর ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ

এসব ঘটনা যখন ঘটছে তখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হামলা বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, ইরানের জন্য অন্যতম নিরাপদ সামুদ্রিক পথ হিসেবে পরিচিত কাস্পিয়ান সাগরও কি এখন সংঘাতের নতুন ময়দান হয়ে উঠবে? পরিস্থিতি অনেকটা স্পর্শকাতর। কারণ ইরান ইতিমধ্যে তার দক্ষিণ উপকূল নিয়ে চাপের মুখে আছে—যেখানে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির চারপাশে নৌ-অবরোধ বজায় রেখেছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে।

কাস্পিয়ান সাগর দিয়ে বাণিজ্যে কোনো হুমকি এলে ইরানের অবশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডোরগুলোও চাপে পড়বে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে সতর্ক করে বলেছে, তেহরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করবে। ইউক্রেনের হামলা জাতিসংঘের আইনের লঙ্ঘন। এতে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাসের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করেন।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, কাস্পিয়ান সাগরে ইউক্রেনের এই হামলা তেহরানের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করে তাদের কিছু ছাড় দিতে বাধ্য করার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক রেসুল সেরদার আতাস বলেন, ইরান ইতিমধ্যে দক্ষিণ উপকূলীয় প্রদেশগুলোতে, হরমুজ প্রণালিতে, ওমান সাগরে, এমনকি ভারত মহাসাগরেও সংঘাতের মুখোমুখি হচ্ছে, যেগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এখন কাস্পিয়ান সাগরও যদি ইরানের জন্য বাণিজ্যিক দিক থেকে অনিরাপদ হয়ে ওঠে সেটা হবে উদ্বেগের।

Leave a Comment