বান্দরবানের প্রাথমিক বিদ্যালয়: ১৭৪ স্কুলে ভারপ্রাপ্তের ভার
ব ন দরব ন র প র – বান্দরবান জেলার সাতটি উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গভীর সংকটে পতিত হয়েছে। জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ৪৩৫টি মধ্যে ১৭৪টি স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। এ অবস্থায় শিক্ষা কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে যা শিক্ষার্থীদের শেখার প্রক্রিয়ার উপর প্রভাব ফেলছে।
বিদ্যালয়গুলোতে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের প্রশাসনিক কাজের চাপ বেড়েছে। সাধারণত তারা পাঠদান এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব নিয়ে পরিচালনা করে। ফলে শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের পড়ানো কঠিন হয়ে আসছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত শিক্ষকদের ক্লাসে শিক্ষার পাশাপাশি অফিস পরিচালনা, হিসাব রক্ষণ এবং নানা প্রশাসনিক ফাইলে স্বাক্ষর করতে হয়। এ কারণে পড়ানোর সুযোগ সীমিত হয়ে আসছে।
শিক্ষার ক্ষতি হচ্ছে একাধিক শ্রেণির মিশ্রণে
সংকটের কারণে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে পড়ানো হচ্ছে। এতে শিশুদের শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। নাইক্ষ্যংছড়ি মিরঝিড়ি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আপেল বড়ুয়া বলেন, ‘আমাদের ক্লাসে ৫২ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। সহকারী শিক্ষক সহ আমরা ৩ জন কর্মরত আছি। প্রধান শিক্ষক না থাকায় পাঠদানে সময় কমে যাচ্ছে। অফিসিয়াল কাজও ঠিকভাবে সম্পন্ন করা যায় না।’
বান্দরবানের ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পরিণয় চাকমা বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলছে। মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষক নিয়োগ ও বদলি বন্ধ রয়েছে। এ কারণে প্রাথমিক শিক্ষায় প্রভাব পড়ছে।’
২ হাজার ৫৪টি সহকারী শিক্ষক পদের মধ্যে ৫৩টি পদ শূন্য রয়েছে। তিন প্রধান শিক্ষকের হাইকোর্টে মামলা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যের আপত্তি কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে উপজেলার দুর্গম এলাকায় কাজ করা শিক্ষকদের ব্যাপক চাপ বোধ করতে হচ্ছে।
